আমার কথায় ওরা রাজি হলে আমি চলে গেলাম বাড়িতে। এই ঘটনার পরেরদিন বিকালে কথামতো জয় ও হাসান আমার কাছে আসলে আমি বললাম, শোন ভাই আমি কিন্তু আবারও তোদের সাবধান করছি, ওখানে সত্যি পরী আছে। তোদের কিন্তু সমস্যা হবে। আমার কথায় ওরা বলল, আরে তুই তো নিয়ে চল তারপর দেখা যাবে। ওখানে পরী থাকলে তো।
বুঝতে পারছি ওদের বুঝিয়ে কোনো লাভ হবে না। তাই ওদের বললাম, চল রওনা করি। কথাটা বলে ওদের নিয়ে রওনা করলাম মামার বাড়ির গ্রামের দিকে। আমি যে ওখানে যাচ্ছি, এটা মা বাবা বা মামাকে বলিনি। আমরা তিনজনই গল্প করতে করতে সন্ধ্যার দিকে পৌঁছে গেলাম সেই গ্রামে। সেখানে গিয়ে একটা দোকানে বসে কিছু খাবার খেলাম। খাবার খেয়ে রাত আটটা নয়টা বাজলে সবার চোখের আড়ালে তিনজনই রওনা করলাম ঐ বড়ই গাছটার দিকে। রওনা করার পর আমি শেষবারের মতো আরেকবার ওদের না করে দিলাম, কিন্তু এতেও কোনো লাভ হলো না। ওরা আমার কথা শুনল না।
এদিকে তখন আমরা নদীর পার ধরে বড়ই গাছের কাছাকাছি চলে আসলাম। সেখানে আসার পর আমি বললাম, এই তোরা যা। ঐ যে চাঁদের আলোতে একটা গাছ দেখতে পাচ্ছিস ওটা বড়ই গাছ। ওখানে গিয়ে লুকিয়ে তাকিয়ে থাক, দেখতে পারবি। আমার কথায় ওরা বলল, তুই এখানে কি করবি। মনে রাখিস আমরা দুজন গেলে তুই তো একা হয়ে পড়বি। তখন ভয় যেন না পাস। ওদের কথাতেই আমার ভয় চলে আসল। আমি ভাবলাম ঠিকই তো। ওরা গেলে তো একা হয়ে যাব। তখন আবার পরী এসে আমাকে ধরবে না তো। এসব ভেবে উপায় না পেয়ে ওদের সাথে বড়ই গাছের কাছাকাছি চলে গেলাম। সেখানে যাবার পর ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে ওদের বললাম, এখানে চুপ করে বসে থাক, দেখতে পারবি।
আমার কথায় ওরা সেখানে চুপ করে কিছুক্ষণ বসে রইল। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে জয় বলল, আরে ধুর কই। এখানে তো কেউ নেই। কথাটা বলে জয় উঠে বড়ই গাছের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। এদিকে আমি ও হাসান পিছন থেকে ডাকছি আর বলছি, এই জয় কি করছিস। আরে এদিকে আয়, ওদিকে যাসনে। সমস্যা হয়ে যাবে, শোন। কিন্তু আমার ও হাসানের কোনো কথা না শুনে জয় ঐ বড়ই গাছের কাছে চলে গেল। সেখানে গিয়ে জয় কি কি জানি করতে লাগল। রাতের বেলা স্পষ্ট কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না। এভাবে বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলে জয় আবার ফিরে আসল আমাদের কাছে। জয় ফিরে আসায় ওর হাত ধরে টেনে বসিয়ে বললাম, এই কই গিয়েছিলি ওভাবে। তোর যদি কিছু হয়ে যেত।
আমার কথায় জয় বলল, এখানে কিছু থাকলে তো হবে। চল এখানে থেকে লাভ নেই, এখানে কিছু নেই। জয়ের কথার জবাবে আমি কিছু বলার আগে হাসান বলল, এই দেখ বড়ই গাছের দিকে তাকা। হাসানের কথায় বড়ই গাছের দিকে তাকালে দেখলাম সাদা কাপড় পরা লম্বা চুলের একটা মেয়ে বড়ই গাছের ডালে উল্টো হয়ে বসে আছে। পরীটা। পরীকে দেখে আমি ফিসফিস করে বললাম, কিরে দেখলি তো। আমার কথা তো বিশ্বাস করিসনি, এখন তো বিশ্বাস হলো। আমার কথায় জয় ও হাসান হাঁ হয়ে পরীর দিকে তাকিয়ে বলল, তুই তো সত্যি বলছিলি নিশাদ। এখানে তো সত্যি পরী আছে। কিন্তু পরীর মুখ তো দেখতে পাচ্ছি না। আমরা পরীর বিষয়ে কথা বলছি এমন সময় হঠাৎ বড়ই গাছে থাকা পরীটা বাতাসে মিশে গেল। পরী বাতাসে মিশে গেলে আমরা বড়ই গাছের দিকে তাকিয়ে বললাম, আরে পরীটা হঠাৎ কই গেল। কথাটা বলে বড়ই গাছের নিচ ও উপরে দেখতে লাগলাম, কিন্তু ওখানে কাউকে দেখতে পেলাম না।
