রাত দুটো।
রাহুল পড়ার টেবিলে বসে পরীক্ষার জন্য পড়ছে। হঠাৎ জানালার বাইরে থেকে একটা গলা ভেসে এল—
— "এই যে..."
রাহুল ভয় পেয়ে চারদিকে তাকাল।
— "কে?"
জানালার বাইরে একটা সাদা শাড়ি পরা মেয়ে ভাসছে।
— "আমি পেত্নী।"
রাহুলের হাত থেকে কলম পড়ে গেল।
— "হে ভগবান!"
পেত্নী বলল,
— "ভয় পেও না। আমি তোমাকে খেতে আসিনি।"
— "তাহলে?"
— "আমি তোমাকে বিয়ে করতে এসেছি।"
রাহুল থমকে গেল।
— "কী?!"
পেত্নী লাজুক গলায় বলল,
— "হ্যাঁ। তিন মাস ধরে তোমাকে দেখছি। তুমি ভালো ছেলে, কাউকে বিরক্ত করো না, পড়াশোনা করো... তাই ভাবলাম প্রপোজ করি।"
রাহুল মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল।
— "অন্য কোনো ছেলেকে পেলেন না?"
— "পেয়েছি,কিন্তু তারা যে আমাকে দেখে ভয়ে পালায়।"
— "সেটা তো স্বাভাবিক!"
পেত্নী রেগে গেল।
— "তাহলে তুমি কি আমাকে না বলছ?"
রাহুল কাঁপা গলায় বলল,
— "দেখুন, ব্যাপারটা হলো... আমি এখনও চাকরি পাইনি।"
পেত্নী উজ্জ্বল মুখে বলল,
— "সমস্যা নেই! আমি তো ভূত। রাতে বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরি, অনেক সোনা-গয়নার খবর জানি।"
— "না না, সেটা আরও বড় সমস্যা!"
পেত্নী একটু ভেবে বলল,
— "আচ্ছা, রান্না করতে পারি।"
— "কী রান্না?"
— "খিচুড়ি।"
— "ভূত হয়ে খিচুড়ি রান্না করো?"
— "ইউটিউব দেখে শিখেছি।"
রাহুল অবাক।
পেত্নী আবার বলল,
— "আর একটা কথা।"
— "কী?"
— "তোমার মাকে আমি খুব পছন্দ করি। উনি রোজ সন্ধ্যায় যে লুচি ভাজেন, তার গন্ধ আমার গাছ পর্যন্ত আসে।"
ঠিক তখনই পাশের ঘর থেকে রাহুলের মা চিৎকার করে বললেন—
— "কার সঙ্গে কথা বলছিস?"
রাহুল বলল—
— "মা, একটা পেত্নী বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে!"
মা দরজার ওপাশ থেকে চেঁচিয়ে বললেন—
— "বলে দে, তোর মতো হতচ্ছাড়াকে আমি কারও সঙ্গে বিয়ে দেব না!"
পেত্নী চুপ।
রাহুলও চুপ।
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর পেত্নী আস্তে করে বলল—
— "আন্টি কি সবসময় এভাবেই কথা বলেন?"
রাহুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল—
— "হ্যাঁ।"
পেত্নী মাথা নেড়ে বলল—
— "তাহলে থাক, আমি ভূত ঠিক আছি। এত ভয়ংকর শাশুড়ির সঙ্গে আমি পারব না!"
বলে পেত্নী হাওয়া হয়ে গেল।
রাহুল দুঃখ করে বলল—
— "জীবনে প্রথম একটা মেয়ে প্রপোজ করল, সেটাও মা তাড়িয়ে দিল..."
#সমাপ্ত

0 Comments