লেখক :- শিহাব 

শোন ভাগিনা আমার গ্রামের যেখানেই ঘুরাঘুরি করিস কোন সমস্যা নাই। কিন্তু ঐ যে নদীর পারে বড়ই গাছটা আছে সেই বড়ই গাছের কাছে কখনও জাবিনা। ঐ বড়ই গাছে পরী থাকে। পরীটা গ্রামের মানুষদের ভয় দেখায় অনেকের বড় ক্ষতি ও করছে। মামার কথায় আমি অবাক হয়ে বললাম সত্যি নাকি মামা। বড়ই গাছটাতে পরী থাকে। তুমিকি কখনও দেখছো পরীটাকে।  


-না ভাগিনা আমিতো দেখিনি, তবে গ্রামের অনেকেই দেখছে, আমার বাবা মানে তোর নানা ও দেখছে পরীটাকে। একটা অবাক করা বিষয় দেখ, বড়ই গাছটাকে কত বড়ই ধরছে পেকে নিছে ও পড়ে আছে অনেক, কিন্তু কেউ ঐ বড়ই খেতে বা কুড়াতে আসেনি। তুই ভাগিনা শহরে পড়াশোনা করছিলি তোর হয়তো এসবে বিশ্বাস না ও থাকতে পারে। মামা হিসেবে আমার সর্তক করার ছিলো আমি করে দিলাম। এদিকে কিন্তু আসবিনা কেমন। এখন চল বাড়িতে গিয়ে পুকুরে মাছ ধরবো চল।  

কথাটা বলে মামা আমাকে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলেন। এদিকে তখন আমি পিছন ফিরে বড়ই গাছটাকে আরেকবার দেখে নিলাম। বড়ই গাছের দিকে তাকিয়ে চলে গেলাম নানা বাড়িতে। সেখানে গিয়ে কথামতো মামা সহ পুকুরে মাছ ধরলাম। মাছ ধরা শেষে গোসল করে ঘরে আসলাম আমি। ঘরে এসে শুয়ে মুসকি মুসকি হাসছি আর মনে মনে বলছি, মামা তো জানেনা, আমার জ্বীন পরীদের নিয়ে কতটা আগ্রহ, আমি জ্বীন পরীদের নিয়ে ভিডিও বানিয়ে আমার ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করবো। মামার কথা যদি সত্যি হয় তো আমার ক্যামেরায় ধরা পড়বে বড়ই গাছের পরী।  

কথাটা বলে ব্যাগ থেকে ক্যামেরার ব্যাটারি বের করে চার্জে লাগিয়ে দিলাম। ব্যাটারি চার্জে লাগানোর পর শুতে গেলে নানি এসে ডাক দিয়ে বললেন।  

-নিশাদ তোর মামা খেতে ডাকছে আয় খেতে আয়।  

নানির কথায় উঠে মামার ঘরে গেলাম। সেখানে গিয়ে খাবার খেয়ে আবারো ঘরে আসলাম ঘরে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলাম কারণ রাতে যে বড়ই গাছের পরীকে দেখতে যেতে হবে। আমি ঘুমানোর পর সন্ধার আগে উঠে আশপাশে একটু ঘুরাঘুরি করতে রাত নেমে আসলো। রাত হলে রাতের খাবার খাওয়ার সময় নানি বললো। নিশাদ তুই কি একা ঘুমাতে পারবি, একা ঘুমাতে না পারলে তোর মামার সাথে ঘুমা। নানির কথায় আমি একটু চুপ থেকে বললাম না নানি আমি একা ঘুমাতে পারবো। আমার আবার অন্য কারো সাথে ঘুমাতে গেলে ঘুম আসেনা। অবশ্য মামার সাথে ঘুমাতে পারলে ভালো হতো মামার সাথে গল্প করতে পারতাম কিন্তু কি করার একা ছাড়া যে ঘুমাতে পারিনা। আমার এরকম কথায় মামা বললেন আচ্ছা তুই একাই ঘুমাবি সমস্যা নেই।  

