অনেকেই বলে এটা নাকি সাধারণ কোন সোনার পুতুল নয়, এটা জ্বীনেদের সম্পদ, জ্বীনের পুতুল।
গ্রামের অনেকেই দেখছে এই পুতুলটাকে।
অনেকে নাকি লোভ করে লুকিয়ে লুকিয়ে সেই পুতুলটা নিতে গিয়েছিলো পরে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি সে ডুবে মা*রা গিয়েছিলো সেই পুকুরে।
এরকম অদ্ভুত সোনার পুতুল ভেসে উঠায় লোকে সেই পুকুরের নাম দিয়েছে জ্বীনের পুকুর।
রাতের বেলা পুকুরটা ভয়ানক লাগলেও, দিনের বেলা কিন্তু সাভাবিক লাগে।
একবার হলো কি গ্রামের কয়েকজন যুবক ছেলেরা চিন্তা করলো পুকুরটা সেচ করছে, সেচ করে পুকুরের সব পানি ফেলে দিলে হয়তো সেই সোনার পুতুলটা পাওয়া যাবে।
এই ভাবনা মতনি কাজ করা হয়৷ পুকুরপাড়ে মেশিন লাগিয়ে পানি সেচ করার কাজ শুরু করা হয় কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ঘন্টার পর ঘন্টা চলে গেলেও পুকুরের পানি এক ফোটাও কমানো যায়না।
এরকম দৃশ্য দেখে সবাই বুঝতে পারে আসলেই এই পুকুরে অলৌকিক কিছু আছে যাঁর ফলে পুকুরের পানি সেচ করা যাচ্ছেনা।
পুকুরের পানি সেচ করতে না পেরে সবাই ব্যার্থ হয়ে ফিরে যায়।
আমাদের গ্রামটা শহর থেকে বেশ দূরে। এখনো অনেকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছাইনি৷
হাটবাজার চিকিৎসা এগুলার জন্য যেতে হয় দূরের বাজারে বা শহরে।
আমাদের গ্রামে খুব ভালো মনের একজন মানুষ আছে যাঁর নাম আলি, আমি ওনাকে আলি চাচা বলি।
এই আলি চাচার স্ত্রী সন্তান কেউ নেই৷ ওনি একাই থাকে৷ পেশায় ওনি একজন হাতুড়ে ডাক্তার কবিরাজি ও জানে নাকি টুকটাক।
রাতে সবাই খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লে আলি চাচা বের হন গ্রামে, আর সবার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন কার কোন সমস্যা আছে কিনা।
তেমনি এক রাতে আলি চাচা আমার বাড়ির কাছে আসায়, আমি আলি চাচাকে বলি।
-আসছালামু 'আলাইকুম চাচা কেমন আছেন। আপনার শরীল ভালো তো।
আমার সালামের উওর দিয়ে আলি চাচা মুসকি একটা হাসি দিয়ে বললেন। আমি আসি সবার শরীলের খবর নিতে চিকিৎসা করতে, আর তুই আমার শরীলের খবর নিচ্ছিস, তোর মনটা তো বাবা আসলেই অনেক ভালো।
আলিচাচার কথায় ওনাকে বললাম। চলো চাচা আজ তোমার সাথে আমিও গ্রামটা ঘুরবো, রাতের বেলা একটু হাঁটাচলা করলে আমারো বেশ ভালো লাগবে।
আমার কথায় ওনি বললেন, ঠিক আছে চল। তুই থাকলে আমিও গল্প করার সাথি পাই।
এই বলে আমাকে পাশে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম আলি চাচা ও সবাইকে জিজ্ঞেস করছেন কারো কোন সমস্যা আছে কিনা। কারো চিকিৎসা লাগবে কিনা।
আমরা গ্রাম ঘুরছি আর হাঁটছি, হাঁটার এক সময় আমি ওনাকে বললাম।
আচ্ছা চাচা একটা কথা বলি। তুমিতো রোজ রাতে গ্রামে সবার বাড়িতে যাও, গ্রামে ঘুরাঘুরি করো। তুমিকি ঐ পুকুরে কিছু দেখোনা। সবাইতো বলে ঐ পুকুরে রাত হলে সোনার পুতুল ভেসে উঠে, অনেকে নাকি আবার জ্বীনদের ও দেখে। তুমি কখনও ওসব দেখোনি, তোমার কি ভয় করেনা।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন৷ দেখ বাবা, মানুষ ও জ্বীন আল্লাহর সৃষ্টি, সব মানুষেরা যেমন খারাপ হয়না তেমনি সব জ্বীনেরা খারাপ হয়না। ভালো মানুষের মতো ভালো জ্বীন ও আছে, আমরা ওনাদের ডিস্টার্ব না করলে ক্ষতি না করলে ওরা কেনো আমাদের ক্ষতি করবে। আমি অনেক আগে থেকে জানি, ঐ পুকুরে জ্বীনেদের বসবাস, ওখানে একটা জ্বীন পরিবার থাকে, আর ওঁদের কাছে একটা সোনার পুতুল আছে, সুধু সোনার পুতুল না আরো অনেক সোনার মোহর ভরা কলস আছে ওঁদের কাছে। এগুলা আদি যুগে মানুষদের ছিলো কিন্তু কালের বিবর্তনে ওগুলা ওঁদের আয়ত্তে চলে গেছে।
