মায়ের কথায় আমি কথা না বাড়িয়ে ঘরে গিয়ে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম৷
আমি শুয়ে পরার পর ঘুমিয়ে যাবো এমন একটা সময় সেই পরীটা আমার কাছে আবার আসলেন৷ পরীটা আসায় আমি চমকে গিয়ে বললাম৷
-আরে আপনি আমার ঘরে।
তখন পরী আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বাহিরে তোমার সাথে দেখা ও কথা বললে কেউনা কেউ দেখতে পারে তাই ঘরে আসলাম।
পরীর কথায় ওনাকে বললাম৷ যদি আমার মা বাবা জানতে পারে তখন কি হবে।
আমার কথায় পরীটা বললেন, তোমার মা বাবা বুঝতে পারবেনা৷ তুমি আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করছিলে না, আমি কোথায় থাকি, নাম কি আমার৷
আমার নাম, জারা, আমি থাকি তোমাদের গ্রামের শেষের দিকে যে বাঁশঝাড়টা ওখানে।
আমার পরিচয় তো পেয়ে গেলা এখন আমি আসি৷ তোমার কাছে অন্য সময় আসবো৷
এই বলে চলে গেলেন পরীটা।
পরী চলে যাওয়ার পর আমি ঘুমিয়ে গেলাম৷
পরেরদিন সকালে একজন এসে বাড়িতে বলে গেলো। সবাইকে আমতলায় ডাকছে, গ্রামের সবাই ওখানে জড়ো হইছে।
ওনার খবর পেয়ে আমি উঠে নাস্তা করে আম তলায় রওনা করলাম। সেখানে যাওয়ার আগে আলি চাচার বাড়িতে গেলাম৷ গিয়ে দেখলাম আলি চাচা আল্লাহর রহমতে বেশ সুস্থ। আমাকে দেখে আলি চাচা বললো নিশাদ কোথায় যাচ্ছিস, শুনলাম গ্রামের সবাই একসাথে হইছে কি নিয়ে নাকি আলোচনা করবে।
-হ্যাঁ চাচা ঠিক শুনছো, আমি ওখানেই যাচ্ছি, তোমার পেট ব্যাথা কি কমছে, তুমি কি জাবা ওখানে।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন, আমি আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটি সুস্থ, চল আমিও জাবো, দেখি গ্রামের মানুষ কি বলে।
এই বলে আমি ও আলি চাচা চলে গেলাম আম তলায়। ওখানে গিয়ে দেখি আম গাছের নিচে সবাই বসে৷
সবাই একসাথে হওয়ায় একজন মুরুব্বি বলতে শুরু করলেন৷ ওনি বললেন৷ সবাইকে একসাথে করার একটাই উদ্দেশ্য, দুদিন ধরে গ্রামে আজব কাহিনী ঘটছে, কোন এক অশুভ আ*ত্মা বা জ্বীন আমাদের গ্রামের মানুষদের ধরে মে*রে ফেলছে, আমাদের ধারণা এটা তান্তিকের সাথে থাকা জ্বীনের কাজ৷ মনে আছে তান্তিক একটা ছাগল বলি দিয়ে তাঁর র*ক্ত দিয়ে কাকে জানি ডাকছিলো পুকুরে থাকা জ্বীনদের বন্ধি করতে। সেই জ্বীনটা হতে পারে৷ আমরা সঠিক না এটা আমাদের ধারণা৷ এখন এই জ্বীনের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের কোন কবিরাজের কাছে যেতে হবে, বা কোন কবিরাজ নিয়ে আসতে হবে গ্রামে।
সেই মুরুব্বির কথায় সম্মতি জানালেন৷ সবাই বললেন তাই করা হোক, কবিরাজকে নিয়ে আসা হোক৷
সবাই মতামত দেয়ায় ঠিক করা হলো কয়জন জানে কবিরাজের বাড়িতে, এরকম একটা সময় চারিদিকে অন্ধকার করে শুরু হলো বৃষ্টি, বৃষ্টি শুরু হলো সবাই যে যাঁর বাড়িতে যেতে লাগলেন। যাবার আগে বলে গেলেন বৃষ্টি থামলে তখন জাবে কবিরাজ নিয়ে আসতে।
তো সবাই বাড়িতে যাবার পর অপেক্ষা করতে থাকে বৃষ্টি থামার। কিন্তু বৃষ্টি আর থামেনা, সারাদিন বৃষ্টি হয়ে সন্ধার দিকে থেমে যায় বৃষ্টি।