এদিকে তখন পিছন থেকে একটা আওয়াজ পেয়ে পিছনের দিকে তাকানোর সাথে সাথে আমরা দেখলাম মাথা ছাড়া একটা শরীর আমাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ছাড়া শরীর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনজনই ভয়ে একটা চিৎকার দিয়ে সেখান থেকে দৌড় দিলাম। আমরা ভয়ে এক দৌড়ে ওই জায়গা থেকে বড় রাস্তায় চলে আসি। বড় রাস্তায় আসার একটু পর একটা অটো পেলে অটোতে উঠে বসি। অটোতে বসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলি, এটা কি ছিল। তোদের আগেই বলছিলাম ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না। যদি কারো কোনো ক্ষতি হতো। আমার কথায় ওরা হাঁপাতে লাগল, কিছুই বলছিল না। এভাবে অটো করে আমরা আমাদের গ্রামে চলে আসলাম। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা। আমরা গ্রামে এসে যে যার বাড়িতে চলে যাই।
ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা। আমরা গ্রামে এসে যে যার বাড়িতে চলে যাই। ওদের মতো আমি বাড়িতে গেলে মা জিজ্ঞেস করলেন কোথায় গিয়েছিলাম। তখন মাকে বন্ধুর কথা বলে দিলাম। মাকে বললাম, বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াত ছিল। আমার কথায় মা কিছু না বললে আমি ঘরে গিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। আমি ঘুমানোর পর সেই রাতে আমার সাথে আর কিছু ঘটল না।
আমার সাথে ঘটনা ঘটল পরের রাতে। পরেরদিন রাতে যথারীতি খাবার খেয়ে ঘরে শুয়ে আছি। ঘড়িতে তখন রাত বারোটা। এরকম একটা সময়ে আমি ঘুমিয়ে যাব এমন সময় আমার রুমে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খুললাম। চোখ খুলে দেখলাম আমার ঘরে বড়ই গাছের ঐ পরীটা দাঁড়িয়ে আছে। আমি পরীটাকে ভালোভাবে চিনি, কারণ উনি ভালো রূপে এসে আমার সাথে সেদিন কথা বলেছিলেন।
আমি পরীকে দেখে কিছু বলার আগে পরী বললেন, আপনি ভয় পাবেন না। আপনার সাথে জরুরি কিছু বলার আছে। তখন আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, আমার সাথে জরুরি কি কথা। তখন পরীটা বললেন, আপনার মামা আপনাকে বড়ই গাছের কাছে যেতে নিষেধ করছে এটা শোনার পরও আপনি বড়ই গাছের কাছে গেলেন। আপনি বড়ই গাছের কাছে যাওয়ায় আমি বুঝতে পারি। আমি বুঝতে পেরে আপনাকে প্রথমদিন কিছু বলি না। কিন্তু যখন দেখলাম আপনি দ্বিতীয় রাতেও আমাকে দেখতে ও ভিডিও করতে আসছেন, তখন আপনাকে ভয় দেখাই। আমি আপনাকে শুধু ভয় দেখিয়েছি, আপনি যেন আমার ওখানে আর না আসেন। আমি চাইলে আপনার ক্ষতি করতে পারতাম, আপনাকে মেরে ফেলতে পারতাম। কিন্তু আমি তা করিনি।