আমি গ্রামে ঘুরার অনেক সময় ওঁদের দেখি কিন্তু কখনও ওঁদের ডিস্টার্ব করিনা৷ ওরাও আমাকে ভয় দেখায় না।
এই বলে আলি চাচা বললেন, চল সামনে চল তোকে একটা জিনিস দেখাই।
কথাটা বলে আমাকে নিয়ে গেলেন সেই পুকুরের কাছে, সেখানে যাওয়ার পর আমাকে বললেন। এখানে চুপ করে থাক, কিছু দেখতে পাবি।
আলি চাচার কথায় আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম।
এভাবে বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার এক সময় আলি চাচা হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, ওই দেখ পুকুরের মাঝখানে তাঁকা।
আলি চাচার কথায় ওদিকে তাকাতেই দেখলাম পুকুরের মাঝখানে একটা সোনার পুতুল আস্তে করে ভেসে উঠলেন। চাঁদের আলোতে সেই পুতুলটা চকচক করছে।
সুধু সোনার পুতুলটা দেখেনি, আমি দেখলাম পুতুলের দুইদিকে ভেসে উঠলেন একজন জ্বীন , ও একজন পরী। পাশে ওঁদের ছোট একটা বাচ্চা।
এরকম দৃশ্য আমি প্রথম দেখলাম। আগে শুনেছি অনেকের কাছে।
এরকম দৃশ্য দেখার পর আলি চাচা আমাকে সেখান থেকে বাড়ির দিকে নিয়ে যেতে লাগলেন আর বললেন।
কিহহ, নিজের চোখে দেখলি তো৷
-হ্যাঁ চাচা, আমিতো বিশ্বাস করতে পারছিনা জ্বীন পরী ও ওঁদের গুপ্তধন দেখবো।
আমার কথায় আলি চাচা মুসকি হেঁসে বললো। এইযে আমরা ওঁদের দেখলাম, কিন্তু ওঁদের ডিস্টার্ব করলাম না এতে ওরাওঁ আমাদের কিছু করলোনা, যদি আমরা লোভ করতাম ওঁদের ডিস্টার্ব করতাম তাহলে আমাদের ক্ষতি হতো। জিবনে কখনও লোভ করিসনা বাবা কেমন, যা অনেক রাত হইছে এখন বাড়িতে যা, আর হ্যাঁ এইযে এতকিছু দেখলি এসব আবার কাউকে বলিসনা যেনো।
আলি চাচার কথায় রাজি হয়ে বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
এই ঘটনার ঠিক দুদিন পরের ঘটনা। গ্রামের কিছু দুষ্ট মানুষ, দুষ্ট বুদ্ধি করলেন।
ওঁরা একে অপরকে বলতে লাগলেন।
আচ্ছা আমরা ঐ পুকুরে ঐ সোনার পুতুলটা তো কম বেশি সবাই দেখছি, কেমন হয় যদি ওটা আমরা পেয়ে যাই৷ একবার যদি ওটা পেয়ে যাই তাহলে গ্রামের সবাই বড়লোক হয়ে যাবো।
তখন আবার অন্য একজন বললো, কিন্তু ওটা কিভাবে পাবো। এর আগে তো অনেকেই লোভ করে পুকুরে নেমে ওটা নিতে গিয়েছিলো এরপর তো ওর আর কোন খোঁজ পাওয়া যাইনি, ঐ পুকুরের তলে ওকে টেনে নিয়ে গেছে জ্বীনেরা।
ওর কথায় আরেকজন বললেন৷ আমরা একজন তান্তিককে নিয়ে আসবো, তান্তিক এসে পুকুরে থাকা জ্বীনদের বন্ধি করে, আমাদের ঐ সোনার পুতুলটা দিয়ে দিবে। এর বিনিময় আমরা তান্তিককে অনেক টাকা দিবো।
ওর কথায় সবাই রাজি হলেন সবাই বললেন হ্যাঁ এটাই করবো। আমরা কালকেই একজন তান্তিক নিয়ে আসবো গ্রামে।
এই বলে সেদিনের মতো সবাই বাড়িতে চলে গেলেন, আর পরেরদিন কথামতো গ্রামে নিয়ে আসলেন একজন তান্তিক।
নতুন এই রহস্যময় গল্প নিয়ে আসলাম। গল্পটা সবার ভালো লাগবে। আপনারা যাঁরা আমার লেখা গল্প প্রথম পড়ছেন, তাঁরা আমার এই ভূতের গল্প লেখক পেজে ঢুকে আগের গল্প গুলা পড়েন।
এখনো যারা পেজটা ফলো করেননি করে দিন।
আমার গল্প কেউ কোন ইউটিউব চ্যানেলে বা টিকটকে দিবেন না৷