মামার কথায় আমি আর কি না বলে খাবার খেয়ে ঘরে গেলাম। ঘরে যাবার পর অপেক্ষা করতে লাগলাম রাত কিছুটা গভীর হওয়ার জন্য। এই ভেবে ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে কথা বলে সময় পার করছিলাম। ওঁদের সাথে কথা বলতে বলতে রাত কিছুটা গভীর হলো। তখন আমি আমার ব্যাগের মধ্যে ক্যামেরাটা নিয়ে আসতে করে উঠে দরজা খুলে চলে গেলাম বাহিরে। বাহিরে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম ঐ বড়ই গাছের দিকে। আকাশে চাঁদের ঝলমলে আলোতে হাঁটতে ভয় লাগছিলো। জ্বীন ভূতের ভয় না মানুষ দেখে ফেলার ভয়। হাঁটছি আর ভাবছি কেউ দেখে যেনো না ফেলে। এসব ভাবতে ভাবতে এক সময় পৌঁছে গেলাম বড়ই গাছের, ওখানে গিয়ে বড়ই গাছ থেকে একটু দূরে একটা গাছের গোড়ায় বসে পড়লাম।  

দিনের বেলা মামার সাথে এখানে আসছিলাম তখন জায়গাটা সাভাবিক লাগলেও এখন ভয়ংকর লাগছে, পাশে থাকা নদীর ঠান্ডা বাতাসে শরীলের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমি ঐ গাছের গোড়ায় বসে ক্যামেরা অন করে বড় গাছের দিকে তাকিয়ে আছি কখন পরী আসে। কিন্তু অনেক সময় পার হয়ে গেলেও পরীকে দেখতে পারিনা। আমি পরীকে না দেখায় এক সময় ভাবলাম চলে যাবো কিনা। ঠিক সেই সময় বড়ই গাছের নিচে কিছু একটার আওয়াজ পাই, বড়ই গাছের নিচে আওয়াজ পেতে আমি ওদিকে তাকাই কিন্তু ওখানে কাউকে দেখতে পারিনা।  

আমি নিচের দিকে কাউকে না দেখে আবারো উপরের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠি, উপরে তাকিয়ে দেখি বড়ই গাছের একটা ডালে বসে আছে একজন মহিলা অবয়ব, ওনার মুখ আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না কারণ ওনি উল্টো দিকে নদীর দিকে মুখ করে বসে ছিলো। ওনার সাদা সাদা বিশাল বড় লম্বা চুল। চুলগুলো গাছ থেকে লম্বা হয়ে নিচে নেমে গেছে। এরকম দৃশ্য দেখে মনের অজান্তে ভয় চলে আসলো আমার মাঝে। আমি ভয়ে ভয়ে আমার ক্যামেরা অন করে ভিডিও করতে লাগলাম। আমি ভিডিও করছি ওদিকে পরীটা গাছের ডালে বসে আছে।  

এমন হঠাৎ আমার পিছনে কিছু একটার আওয়াজ পেয়ে পিছনে ঘুরেই চমকে উঠে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেলাম ওদিকে তখন পিছনে থাকা শেয়ালের বাচ্চাটা ভয়ে পিছিয়ে গেলো। আমার পিছনে শেয়ালের বাচ্চা ছিলো একটা। আমি শেয়ালের বাচ্চাটাকে দেখে শব্দ না করে হাত ইশারা করে ভয় দেখাতে গেলে শেয়ালের বাচ্চাটা ভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন। ওদিকে তখন আবারো বড়ই গাছের দিকে তাকালে দেখলাম এবার পরীটা গাছের ডালে নেই। পরীটা নিচে নেমে হেঁটে হেঁটে নদীর দিকে যাচ্ছে।  

এমন সময় আমিও ক্যামেরা অন করে সামনের দিকে এগোতো লাগলাম। আমি সাবধানে লুকিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি ওদিকে পরী হাঁটতে নদীর একদম কাছে চলে গেলেন। পরীটা পানির কাছাকাছি গিয়ে এক লাফে পানিতে লাফ দিলেন। পরী পানিতে নামার পর মাঝ নদীতে গিয়ে ভেসে রইলেন। এদিকে আমি বেশ খুশি হয়ে ভিডিও করছি। বেশ কিছুক্ষন ভিডিও করার পর হঠাৎ মাঝ নদীতে পানি ঘুরপাক খেতে লাগলেন। পানি ঘুরপাক খেতে খেতে সেখান হঠাৎ করে মিলিয়ে গেলেন পরীটা।  