আমি আপনাকে ভয় দেখানোর পর আপনি ভয় পেয়ে বাড়িতে আসছেন, এখান পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু বাড়িতে এসে আপনার বন্ধুদের আমার কথা বলা ঠিক করেননি। আপনি কি জানেন আপনার দুজন বন্ধুর মধ্যে আপনার যে জয় নামে বন্ধু আছে, ওনার চাচা একজন তান্ত্রিক। তখন আমি একটু চিন্তা করে বললাম, হ্যাঁ আমি শুনেছি কিন্তু কখনও দেখিনি। তা আপনি হঠাৎ জয়ের চাচার কথা কেন বলছেন।
তখন বড়ই গাছের পরী আমাকে বলতে লাগলেন। পরী বললেন, আপনার বন্ধু জয় আপনার কাছ থেকে আমার কথা শোনার পর ওর তান্ত্রিক চাচাকে গিয়ে বলে। পরে ওর তান্ত্রিক চাচা আমাকে বন্দি করার বুদ্ধি করে। সেই তান্ত্রিক আমাকে বন্দি করানোর জন্য জয়কে বলেন, আমি যে বড়ই গাছে থাকি ঐ গাছের ছাল, গাছের পড়ে যাওয়া পাতা ও গাছের গোড়ার একটু মাটি নিয়ে আসতে। তান্ত্রিক চাচার কথায় জয় তাই করেন। তোমরা আমাকে দেখতে বড়ই গাছের ওখানে যাবার পর জয় আমি যে গাছে থাকি ওই গাছের পাতা, গাছের ছাল, সেখানকার মাটি নিয়ে ওর চাচাকে এনে দেন। জয় যখন এসব নিয়েছিল তখন আমি বড়ই গাছের আশপাশে ছিলাম না। আমি ওখানে থাকলে বাধা দিতাম। আপনারা ওখান থেকে পালিয়ে আসার পর সব জানতে পারছি।
পরীর কথায় আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। তাহলে তলে তলে জয় এসব কাজ করছে। আমাকে চিন্তা করতে দেখে পরী বললেন, দেখুন আমি তো আপনাদের কোনো ক্ষতি করিনি। তাহলে আপনারা আমার কেন ক্ষতি করতে চাইছেন। আমি ঐ বড়ই গাছে থাকি অনেক বছর হলো। আমার মা বাবা বেঁচে নেই। ঐ জায়গাটা আমার পছন্দের ও কাছের, ওখানে অনেক ইতিহাস মিশে আছে আমার। আপনার জন্য এসব শুরু হইছে। আপনি দয়া করে কাল আপনার বন্ধু জয়কে বুঝিয়ে বলবেন। জয় যেন ওর তান্ত্রিক চাচাকে বলেন আমাকে যেন বন্দি করার চেষ্টা না করে। পরীর এরকম কথায় আমি মাথা নেড়ে বললাম, ঠিক আছে তাই হবে। আমি কালকেই জয়ের সাথে কথা বলব। আমার কথায় পরী বাতাসে মিশে গেলেন। এদিকে তখন একটু চিন্তা করে ঘুমিয়ে গেলাম।
পরেরদিন সকালে খাবার খেয়ে বন্ধু হাসানকে ফোন করে দেখা করতে বললাম। আমার কথায় হাসান দেখা করলে আমি ওকে সব খুলে বললাম। সব শুনে হাসানও অবাক হলো। তখন আমরা দুজনে জয়ের সাথে দেখা করলাম। জয়ের সাথে দেখা হলে আমি বললাম, জয় তুই না আমার ভালো বন্ধু। তুই এরকম একটা কাজ করতে পারলি। তুই তোর তান্ত্রিক চাচার কথায় পরীকে বন্দি করতে বড়ই গাছের পাতা, গাছের ছাল ও মাটি নিয়ে এনে দিছিস।
আমার কথায় জয় বলল, কি বলিস। কই আমিতো এসব কিছু করিনি। তখন আমি বললাম, দেখ জয় একদম মিথ্যা বলবি না। আমার মনে আছে তুই ওখানে যাবার পর আমাকে ও হাসানকে রেখে বড়ই গাছের নিচে গিয়েছিলি। ওখানে গিয়ে কি যেন করছিলি। এখন বুঝতে পারছি ওখানে কি করছিলি। দেখ জয়, পরী তো আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি, শুধু ভয় দেখিয়েছে। তাহলে তুই কেন পরীকে বন্দি করতে সাহায্য করছিস। আমার কথায় জয় কোনোভাবে স্বীকার করছিল না ও এই কাজটা করছে। জয়কে যতই বোঝাই ও বোঝে না, উল্টো বলে ও কিছুই করেনি। জয়কে বোঝাতে না পেরে রাগ করে বাড়িতে চলে আসি আমি। বাড়িতে আসার পর মন খারাপ করে বসে রইলাম। জয় এরকম একটা কাজ করবে ভাবতে পারিনি। মন খারাপ করে সেই দিনটা কাটিয়ে দিলাম।