গল্পটা কেমন লাগলো জানাবেন সবাই। ইনশাআল্লাহ পরের পর্ব আসবে কালকে।
জ্বীনের প্রতিসোধ গল্পর প্রথম পর্ব যাঁরা পড়েননি পড়ে নিন আমার এই ভূতের গল্প লেখক পেজে আছে।
পরেরদিন কথামতো গ্রামে নিয়ে আসলেন একজন তান্তিক।
তান্তিক আসায় গ্রামের সবাই এক জায়গায় জড়ো হলেন।
সবাই একসাথে হওয়ায় তান্তিক বললেন।
-এখন আমাকে খুঁলে বলুন তো আসল ঘটনা কি, আমাকে কি করতে হবে।
তান্তিকের কথায় একজন বললেন। আমাদের গ্রামে একটা পুকুর আছে, রাতে সেই পুকুরে সোনার পুতুল ভেঁসে উঠে, আমরা অনেকেই সেই পুতুলটা দেখেছি, আমরা আপনাকে নিয়ে আসছি, সেখানে থাকা জ্বীনদের বন্ধি করে সেই সোনার পুতুলটা আমাদের দিয়ে দিবেন৷ এর বিনিময়ে আমরা আপনাকে অনেক টাকা দিবো।
ওর কথায় তান্তিক বললেন, বললেই তো সবকিছু হয়ে যায়না৷ আমাকে আগে ঐ পুকুরের কাছে নিয়ে চলুন। আমি জায়গাটা দেখতে চাই।
তান্তিকের কথায় ওনাকে নিয়ে পুকুরের দিকে যেতে লাগলো সবাই।
এদিকে তখনি আমি আলি চাচার কাছে গেলাম। গিয়ে বললাম।
-আলি চাচা তুমি এখনো বাড়িতে, ওদিকে গিয়ে দেখো কি হতে চলেছে, গ্রামের সবাই একজন তান্তিক নিয়ে আসছে, ঐ পুকুর থেকে জ্বীনদের সম্পদ ঐ পুতুলটা নিতে, তান্তিক সবাইকে নিয়ে পুকুরের দিকে যাচ্ছে।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন তাই নাকি, ম*রবে সবাই ম*রবে। এই ভুল করলে কেউ বাঁচবেনা। চলতো গিয়ে দেখি।
কথাটা বলে আলি চাচা ও আমি চলে গেলাম পুকুরপাড়ে। ততক্ষণে তান্তিক ও গ্রামের সবাই পুকুরপাড়ে পৌঁছে গেছে।
ওখানে যাবার পর তান্তিক পুকুরের দিকে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো।
-হ্যাঁ আমি পারবো, আমি পারবো এই সোনার পুতুলটা আপনাদের দিতে। সাথে এখানকার জ্বীনদের ও বন্ধি করবো, কিন্তু এতে আমার কিছু জিনিস লাগবে, সবার আগে লাগবে একটা কালো রঙের ছাগল।
তখন একজন বললেন, ছাগল, ছাগল কেনো।
ওর কথার জবাবে তান্তিক বললেন, ছাগল বলি দিয়ে এই ছাগলের র*ক্ত ও ছাগলটাকে পুকুরে ফেলতে হবে।
তখন কয়েকজন বললেন ঠিক আছে আমরা এখনি ছাগল নিয়ে আসছি।
ওঁদের কথা শুনে তান্তিক বললেন এখন না। এখন তো দিন, আজকে সন্ধায় আমি ছাগলটাকে বলি দিবো। এখন আমি এই পুকুরপাড়ে একাই বসে সাধনা করছি, আমাকে কেউ ডিস্টার্ব করবেনা সবাই এখন চলে যাও, একবারে সন্ধায় একটা ছাগল নিয়ে এসো।
তান্তিকের কথায় রাজি হয়ে সবাই বলেন ঠিক আছে তাই হবে।
এই বলে সবাই আবার বাড়ির দিকে যেতে থাকে তান্তিককে পুকুরপাড়ে একা রেখে।
সবাই বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় আলি চাচা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন। তোমরা কি পা*গল হইছো, কি করতে যাচ্ছ, এসব বন্ধ করো। ভুলেও ঐ পুকুরে ঐ জ্বীনদের সম্পদ নেয়ার চেষ্টা করবেনা৷ এই তান্তিক ভন্ড ও ভালোনা। ওকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দাও।
আলি চাচার এমন কথায়, কয়েকজন বললেন, আপনি চুপ থাকেন৷ আমাদের যা ভালো মনে হয় আমরা তাই করবো। তান্তিক ভালো হোক বা খারাপ ওটা আমাদের দেখার বিষয় না আমরা সোনার পুতুলটা পেলেই হবে।
তখন আবারো আলি চাচা বললেন, তোমরা কি ভাবছি ঐ সোনার পুতুলটা পেলে সেই জ্বীনেরা তোমাদের ছেড়ে দিবে, না ছাড়বেনা তোমাদের কাউকে ছাঁড়বেনা৷ মে*রে ফেলবে সবাইকে, দয়া করে আমাদের কথা বুঝার চেষ্টা করো।