পরী পানিতে মিলিয়ে যাবার পর আমি সেখানে আর দেরি করলাম না। আমি সেখানে দেরি না করে চলে আসলাম মামা বাড়িতে। সাবধানে বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে বিছানায় বসলাম। বিছানায় বসে লম্বা নিশ্বাস ফেলে বললাম অবশেষে মামার কথায় সত্যি হলো। আমি পরীকে দেখতে পারবো ভাবতে পারিনি। আমি পরীকে দেখে ভিডিও করতে পারছি এটা ভেবে অনেক আনন্দ হচ্ছিলো। এই ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করলে অনেক ভিউ হবে।  

এই ভেবে ভিডিও করা কেমন হইছে এটা ভেবে ক্যামেরা চেক করে অবাক হয়ে গেলাম। আরে এটা কিভাবে সম্ভব, আমার ক্যামেরায় পরী ধরা পড়েনি যে। আশপাশের দৃশ্য বড়ইগাছ সবি ঠিক আছে কিন্তু পরীকে দেখতে পাচ্ছিনা কেনো। সব ভিডিও হলেও পরীর ভিডিও হয়নি। এটা কেমনে সম্ভব, আমি তখন পরীকে ভিডিও করার সময় ক্যামেরায় দেখছিলাম কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছিনা কেনো। পরীর ভিডিও করতে না পেরে মন খারাপ করে সেই রাতের মতো শুয়ে পড়লাম।  

পরীর ভিডিও করতে না পেরে মন খারাপ করে সেই রাতের মতো শুয়ে পড়লাম। পরেরদিন সকালে উঠে ব্রাশ করতে করতে বাহিরে গিয়ে বসে ভাবতে লাগলাম আচ্ছা গতকাল রাতে এরকমটা কেনো হলো। আগে ভূতের মুভিতে দেখতাম ক্যামেরায় ধরা পড়ে, এদিকে দেখি আমার বেলা উল্টো হলো। এসব ভাবছি আর ওখানে বসে ব্রাশ করছি। এমন সময় বাড়ি থেকে ডাক দিয়ে মামা বললেন, নিশাদ আয় হাত-মুখ ধুয়ে নে নাস্তা করবো। মামার কথায় উঠে হাতমুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নিলাম। খাবার শেষে ঘরে যাওয়ায় মামা বললেন, নিশাদ আমি কাজে বাহিরে যাচ্ছি ফিরতে বিকেল হবে। তুই কোথাও বেড়াতে গেলে তারা তাঁরি বাড়িতে আসিস। মামার কথায় আমি মাথা নাড়িয়ে বললাম ঠিক আছে মামা। তখন মামা চলে গেলেন। এদিকে আমি আরো কিছুক্ষন শুয়ে থেকে বাহিরে হাঁটতে বের হলাম। বাহিরে হাঁটার সময় হঠাৎ ঐ বড়ইগাছের পরীর কথা মনে হলো। পরীর কথা মনে হতে আমি সেখান থেকে চলে গেলাম বড়ই গাছটার কাছে। 