সন্ধার দিকে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় সবাই ভাবে আজ আর কবিরাজ আনা হবেনা কালকে নিয়ে আসবে৷
এই ভেবে সন্ধায় বৃষ্টি থামায় যে যাঁর মতো কাজ করে কেউবা হাটবাজারে যায়।
এদিকে সেদিন রাত নয়টা দশটার দিকে ঘটে আরেকটা ভয়া*নক ঘটনা। এবার আর একজন দুজন না গ্রামের একি সময় মা*রা যায় চার চারজন মানুষ।
দুজন মা*রা যায় গ্রামে একদিকে আর দুজন মা*রা যায় অন্য দিকে।
দুইদিকে মিলে চারজন মা*রা যাওয়ায় গ্রামের সবাই ছুটে যায় তাঁদের কাছে।
পরে চারজনের লা*শ এক জায়গায় করা হয়।
ওঁদের লা*শ এক জায়গায় করার পর শোনা হয় এক ভয়া*নক কথা।
একজন মানুষ বলে, এই দুজন মা*রা যাবার সময় যখন চিৎ*কার করে, ওঁদের চিৎ*কারে আমি দূর্ত বাড়ির বাহিরে গিয়ে দেখি ওদের লা*শের পাশে তান্তিক দাঁড়িয়ে আছে যে তান্তিককে আমরা সবাই মে*রে ফেলে কব*র দিয়েছি। আমি বের হওয়ায় তান্তিক বাতাসে মিশে যায়।
অন্য দিকে আরেকজন বলে৷ আমি দেখছি এই দুজনের লা*শের পাশে উচু লম্বা একটা জ্বীনকে। জ্বীনটার চোখগুলো সাদা হাতে একটা তরবারি৷ আমি বের হতে জ্বীনটা বাতাসে মিশে যায়।
কি একটা অবস্থা একি সময়ে গ্রামের দুই দিকে চারজন মানুষ মা*রা যায়। দুজনের লা*শের পাশে দেখা যায় তান্তিককে আর দুজনের পাশে দেখা যায় একটা জ্বীনকে। এর মানে গ্রামের মানুষদের একজন মা*রছেনা মা*রছেনা দুজন৷
চারজন মানুষ একি সময় মা*রা যাওয়ায় গ্রামের সবাই তো ভয়ে একদম শেষ। অনেকে ভয়ে বলতে শুরু করে, আমরা মনে হয় লোভে পড়ে বিপদ ডেকে নিয়ে আসছি। আমরা লোভে পড়ে তান্তিককে গ্রামে নিয়ে এসে সেই পুকুর থেকে জ্বীনদের সোনার পুতুল সোনার মোহর না নিলে এরকম সমস্যা হতোনা৷
তখন অনেকেই বলতে শুরু করলো হ্যাঁ এখন বুঝি লোভের কারণে জিবনটা চলে যাবে।
এসব বলতে বলতে সেই লা*শ চারটার রাতের বেলাই গোসল করিয়ে ক*বর দেয়া হলো। ক*বর দেয়া শেষে ভয়ে যে যাঁর বাড়িতে চলে গেলেন৷
সবার মতো আমিও বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম৷
পরেরদিন দিনের বেলা আবার গ্রামের সবাই এক জায়গায় জড়ো হলেন৷ আর বলতে লাগলেন আর দেরি করা ঠিক হবেনা কয়েকজন চলে যাও কবিরাজের খোঁজে আর একজন কবিরাজ নিয়ে আসো।
তখন কয়েকজন বললেন, এক মিনিট আমরা কবিরাজ নিয়ে আসতে জাবো ঠিক আছে। কিন্তু আরেকটা কাজ করতে হবে। আমাদের গ্রামের যাঁরা মা*রা গেছে অনেকেই বলে তাঁদের তান্তিক মা*রছে, কিন্তু তান্তিককে তো আমরা ক*বর দিয়ে দিছি, এখন কয়েকজন গিয়ে কবর খুঁড়ে দেখেন তো তান্তিকের লা*শ ক*বরে আছে কিনা৷
তখন কয়েকজন বললেন হ্যাঁ ঠিক আমরা কয়জন ক*বর খুড়ে দেখি আর তোমরা কয়েকজন যাও কবিরাজ নিয়ে আসতে।
তো কথামতো সেটাই করা হয়। দুই দলে ভাগ হয়ে কয়েকজন যায় কবিরাজ নিয়ে আসতে আর কয়েকজন যায় তান্তিকের ক*বরের কাছে।
তান্তিকের ক*বরের কাছে যাবার পর মাটি সরিয়ে কব*রের ভিতরে দেখা হয় তান্তিকের লা*শ ঠিকি আছে কিনা৷ কিন্তু দেখা যায় তান্তিকের লা*শ ঠিকি আছে ক*বরে।