আলি চাচার এরকম কথায় সবাই আবার বলতে লাগলো, আরে সেই পুকুরের জ্বীনদের তো তান্তিক বন্ধি করবে, ওঁরা বন্ধি হলে আমাদের কে কি করবে শুনি, আপনার এত জ্ঞান দিতে হবেনা আমরা আবারে সন্ধায় যাবো পুকুরপাড়ে তান্তিকের কাছে।
আপনার ভালো না লাগলে জাবেন না ওখানে। যান আপনি বাড়িতে চলে যান।
ওঁদের এমন কথায় আমি বললাম। এভাবে কথা বলছো কেনো। কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় জানোনা৷ যে মানুষটা দিনের পর দিন গ্রামের মানুষের চিকিৎসা দিয়ে গেছে, যিনি সব সময় সবার ভালো চায় তাঁকে এভাবে বলা কি ঠিক। তোমরা তান্তিক নিয়ে আসছো না বড়লোক হবার লোভে, এই লোভ তোমাদের একদিন ধ্বং*স করে দিবে দেখে নিও।
কথাটা বলে আলি চাচাকে বললাম চাচা আপনি বাড়িতে চলুন। কথাটা বলে আলি চাচাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আমি চলে গেলাম বাড়িতে।
সবাই বাড়িতে আসায় ওদিকে তান্তিক পুকুরপাড়ে একা বসে কি কি জানি করছে, আলি চাচা আমাকে বলছিলো, তান্তিক কালোজাদুর মাধ্যমে পুকুরে থাকা ঐ জ্বীনদের বন্ধি করতে পারে।
তান্তিক সবাইকে বলছিলো সন্ধায় যেনো সবাই পুকুরপাড়ে যায় একটা কালো রঙের ছাগল নিয়ে।
তান্তিকের কথামতো সেটাই করো হলো। সন্ধা হতে একটা ছাগল নিয়ে সবাই হাজির হলো পুকুরপাড়ে।
সেখানে যাবার পর তান্তিক বললো ও তোমরা আসছো।
ছাগলটাকে আমার সামনে নিয়ে আসো।
তান্তিকের কথায় ছাগলটা ওনার সামনে নিয়ে আসায় তান্তিক সেই ছাগলটাকে বলি দিলেন দিয়ে ছাগলের র*ক্ত একটা পাত্রে নিলেন৷
ছাগলের র*ক্তগুলা নেয়ার পর তান্তিক বললেন এখন এই ছাগলটাকে পুকুরে ফেলে দাও।
তান্তিকের কথামতো সেটাই করে হলো। ছাগলটাকে পুকুরে ফেলে দেয়া হলো।
ছাগলটাকে পুকুরে ফেলে দেয়ার সাথে সাথে পুকুরের মাঝখানে ভেসে উঠলো সেই সোনার পুতুলটা।
সোনার পুতুল ভেসে উঠার সাথে সাথে সবাই অবাক হয়ে বললো। ঐ তো সোনার পুতুলটা ভেসে উঠছে।
তখন তান্তিক সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, কেউ ভুল করে পুকুরে নেমে ওটা নিতে জাবেন না৷ আমি ওটা আপনাকে দিয়ে দিবো। তাঁর আগে এই পুকুরে থাকা জ্বীনদের বন্ধি করতে হবে।
এই বলে ছাগলের র*ক্তর পাত্রটা সামনে রেখে তান্তিক কি কি জানি করতে লাগলেন। এর ঠিক কিছুক্ষন পর সবাই অবাক হয়ে দেখলেন তান্তিকের সামনে থাকা পাত্রটা থেকে র*ক্ত গুলো আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে, মনে হচ্ছে অদৃশ্য কেউ চুষে খাচ্ছে।
এভাবে কিছুক্ষনের মধ্যে সেই র*ক্তটুকু সব শেষ হয়ে গেলো। তখন তান্তিক হাত ইশারা করে পুকুরের দিকে তাকিয়ে বললো ওঁদের বন্ধি করো।
কথাটা বলে দুটো বোতল দুই হাতে উঁচু করে ধরলেন তান্তিক।
ওদিকে তখনি পুকুরের মাঝে শুরু হলো ভুমিকম্প, পুকুরে এমন ঢেউ শুরু হলো মনে হচ্ছে পুকুরে কোন দৈ*ত্য দা*নব ছুটাছুটি করছে।
এভাবে কিছুক্ষন চলার পর সবাই দেখলাম, তান্তিকের দুই হাতে থাকা দুটো বোতলে সাদা ধোঁয়ার মতো কিছু একটা এসে ঢুকলেন। সেই ধোঁয়ার মতো কিছু ঢুকার সাথে সাথে তান্তিক বোতলের মুখ লাগিয়ে হাহা করে হাঁসতে হাঁসতে বললেন।
আমি ওঁদের বন্ধি করছি, এই পুকুরে থাকা জ্বীন পরী এই বোতলে বন্ধি, সবাই আমার কাছে আসো। আর বোতল দুটো নিয়ে ঐ বড় কোন গাছের মাটির অনেক গভীরে পুতে রাখো। আর আমাকে এখানো আরো কিছুক্ষন সাধনা করতে দাও৷ আমি এখানে সাধনা করবো, তোমরা যখন দেখবে আকাশে চাঁদ উঠে চাঁদের আলো ঝলমল করবে তখনি আমার এখানে আসবে তখন আমি তোমাকে এই সোনার পুতুলটা দিয়ে দিবো। এখন যা এই বোতল দুটো নিয়ে গ্রামের দিকে যাও আর গাছের নিচে পুতে রাখো।