রাতে এখানে পরীকে দেখেছিলাম মনেই হয়না। দিনের বেলা গাছটা ও জায়গাটা সাভাবিক লাগছে। আমি গাছটার চারিদিকে ঘুরলাম। ঘুরে ক্যামেরা অন করে বড়ই গাছটার একটা ভিডিও করলাম। বড়ই গাছের ভিডিও করে আশপাশের আরো কিছু সুন্দর জায়গার ভিডিও শেষে মনে মনে ভাবলাম কাল তো পরীর ভিডিও করতে পারিনি আজ পারবো। আমি আজকেও আসবো এইখানে। মনে মনে এসব চিন্তা করে গ্রামের কিছু জায়গা ঘুরে চলে গেলাম মামা বাড়িতে। ততক্ষণে দুপুর হয়ে গেছে। দুপুর হওয়ায় আমি গোসল করে খেয়ে ঘরে এসে শুয়ে রইলাম, এমন সময় আমার বন্ধু ফোন করে বললেন। -নিশাদ কোথায় তুই, তোর বাবার কাছে শুনলমা তোর নানা বাড়িতে গেছিস, কবে আসবি ওখান থেকে। বন্ধুর কথার জবাবে ওকে জানিয়ে দিলাম দুদিন পর। আমার কথায় ও আরো কিছুক্ষন কথা বলে ফোনটা রেখে দিলেন। এদিকে তখন আমি বাকি দিনটুকু ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলাম। দিন পেড়িয়ে রাত হলো। রাত হলে গতরাতের মতো সবাই ঘুমিয়ে গেলে আমি আস্তে করে ঘর থেকে বেড়িয়ে হাঁটতে লাগলাম ঐ বড়ই গাছের দিকে। গতকাল রাতে পরীকে ভিডিও করেও দেখতে পারিনি, এই বিষয়টা কেন ঘটলো এটাই বুঝতে পারছিলাম না। গতকাল রাতের কথা ভাবতে ভাবতে এক সময় চলে আসলাম বড়ই গাছের পাশে।

 সেখানে এসে একটা বড় গাছের আড়ালে বসে রইলাম। আমি সেখানে বসে বড়ই গাছের দিকে তাকিয়ে আছি, ঝিঁঝি পোকা ডাকছিলো তখন। আমি মাঝে মধ্যে পিছনে তাকিয়েও দেখছি শেয়াল কুকুর কিছু আসে কিনা। আমি আশপাশে তাকিয়ে ক্যামেরা অন করে বড়ই গাছের দিকে তাকিয়ে আছি। এমন সময় পিছন থেকে হঠাৎ আমার কাঁধে কেউ হাত রাখে। এই গভীর এই জায়গায় আমার কাঁধে কেউ হাত রাখছে, এটা তো নিশ্চয়ই সাধারণ কোন হাত নয়। এসব ভেবে ভয়ে ভয়ে পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখলাম একটা মেয়ে। মেয়েটাকে দেখে অবাক হয়ে বললাম আরে আপনি কে। এই রাতের বেলা এখানে। আমার কথায় মেয়েটা বললো আপনি যে কারণে এখানে আসছেন আমিও সেই কারণে এখানে আসছি এবার ভাবুন আমি কে। তখন আমি একটু চিন্তা করে বললাম। ও আপনিও আমার মতো ভিডিও করতে আসছেন। আপনি এই বড়ই গাছের পরীর বিষয়ে জানলেন কিভাবে। আপনার বাসা কোন গ্রামে। 

আমার কথায় একটা গ্রামের দিকে হাত ইশারা করে বললেন ওই গ্রামে। মেয়েটার কথা শেষ হতে না হতে আমি বড়ই গাছের দিকে একটা আওয়াজ পেয়ে ওদিকে তাকালে দেখলাম গতকাল রাতের মতো বড়ই গাছের ডালে উল্টো হয়ে বসে আছে সেই পরী। পরীকে দেখে আমি পিছনে না তাকিয়ে মেয়েটাকে বললাম। আচ্ছা আমিতো এইদিক থেকে ভিডিও করছি আপনি অন্য সাইডে গিয়ে ভিডিও করুন কেমন। কিন্তু আমার কথার কোন আওয়াজ পেলাম না। আমার কথার আওয়াজ না পেয়ে পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম মেয়েটা কোথাও নেই। আরে এটা কিভাবে সম্ভব। মেয়েটা এই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কোথায় গেলো। মেয়েটাকে না দেখে ভাবলাম অন্য দিকে চলে গেছে হয়তে। এই ভিডিও বড়ই গাছের ডালে বসে থাকা পরীর ভিডিও করছিলাম। এভাবে কিছুটা সময় চলে গেলে আজকে বড়ই গাছের ডালে পরীটা পিছনের দিক থেকে ঘুরে সামনের দিকে হয়ে বসে। 