সেদিন রাতে বড়ই গাছের পরী আবারও আমার কাছে আসে। পরী আসায় আমি মন খারাপ করে বলি, জয় আমার কথা শুনেনি। ও তো স্বীকার করছে না ও এই কাজটা করছে। আমার কথায় পরী বললেন, ও স্বীকার করবে না কারণ ওর চাচার বারণ আছে। জয়ের চাচা কাজ শুরু করে দিছে, উনি কালোজাদু করে আমাকে বন্দি করার চেষ্টা করবে।
তখন আমি বললাম, তাই নাকি। না না আমি থাকতে এটা হতে দিব না। আপনি চিন্তা করবেন না, আমি কাল সরাসরি জয়ের চাচার সাথে কথা বলতে যাব। আমার কথায় পরী বললেন, ঠিক আছে যাইয়েন কিন্তু মনে হয় না এতে কোনো লাভ হবে। শোনেন, আপনাকে একটা কথা বলে রাখি। আমি এখন থেকে রোজ রাতে আপনার কাছে একবার করে আসব। যদি দেখেন কোনো এক রাত থেকে আমি আপনার কাছে আসছি না, তাহলে ভাববেন জয়ের তান্ত্রিক চাচা আমাকে বন্দি করে ফেলছে। যদি বোঝেন আমাকে বন্দি করছে, তাহলে আমার একটা উপকার করিয়েন।
কি উপকার বলেন। আমার কথায় পরী বললেন, রাঙামাটির এক পাহাড়ি গ্রামে একজন মসজিদের ঈমাম আছেন। আমি আপনাকে সব ঠিকানা বলে দেই। আমি কখনও না আসলে আপনি কষ্ট করে ওনার কাছে যাবেন। আর আমার বিষয়ে সব খুলে বলবেন। আমার বিষয়ে ওনাকে বললে উনি নিশ্চয়ই আমাকে সাহায্য করবে। এই বলে পরী আমাকে সব রকম ঠিকানা দিলেন। সব ঠিকানা দিয়ে পরী বললেন, আমার বলা কথাগুলো ভালো করে মনে রাখবেন। আমি আজকে আসি।
কথাটা বলে সেই রাতের মতো পরী চলে গেলেন। পরী চলে যাবার পরেরদিন কথামতো আমি জয়ের চাচার কাছে গেলাম। সেখানে গিয়ে সব কথা জয়ের চাচাকে বলায় জয়ের চাচা বললেন, তুমি কার কাছে কি শুনে আমার এখানে আসছো। আমি এসব কিছু করিনি, এগুলা কাজ আমি করিও না। ওনার কথায় আমি অনুরোধ করে বললাম, দেখুন আপনি জয়ের চাচা মানে আমারও চাচা। আপনি দয়া করে এরকম কাজ করিয়েন না। তখন উনি বললেন, আমি এসব কিছু করিনি, করবও না। তুমি এখন চলে যাও, আমার অনেক কাজ করতে হবে। কথাটা বলে উনি আমাকে ওনার বাড়ি থেকে বের করে দিলে আমি সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়িতে আসার পর সেই রাতে পরী আবারও আসেন, আমার সাথে কথা বলে চলে যান। এভাবে এক এক করে দুদিন চলে যায়।
দুদিন পর হঠাৎ পরী আমার কাছে আসে না। পরী রাতের বেলা আমার কাছে না আসায় আমি শুরুতে চিন্তা করিনি। কিন্তু যখন দুই তিনদিন পরী আমার কাছে না আসে তখন চিন্তায় পড়ে যাই। পরী তিনরাত আমার কাছে আসল না কেন। তাহলে কি পরীর কথাই সত্যি। জয়ের চাচা কি তাহলে পরীকে বন্দি করছে। এসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে জয়ের চাচার কাছে আবারও গিয়ে বললাম উনি পরীকে বন্দি করছে কিনা। কিন্তু জয়ের চাচা অস্বীকার করলেন। উনি বিষয়টা স্বীকার না করায় আমি বাড়িতে এসে মনে মনে বললাম, পরীকে আমার সাহায্য করতে হবে। পরী বলছিল রাঙামাটিতে একজন ঈমামের কথা। আমার ওনার সাথে দেখা করতে হবে। হ্যাঁ হ্যাঁ, পরীকে বাঁচাতে ওটাই করতে হবে। আমাকে রাঙামাটি যেতে হবে।