তান্তিকের কথামতো সেখানে থাকা সবাই সেই বোতল দুটো নিয়ে গ্রামের দিকে গিয়ে একটা নির্জন ও বড় গাছের নিচে পুতে রাখলেন।
বোতল দুটো পুতে রেখে সবাই ওখানে অপেক্ষা করতে লাগলেন কখন রাতের আকাশে চাঁদ উঠবে, আর আলো ছড়াবে।
এভাবে সবাই ওখানে গল্প করতে লাগলেন আর অপেক্ষা করতে লাগলেন।
এভাবে চলে গেলো অনেকটা সময়।
অনেকটা সময় চলে যাবার পর একজন দৌড়ে এসে বললো৷ সবাই চলো পুকুরপাড়ে চলো, তান্তিক ঐ পুকুরের সোনার পুতুল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
এই কথা শুনে সবাই দৌড়ে পুকুরপাড়ে যায় আর দেখে সত্যি তান্তিক সোনার পুতুলটা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
এই দৃশ্য দেখে সবাই দৌড়ে গিয়ে তান্তিককে ধরে ফেলে, তান্তিককে ধরার পর দেখেন সুধু সোনার পুতুল না তান্তিকের কাছে তিন তিনটা সোনার মোহর ভরা কলস।
তান্তিক এসব নিয়ে পালাচ্ছে দেখে সবাই রেগে গিয়ে সবাই তান্তিককে পিটাতে থাকেন। সবার আঘাতে তান্তিক চিৎ*কার করতে করতে সেখানেই মা*রা যায়।
তান্তিক মা*রা যাবার পর সবাই সেই সোনার মোহর ভরা কলস থেকে যে যেরকম পারে সোনার মোহর নেয়৷
একদম কারাকারি বাজে। যে যেমনি পারছে থাবা দিয়ে সোনার মোহর তুলে নিছে, এভাবে সবার সোনার মোহর পায় কিন্তু সেই সোনার পুতুলটা কে যে নেয় কেউ জানেনা৷ সোনার পুতুল না পেলে কি হবে সোনার মোহর গুলা তো পেলো সবাই।
সোনার মোহর পেয়ে খুশি হয়ে, তান্তিকের লা*শ ওখানে ফেলে যে যার বাড়িতে চলে যায়।
এরকম একটা ঘটনা ঘটবে কেউ ভাবতে পারেনি, কেউ ভাবেনি তান্তিক বেঈমানী করবে।
যাইহোক,
সবাই বাড়িতে যাবার পর খুশি মনে ঘুমিয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পরেরদিন দিনের বেলা অনেকে কৌতুহল নিয়ে তান্তিকের লা*শ দেখতে যায়, কিন্তু তান্তিকের লা*শ কেউ খুঁজে পায়না। যেখানে তান্তিক ম*রে পড়ে ছিলো ঐ জায়গাটা একদমি ফাঁকা।
তান্তিককে না পেয়ে যে যার মতো চলে যায় বাড়িতে।
এই ঘটনার ঠিক দুদিন পর সকাল বেলার ঘটনা।
গ্রামের দুজন মানুষের চিৎ*কারে। সবাই চলে যায় ওঁদের কাছে।
ওদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে চিৎ*কার করছে কেনো। তখন ওঁরা বলে ওই দেখো তান্তিকের লা*শ পড়ে আছে এখানে।
তখন সবাই দেখে ঠিকি তো তান্তিকের লা*শ এখানে কিভাবে আসলো। আমরা তো ওকে পুকুরপাড়ের কাছে মে*রে ফেলে রাখছিলাম।
তান্তিকের লা*শ ওখানে পড়ে আছে দেখে কয়েকজন বললো আচ্ছা একটা কাজ করি। তান্তিকের লা*শ এখানে পড়ে আছে এখানে থাকলে তো গন্ধ উঠে যাবে, এরথেকে আমরা ওর জানাযা করে কব*র দেই৷ এতে কবর দেয়াও হবে পঁচে গন্ধ বের হওয়ার চিন্তাও থাকবেনা।
ওনাদের কথায় সবাই রাজি হলো। আর তান্তিককে কোনভাবে গোসল করিয়ে জানাযা পড়িয়ে কব*র দেয়া হলো।
তান্তিককে ক*বর দেয়ার
পর সবাই চলে গেলো যে যার বাড়িতে।
সবাই বাড়িতে যাবার পর সেই রাতেই ঘটলো অবাক করা একটা ঘটনা।
সেই রাতেই গ্রামের দুজন মানুষ দেখেন সেই তান্তিককে। ওই দুজন দেখে তান্তিক ভয়ং*করভাবে তাঁদের দিকে তাকিয়ে হাঁসছে।
ওই দুজন লোক দেখে তান্তিক ভয়ং*করভাবে তাঁদের দিকে তাকিয়ে হাঁসছে।
এরকম দৃশ্য দেখার পর ওঁরা এক দৌড়ে গ্রামের ভিতরে এসে চিৎ*কার করতে থাকে।