পরীটা পিছন থেকে সামনের দিকে হওয়ায় আমি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকি, কারণ এই পরীকেই তো আমি এতক্ষন দেখলাম আমার পাশে মেয়েটার রূপে, আমার সাথে একটু আগে যে মেয়েটা কথা বলছিলো সে আর কেউনা ও নিজে ছিলো সেই পরীটা। পরী মেয়েটার রূপ নিয়ে আমার কাছে আসছে, এর মানে পরী আমার বিষয়ে জেনে গেছে, পরিস্থিতি খারাপ হবে বুঝতে পেরে সেখান থেকে চলে যেতে চাইবো এমন সময় আমাকে অবাক করা দিয়ে আমার থেকে কিছুটা দূরে থাকা বড়ই গাছের ডালের উপর থেকে পরী তাঁর গলাটা লম্বা করে ওর মাথাটা আমার সামনে নিয়ে আসলেন। 

গলাটা লম্বা করে মাথাটা আমার সামনে নিয়ে আসায় ভয়ে আমি চিৎকার করে দুই পা পিছিয়ে গেলাম। আমি পিছিয়ে গিয়ে সেখান আর দেরি না করে মামা বাড়ির দিকে দৌড়াতে লাগলাম। এদিকে এমন সময় আমার পিছন পিছন হাঁসতে এগিয়ে আস্তে লাগলেন একটা মাথা, আমি দৌড়াচ্ছি আমার পিছনে পরীর মাথাটা উড়ে উড়ে আসছে আর ভয়ংকরভাবে হাঁসছে, পরীর মাথা হাসে আর বলে কিরে ভিডিও করবিনা, নে কর ভিডিও কর। এরকম কথা শুনে জীবন বাঁচাতে জোরে দৌড়াতে গিয়ে মাটিতে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম। আমি পড়ে যাবার পর আমার আর কিছু মনে নেই আমি বেহুশ হয়ে যাই।

আমার যখন হুশ ফেরে তখন নিজেকে দেখি মামা বাড়িতে। আমার পাশে নানি মামা ওঁরা বসে আছে। আমার হুশ ফিরতেই মামা বললেন। বাবা নিশাদ কি হইছিলো তোর, তুই ঐ রাস্তার মধ্যে পড়ে ছিলি কেনো। গভীর রাতে ওখানে কি করছিলি। মামার কথায় আমি একটু চুপ থেকে বললাম। না মানে মামা রাতে ঘুম আসছিলো না। তাই ক্যামেরাটা নিয়ে আকাশের চাঁদের ভিডিও করতে বের হইছিলাম। এমন সময় ভয় পেয়ে জ্ঞান হাড়িয়েছি। আমার কথায় মামা বললেন, তোকে না বলছিলাম যেখানে সেখানে না যেতে। তাও আবার রাতের বেলা। ভাগ্য ভালো আমি সঠিক সময় খুঁজতে বের হইছিলাম। আমি বাথরুমে যাবার জন্য বাহিরে বের হয়ে দেখি বাতাসে তুই যে ঘরে ছিলি সেই ঘরের দরজা খুলে গেছে। দরজা খোলা দেখে তোর ঘরে গিয়ে দেখলাম তুই ঘরে নেই। তোকে ঘরে না দেখে আশপাশে খুঁজে দেখে না পেয়ে লাইট নিয়ে খুঁজতে বের হলাম। খুঁজতে খুঁজতে তোকে ঐ রাস্তায় বেহুশ অবস্থায় পেলাম। এরপর থেকে কোথাও জাবিনা। 