আমি রাঙামাটি যাবার কথা ফাইনাল করার পর মা বাবাকে বলি আমার কলেজের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর বোনের বিয়ে। ওদের বাড়িতে একদিন কি দুদিন থাকতে হবে। বন্ধুর বাড়িতে যাবার কথা বলে আমি চলে যাই রাঙামাটি। সেখানে গিয়ে পরীর কথামতো এক পাহাড়ি গ্রামে যাই আমি। সেখানে গিয়ে অনেক কষ্টে পরীর দেওয়া কথামতো ঐ ঈমাম সাহেবকে খুঁজে বের করি। ঈমাম সাহেবের নাম, ইসমাইল হুজুর। ওনাকে খুঁজে পাবার পর আমি সালাম দেই। আমার সালামের উত্তর দিয়ে উনি বলেন, তুমি কে বাবা। কোথা থেকে আসছো। তখন আমি ওনাকে সব খুলে বললাম। আমি পরীর কথায় ওনার কাছে গেছি। পরীর কথা শুনে উনি আমাকে ওনার বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর আরও সব ঘটনা আমার কাছ থেকে শুনে বলেন,
ইসমাইল হুজুর আমার সব কথা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললেন, বাবা নিশাদ, তুমি অনেক বড় ঝুঁকি নিয়ে এখানে এসেছ। যে পরীর কথা বলছ সে আসলে পরী না। সে একজন মেয়ে জ্বীন। বহু বছর আগে এই বড়ই গাছের নিচেই তার পরিবারকে অন্যায়ভাবে মেরে ফেলা হয়েছিল। সেই কষ্ট আর অভিমান নিয়েই সে ওই গাছে আশ্রয় নিয়েছে। সে কারো ক্ষতি চায় না, শুধু নিজের জায়গাটা আগলে রাখতে চায়।
হুজুর বললেন, জয়ের চাচা আসলে তান্ত্রিক না। সে কালোজাদু শিখতে গিয়ে অর্ধেক শিখেছে। লোভে পড়ে জ্বীনটাকে বন্দি করে বিক্রি করতে চেয়েছিল। আমি অনেক আগেই বুঝেছিলাম ওই এলাকায় কিছু একটা হচ্ছে। তুমি না আসলে হয়তো জানতেই পারতাম না। সেই রাতেই ইসমাইল হুজুর আমাকে নিয়ে আল্লাহর নামে দোয়া করলেন। সারা রাত জিকির আর কুরআন তেলাওয়াত চলল। ফজরের আজানের সময় হুজুর বললেন, কাজ হয়ে গেছে বাবা। আমি ওকে মুক্ত করে দিয়েছি। ও এখন আর বড়ই গাছে বন্দি নেই। ওকে আমি ওর আসল ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ও আর কোনোদিন তোমাদের বিরক্ত করবে না। তুমি নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরে যাও। হুজুরের কথা শুনে আমার বুকের উপর থেকে যেন পাথর নেমে গেল। ওনাকে সালাম করে, দোয়া নিয়ে আমি বাড়ির পথে রওনা দিলাম।
বাড়ি ফিরে জয়কে সব খুলে বললাম। জয় প্রথমে বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু যখন বললাম ইসমাইল হুজুরের কথা, তখন ওর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইল। সেইদিনের পর থেকে জয় আর কোনোদিন তান্ত্রিক বা জ্বীন পরী নিয়ে কথা বলেনি। আর ওই রাতের পর থেকে বড়ই গাছের পরীও আমার কাছে আর আসেনি। কথা দিয়েছিল আসবে না যদি মুক্ত হয়ে যায়। তার মানে সে সত্যিই মুক্ত। এখনো মাঝে মাঝে মামা বাড়ি গেলে দূর থেকে সেই জায়গাটার দিকে তাকাই। বড়ই গাছটা এখন আর নেই। কিন্তু জায়গাটা কেমন যেন শান্ত হয়ে আছে। মনে হয় একটা অভিমানী আত্মা শেষ পর্যন্ত শান্তি পেয়েছে। আর আমি বুঝেছি, সব রহস্যের সমাধান ক্যামেরায় হয় না। কিছু সমাধান করতে লাগে বিশ্বাস, সাহস আর সঠিক মানুষের দোয়া।
*সমাপ্ত*
গল্পটা কেমন লাগল?
0 Comments