ওঁদের চিৎ*কারে সবাই ওঁদের কাছে গেলে ওঁরা বলে, ওঁরা তান্তিককে দেখছে।
ওঁদের মুখে এমন কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে বলে। কিহহ, তান্তিক কিভাবে ফিরে আসবে৷ তান্তিককে না সকালে ক*বর দিলাম।
সবার কথায় ওঁরা বলে আমরাও তো তাই জানি। কিন্তু আমরা বাজার থেকে ফেরার সময় ঐ পুকুরের পাশে দেখি তান্তিককে। তান্তিক আমাদের দিকে তাকিয়ে ভয়া*নকভাবে হাঁসছিলো।
ওঁদের এমন কথায় সবাই তো চিন্তিত হয়ে পড়ে। একজন দেখলে না হয় বুঝা যেতো ভুল কিছু দেখছে কিন্তু না দুইজনি একি সময়ে একি দৃশ্য দেখছে।
ওঁদের দুজনের কথায় সবাই বললেন, ঠিক আছে সবাই বাড়িতে যাও, এরপর যদি আবারো গ্রামের কেউ তান্তিককে দেখে তাহলে আমরা এর একটা ব্যাবস্তা নিবো।
ওনার কথামতো সে রাতে সবাই যে যার বাড়িতে চলে গেলেন।
এই ঘটনার পরেররাতে আমি আলি চাচার বাড়িতে গেলাম৷
-আমাকে দেখে আলি চাচা বললেন৷
আরে নিশাদ তুই। রাতের বেলা আমার বাড়িতে।
তখন আমি বললাম, আসলাম হাঁটতে হাঁটতে, শোনোনি কাল রাতে কি হইছে, সবাই যে তান্তিককে মে*রে ফেলছিলো, সেই তান্তিককে গতকাল সকালে জা*নাযা পড়িয়ে কবর দিয়েছিলো, কব*র দেয়ার পর গত রাতেই আবার দুজন তান্তিককে দেখছে এটা কিভাবে সম্ভব অবাক করা ঘটনা না বলো।
আমার কথার জবাবে আলি চাচা বললেন ৷ যে মানুষ মা*রা যায়, তাঁরা কখনও ফিরে আসেনা। এটা মূলত দুষ্ট জ্বীনের কাজ, দুষ্ট জ্বীনেরা ম*রা মানুষের রূপ নিয়ে ভয় দেখায়। যাঁরা তান্তিককে দেখেছে সে আসলে তান্তিক না সে একটা জ্বীন।
আলি চাচার কথা শুনে আমি কিছু বলতে যাবো এমন সময় গ্রামের একটা দিক থেকে চিৎ*কারের আওয়াজ আসলো।
ওদিক থেকে চিৎ*কারের আওয়াজ ও কান্নার আওয়াজ আসায় আলি চাচা বললো, চলতো দেখি আজ আবার কি হলো।
কথাটা বলে আমি ও আলি চাচা চিৎ*কার দেয়া জায়গায় গিয়ে দেখলাম অনেকে জড়ো হয়ে আছে, আর সেখানে পড়ে আছে গ্রামের একজন।
যে পড়ে আছে তাঁকে দুজন ধরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলো। তখন আলি চাচা ওনাকে দেখে শিওর হয়ে বললেন৷ ওকে আর হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে লাভ নেই ও মা*রা গেছে।
ও মা*রা গেছে শুনে কান্নার রোল পড়ে গেলো।
হঠাৎ একজন মধ্যে বয়স্ক লোক কারণ ছাড়া কিভাবে মা*রা গেলো।
সেই লোকটা হঠাৎ মা*রা যাওয়ায় সবাই ভেবেছিলো এই মৃ*ত্যুটা হয়তো সাভাবিক তাই কেউ সিরিয়াস নেয়নি বিষয়টা৷
কিন্তু এই একি রকম ঘটনা ঘটছে, পরের রাতেও পরের রাতে একজন না দুজন লোক চিৎ*কার দিয়ে মা*রা যান।
গতরাতের মতো এইরাতে দুজন মা*রা যাওয়ায় আবারো সবাই একসাথে হন।
সবাই একসাথে হয়ে দেখেন দুটো লা*শ পড়ে আছে মাটিতে।
এই মৃ*ত্যুর রহস্য কি কে মারলো এঁদেরকে।
তখন একজন মুরুব্বি হুজুর এসে সবাইকে অবাক করা একটা ঘটনা বললো। ঐ মুরুব্বি বললো, আমি দেখেছি এদেরকে কে মা*রছে, আমি রাতের খাবার শেষে টয়লেটে আসছিলো। তোমরা তো জানো আমার টয়লেট বাড়ির বাহিরে বাশঝাড়ের ওদিকে। তো আমি যখন টয়লেটে ছিলাম, তখন আমি এদেরকে চিৎ*কার দিতে শুনি৷ এঁদের চিৎ*কার শোনার সাথে সাথে আমি টয়লেটের যে দরজা, দরজার ফাঁক দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখি, উঁচা লম্বা একটা অবয়ব, ওর শরীলে কালো পোশাক ছিলো হাতে একটা তরবারি, আর ওর চোখ গুলা একদম সাদা চোখে কোন মনি নাই, এরকম একটা অবয়ব ওঁদের পাশে দাঁড়িয়ে আর ওঁরা লা*শ হয়ে পড়ে আছে মাটিতে৷ ওরা মা*রা যাওয়ার আগে যে চিৎ*কার করছিলো ওঁদের চিত*কারে সবাই দৌড়ে আসার সময় সেখানে থাকা সেই অবয়বটা বাতাসে মিশে যায়। আমি সব নিজের চোখে দেখছি৷ আমি দেখে আমার যা মনে হয় এটা কোন মানুষ এটা একটা জ্বীন। একটা জ্বীন মা*রছে এঁদেরকে।