মামার কথায় আমি আর কিছু বললাম না। তখন নানি বললেন, শরীলে মারি লেগে আছে যা হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমা। নানির কথামতো তাই করলাম হাত-মুখ ধুয়ে ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম এটা কি ঘটলো আমার সাথে। আল্লাহ রহমতে পরীর হাত থেকে বেঁচে গেছি এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে গেলাম। আমার যখন ঘুম ভাংলো তখন বুঝতে পারলাম শরীলে প্রচুর জ্বর। আমার শরীলে অনেক জ্বর দেখে মামা আমাকে সাথে নিয়ে মসজিদের ঈমাম সাহেবের কাছে গেলেন। সেখানে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করে নিয়ে আসলেন আমাকে। বাড়িতে আসার পর মামাকে বললাম। মামা বলছিলাম আমি বাড়িতে চলে যাই। দুই তিনদিন ধরে তো এখানে আছি। আমার কথায় মামা বললেন আজি চলে যাবি। তোর তো শরীলে জ্বর। সুস্থ হয়ে তারপর জাবি। মামার কথায় আমি বললাম না মামা শরীলে বেশি জ্বর নেই সমস্যা হবেনা। আমি কিছুক্ষন আরাম করি জ্বর আরেকটু কমলে চলে যাবো। আমার কথায় মামা রাজি হলে, আমি সেখানে শুয়ে রইলাম আরো কিছুক্ষন। বেশ কিছুক্ষন শুয়ে থেকে জ্বর একটু কমলে রেডি হয়ে মামা ও নানির কাছে বিদায় নিয়ে রওনা করলাম বাড়ির দিকে। আমি অটো করে বাড়িতে ফিরছিলাম। 

এমন সময় একটা সুন্দর জায়গা দেখে ভাবলাম ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করি। এই ভেবে ক্যামেরা বের করতেই একটা কথা মনে হলো। গতকাল রাতে পরীর কোন ভিডিও করতে পারছিলাম কিনা। এই ভেবে গতকাল রাতে ভিডিও করা ভিডিওটা বের করে দেখলাম কিন্তু এবারো কোন লাভ হলোনা। পর পড়শুদিনের মতো গতকাল রাতের ভিডিও করে কোন লাভ হয়নি। ভিডিওতে সব দেখা গেলেও পরীকে দেখা যাচ্ছেনা। পরীকে দেখতে না পেয়ে মন খারাপ করে আগের ভিডিওটা দেখতে গেলাম যে ভিডিওটা গতকাল দিনের বেলা করছিলাম বড়ইগাছ নদী এগুলার ভিডিও করছিলাম। 

আমি গতকাল দিনের ঐ ভিডিওটা চালু করতেই চমকে উঠলাম একি দিনের বেলা বড়ইগাছটার ভিডিও করছিলাম তখন সুধু বড়ইগাছটা ছিলো কিন্তু ক্যামেরার মধ্যে তো ভয়ংকর এক পরীকে দেখা যাচ্ছে, পরীটা গাছের ডালে বসে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছিলো। এটা কিভাবে সম্ভব। রাতের বেলা পরীকে দেখার পর ভিডিও করছিলাম কিন্তু পরে পরীকে দেখতে পাচ্ছিনা। ওদিকে পরীকে না দেখে যে ভিডিও করছি সেই ভিডিওতে পরীকে দেখা যাচ্ছে। মামা ঠিকি বলছে আমার ঐ বড়ইগাছের ওখানে যাওয়া ঠিক হয়নি। ঐ পরীটা নিশ্চয়ই ভয়ংকর, এখন বুঝতে পারছি পরীর ভয়ে কেনো সবাই বড়ই গাছের কাছে যায়না। আমি অবাক হয়ে চলে গেলাম বাড়িতে। 

বাড়িতে যাওয়ায় মা বাবা বললো। কিরে নানা বাড়িতে থাকা হলো। তখন মা কে বললো দুই তিনদিন তো থাকলাম মা আর কতদিন থাকবো। তখন বাবা বললেন ভালো করছিস আসছিস, তোর তো পড়াশোনা আছে, কয়েকদিন ধরে কলেজেও যাসনি। যা ঘরে গিয়ে জামা কাপড় পাল্টা। বাবার কথায় ঘরে গিয়ে সব চেঞ্জ করে শুয়ে রইলাম। বিকাল পর্যন্ত শুয়ে থেকে বিকালে আমার বন্ধু, জয় ও হাসানের সাথে দেখা করলাম। ওঁদের সাথে দেখা হতেই মামা বাড়িতে গিয়ে কি কি ঘটছে সব খুলে বললাম। সব শুনে জয় বললো। ধুর আমাদের বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা গল্প বলছিস তাইনা। পরীকে ভিডিও করার পর দেখা জাবেনা কেন। আর এখনো কি আগের মতো যুগ আছে যে বটগাছ তেঁতুলগাছ বড়ইগাছ এগুলা জ্বীন পরী থাকবে। 