সেই মুরুব্বির মুখে এসব শুনে সবার বলাবলি করতে শুরু করে তাহলে এই ঘটনা, কিন্তু জ্বীন এঁদেরকে মা*রলো কেনো৷ তাহলে কি এই জ্বীনটা তান্তিকের জ্বীন।
এসব ভাবতে ভাবতে একজন বললেন৷ আমরা এসব নিয়ে কাল দিনের বেলা কথা বলতে পারবো৷ রাতের বেলা বাহিরে থাকলে আমাদের সাথেও এমনটা হতে পারে৷
ওনার কথামতো সবাই ভয় পেয়ে যে যার বাড়িতে যেতে লাগলেন।
সবার মতো আমিও বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম৷
আমি বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় খেয়াল করলাম আজকে আলি চাচা ওখানে আসেনি৷ গ্রামের কম বেশি সবার ছিলো ওখানে কিন্তু আলি চাচা আসলোনা কেনো।
এই বলে বাড়ি ফেরার সময় আলি চাচার বাড়িতে গিয়ে চাচাকে ডাকতে লাগলাম৷ কিন্তু আমার ডাকে আলি চাচা কিছু বললেন না।
বেশ কিছুক্ষন ডাকার পর আলিচাচার কোন সারা না পেয়ে দরজায় হালকা করে ধাক্কা দিলাম৷
হালকা করে দরজা ধাক্কা দেয়ায় দরজা খুলে গেলো। দরজা খুলে যাওয়ায় ভিতরে ঢুকে দেখলাম আমি চাচা বিছানায় শুয়ে পেটে হাত চেপে শুয়ে আছে।
চাচার এরকম অবস্থা দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম। আরে আলি চাচা কি হইছে তোমার।
তখন ওনি বললেন, পেটে অনেক ব্যাথা করছে, আমার কাছে ঔষধ ছিলো কিন্তু শেষ হয়ে গেছে।
আলি চাচার কথায় আমি বললাম, কিহ বলো৷ তুমি সবার চিকিৎসা করো আর তোমার নিজের চিকিৎসা করার ঔষধ পাচ্ছনা৷ তোমার তো অনেক কষ্ট হচ্ছে এভাবে থাকবা কি করে।
তখন আলি চাচা বললেন, কি আর করার এই রাতের বেলা পেট ব্যাথা নিয়ে কোথায় জাবো।
তখন আমি বললাম তুমি চিন্তা করোনা আমি বাজারে যাচ্ছি, আমি বাজারে গিয়ে তোমার জন্য পেট ব্যাথার ঔষধ নিয়ে আসছি।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন, না না এই রাতের বেলা একা বাজারে যেতে পারবিনা।
ওনার কথায় আমি বললাম, চাচা আমি পারবো, তোমার এরকম কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে, তুমি অপেক্ষা করো আমি বাজারে গিয়ে ঔষধ নিয়ে আসছি।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন, একটু কাছে আয়,ওনার কথায় আমি কাছে যাওয়ায় ওনি দোয়া কালাম পড়ে আমার শরীলে ফু দিয়ে শরীলটা বন্ধ করে দিলেন, দিয়ে বললেন এবার যা।
আলি চাচার কথায় আমি রওনা করলাম বাজারে উদ্দেশ্য। আমি তারাতাঁরি করে বাজারের দিকে যেতে লাগলাম কারণ রাত গভীর হলে দোকান বন্ধ হয়ে যাবে৷
এই ভাবনা মতো আমি তারা তাঁরি করে হাঁটছি, এভাবে বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর বাজারে গেলাম।
বাজারে পৌঁছে ঔষধ নিয়ে বাড়ির দিকে আসবো এসব সময় শুরু হলো ঝড়ো বাতাস প্রচন্ড বৃষ্টি।
বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আমি সেই ঔষধ দোকানের ভিতরে অবস্থান নিলাম। দোকানের ভিতরে বেশ কিছুক্ষন থাকার পর যখন দেখলাম বৃষ্টি কমছেনা, বৃষ্টি কমার কোন সম্ভাবনা নেই তখন চিন্তা করলাম ভিজে বাড়িতে ফিরবো।
এই কথামতো ঔষধ গুলো পলিব্যাগ দিয়ে ভালো করে পেচিয়ে আমি ভিজতে ভিজতে বাড়ির দিকে রওনা করলাম।
বৃষ্টি পড়ছে, মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আমি দূর্ত হাঁটছি। এমন সময় হঠাৎ একটা বাগানের কাছে আসতে দেখলাম আমার সামনে রাস্তায় তিনটা বিড়াল যুদ্ধ করছে, বিড়াল গুলা সাধারণ বিড়ালের মতো না। ওঁদের সাইজ বেশ বড়। একটা সাদা বিড়াল ও দুটো কালো বিড়াল।
এই কালো বিড়াল দুটো সাদা বিড়ালটার সাথে যুদ্ধ করছে, সাদা বিড়ালটা কিছু আহত হইছে ও দূর্বল হয়ে পড়ছে দেখে বুঝা যাচ্ছে।
এরকম দৃশ্য দেখে আমার কেন জানি মায়া হলো। তখন আমি একটা গাছের ডাল নিয়ে বিড়ালগুলার দিকে আওয়াজ করে এগিয়ে যাওয়ায় সেই কালো বিড়াল দুটো ঝোপের মধ্যে ঢুকে যায়।
ঐ বিড়াল দুটো চলে যাবার পর আমি গাছের ডালটা ফেলে দিয়ে বাড়ির দিকে যেতে থাকি৷
এমন সময় খেয়াল করি সেই সাদা বিড়ালটা আমার পিছন পিছন হাঁটছে।
বিড়ালটা আমার পিছন পিছন হাঁটছে দেখে আমি কিছু বললাম না ভাবলাম বিড়াল এ আবার এমন কি।
এই ভেবে হাঁটছি। এর ঠিক কিছুদূর যাবার পর আমার পিছন থেকে একটা ডাক আসলো। পিছন থেকে ডাক শুনে আমি পিছনে ঘুরে তাকিয়ে চমকে উঠলাম কারণ আমার পিছনে দাঁড়িয়ে একটা মেয়ে।
আমি মেয়েটাকে দেখে একটু চুপ থেকে বললাম। আপনি, আপনি কে। এই ঝড় বৃষ্টির রাতে এখানে কি করছেন৷ আর আপনার শরীল ভিজছেনা কেনো বৃষ্টি পড়লে তো শরীল ভিজে যায় আমি ভিজে গেছি কিন্তু আপনার শরীল দেখে মনে হয় শুকনা।
আমার কথায় মেয়েটা বললেন, আমিকি মানুষ যে বৃষ্টিতে ভিজবো। আমি একটা পরী।
-কিহহ পরী, সত্যি আপনি পরী।
আমার কথায় মেয়েটা বললেন হ্যাঁ আমি পরী। আমি তোমার সামনে আসলাম একটা কারণে তুমি একটু আগে দুটো কালো বিড়ালের থেকে একটা সাদা বিড়ালটাকে বাঁচিয়েছো সেই সাদা বিড়ালটা ছিলাম আমি।
আমি বিড়াল রূপে ছিলাম। তখন দুটো জ্বীন হঠাৎ করে এসে আমাকে আক্র*মণ করে। তুমি তখন না আসলে হয়তো ওঁরা আমার বড় কোন ক্ষতি করতে পারতো। তুমি আমার উপকার করার জন্য তোমার সামনে আসলাম।
ওই পরীটার কথায় আমি বললাম। ও আসলে আমিতো না জেনে আপনার উপকার করছি। আপনার নাম কি কোথায় থাকেন।
আমার কথায় সেই পরী বললেন বলবো বলবো, সামনে বাড়িঘর দেখা যায় কোন মানুষ আমাকে দেখে ফেলতে পারে। তুমি আজকে বাড়িতে যাও, আমি পরে তোমার সাথে দেখা করে সব বলবো।
এই বলে আমার চোখের সামনে পরীটা বাতাসে মিশে গেলো।
পরীটা চলে যাবার পর আমি ঔষধ নিয়ে চলে গেলাম আলি চাচার বাড়িতে।
আলি চাচার বাড়িতে গিয়ে চাচাকে বললাম চাচা উঠো ঔষধ খাবে।
কথাটা বলে আলি চাচাকে বিছানা বসিয়ে ঔষধ খাওয়াই দিলাম।
ওনাকে ঔষধ খাওয়ানোর পর আমি বললাম। চাচা এখন ঘুমানোর চেষ্টা করো। ঔষধ খাইছো আল্লাহর রহমতে ব্যাথা কমে যাবে। আমি কালকে আসবো তোমার কাছে। মা বাবা হয়তো বাড়িতে আমার জন্য চিন্তা করছে।।
এই বলে আমি চলে গেলাম বাড়িতে।
আমি বাড়িতে যাবার পর মা বললো। নিশাদ কেথায় গিয়েছিলি৷ তোর বাবা তোকে খুঁজে আসলো তুই নাকি কোথাও নেই। গ্রামে নাকি কি ভয়ানক কান্ড শুরু হইছে, আমাদের তো ভয় হয়। রাত করে এখন থেকে বাহিরে জাবিনা।যা হাতমুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে ঘুমা৷
মায়ের কথায় আমি কথা না বাড়িয়ে ঘরে গিয়ে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।...see moer


0 Comments