বন্ধু জয়ের কথায় ওকে বললাম আরে বিশ্বাস কর এসব সত্যি মামাদের গ্রামে একটা বড়ই গাছ আছে যেখানে পরী থাকে। ঐ গ্রামের অনেকেই দেখছে পরীটাকে। পরীটার ভয়ে কেউ গাছের কাছে যায়না। গাছের বড়ই ও খায়না। তখন হাসান বললো তোর কথাগুলো তো রূপকথার গল্পর মতো লাগছে। আমাদের বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছিস তাইনা। আরে গল্প না এসব সত্যি, তোরা বিশ্বাস করবিনা জানি তাই আমার ক্যামেরা সাথে করে নিয়ে আসছি, দেখ এখানে ভিডিও করা আছে। এই বলে আমি যে ভিডিওটা করছিলাম ওটা চালু করলাম। কিন্তু একি এখন তো কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। আরে হঠাৎ কি হলো। আমি মামা বাড়ি থেকে ফেরার সময় ও ভিডিওটা দেখছিলাম যেখানে পরীটা ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছিলো। এখন তাহলে দেখা যাচ্ছেনা কেনো। 

ওদিকে ভিডিওতে কিছু দেখতে না পেয়ে জয় বললো। কই এখানে তো কাউকে দেখা যাচ্ছেনা তুই তো সুধু বড়ইগাছের ভিডিও করছিস সাথে নদীটার। দিনের বেলা ভিডিও করছিস পরী পাবি কোথা থেকে। আমাদের মিছেমিছি মিথ্যা কেন বললি। আরে জয় মিথ্যা না আমার সব কতা সত্যি আমি পরীর ভিডিও করতে গিয়ে ভয়ে বেহুশ হয়েও গিয়েছিলাম। ওখানে সত্যি পরী আছে, আমার কথা বিশ্বাস না হলে নিজে দেখে আয়। আমার কথায় তখন হাসান বললো হ্যাঁ তাই করবো আমাদের তাহলে নিয়ে চল। নিয়ে চল মানে কোথায় নিয়ে যাবো। আমার কথায় জয় বললো কোথায় আবার নিয়ে জাবি তোর মামার বাড়ির গ্রামে ঐ বড়ই গাছের কাছে। আরে কি বলিস না না আমি এসব পারবোনা। আমি যে ভয় পাইছি পাগল হলি আমি আরো ওখানে যাই। 

আমি তোদের সব ঠিকানা দিচ্ছি তোরা যা দেখতে পাবি। তখন হাসান বললেন তুই থাকতে আমরা একা জাবো কেনো।  তুই আমাদের নিয়ে যাবি, তোর ভয় কিসের আমরা দুজন তো তোর সাথেই থাকবো তাইনা। ওঁদের কথায় আমি কোনভাবে রাজি হচ্ছিলাম না। আমি রাজি না হওয়ায় জয় বললেন নিশাদ আমাদের মিথ্যা বলছিস তাইনা। এখন যদি নিজের চোখে দেখতে যেতে চাইলাম তো যেতে চাচ্ছিস না। এসব নাটক করার দরকার কি ছিলো বলতো। 

বন্ধুদের কথায় এবার মনে হলো ওঁদের নিয়ে যাওয়া উচিৎ যতই ভয় লাগুক, আমার কথা ওঁরা কোনভাবে বিশ্বাস করছেনা। ওদের এরকম কথায় আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে আমি জাবো কিন্তু আমি দূরে বসে থাকবো। তোরা বড়ই গাছের কাছে যাবি। ওখানে গিয়ে ভয় পেলে বা তোদের কিছু হলে কিন্তু আমাকে বলতে পারবিনা। আমার কথায় হাসান ও জয় রাজি হয়ে বললেন আচ্ছা ঠিক আছে আমাদের যা হয় হবে। তোকে কিছু বলবোনা। ওরা রাজি হওয়ায় আমি বললাম ওকে আমার শরীলে অনেক জ্বর, আর আজকেই আমি মামা বাড়ি থেকে আসছি, আজকে যাওয়া ঠিক হবেনা আমি কাল তোদের নিয়ে যাবো।