ক*বরে লা*শ ঠিক আছে দেখে আবার কবরে মাটি দিয়ে ঠিকঠাক করে সবাই চলে আসে আম গাছের নিচে৷ সেখানে এসে সবাই অপেক্ষা করতে থাকে কবিরাজের জন্য।
এভাবে বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর যাঁরা কবিরাজ নিয়ে আসতে গেছে তাঁরা একজন কবিরাজ নিয়ে আসে।
কবিরাজ নিয়ে আসার পর সবাই গোল হয়ে বসে কবিরাজকে বলে। কবিরাজ সাহেব আপনি আসছেন৷ আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন তো আমাদের গ্রামের এই সমস্যাটা কেন হচ্ছে। গ্রামের মানুষদের ও বা কে মা*রছে৷
তখন কবিরাজ সবার মাঝে বসে বললো ঠিক আছে আমি দেখছি আসল ঘটনা কি৷ এই বলে কবিরাজ সেখানে বসে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা পড়তে লাগলেন এমন সময় সবার সামনে অদৃশ্য কেউ কবিরাজকে শূন্যে তুলে আচার মা*রলেন।
কবিরাজকে এমন জোড়ে আচার মার*ছে যে কবিরাজ, চিৎ*কার দিতে দিতে বলছে আমাকে ধরুন তারাতাঁরি এই গ্রাম থেকে বের করুন আমাকে, নইলে বাঁচতে দিবেনা আমাকে মে*রে ফেলবে।
কবিরাজের কথায় একজন বললেন, কি হইছে আপনার। আপনাকে কে শূন্যে তুলে আচার মা*রছে। আর আমাদের গ্রামের বিষয়ে কি জানতে পারলেন।
তখন কবিরাজ বলেন আমি কিছুই বলতে পারবোনা৷ বললে আমার জিবন হারাতে হবে, আমার জিবনের মায়া আগে। আমাকে তারাতারি গ্রাম থেকে বের করুন দয়া করে।
কবিরাজের কথায় কোন উপায় না পেয়ে কবিরাজকে গ্রামের বাহিরে নিয়ে যাওয়া হলো।
কবিরাজ চলে যাবার পর এদিকে সবাই বলাবলি করতে লাগলো এটা কি হলো। কবিরাজ তো পালিয়ে গেলো কিছুই বললোনা। নিশ্চয়ই এটা বড় কোন সমস্যা হবে। শক্তিশালী ও ভয়ং*কর কিছু হয়তো আছে আমাদের গ্রামে৷
এই ভেবে অনেকে বলতে শুরু করলেন। বাঁচতে হলে আজকে রাতের মধ্যে আমাদের আরেকজন কবিরাজ নিয়ে আসতে হবে।
এই কথামতো আবারো কয়েকজন বেড়িয়ে গেলেন অন্য একজন কবিরাজ নিয়ে আসতে।
কবিরাজ আসতে যাওয়ার পর বিকালে দিকে একজন কবিরাজ নিয়ে গ্রামের দিকে আসতে লাগলেন।
কবিরাজকে নিয়ে আসার সময় কবিরাজ যখন গ্রামের মাটিতে প্রবেশ করছে, তখনি বলে উঠছে ওরে বাবারে। আমি এই গ্রামে ঢুকতে পারবোনা। এই গ্রামে অনেক ভয়ানক কেউ আছে। সুধু একজন না কয়েকজন আছে। আমি এই কাজ করতে পারবোনা। আমি ফিরে যাচ্ছি আপনারা অন্য যাকে পান তাঁকেই গিয়ে নিয়ে আসুন৷
এই বলে কবিরাজ সেখান থেকে ফিরে যায়।
আগের কবিরাজ তো তাও গ্রামে আসার পর জ্বীনের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করছে, এই কবিরাজ তো গ্রামে ঢুকার আগে পালিয়ে গেলো।
কবিরাজ পালিয়ে যাবার পর সবাই অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে।
রাত হলেই বিপদ নেমে আসবে। এই ভেবে সবাই বললেন। জিবন বাঁচাতে কেউ রাতে বের হবেন না৷ আমরা আজকে কোন কবিরাজকে নিয়ে আসতে পারিনি তাঁতে কি কালকে নিশ্চয়ই পারবো। এখন সবাই বাড়িতে চলে যাও আর যাঁর যেটা কাজ আছে রাত হবার আগে করে নাও।
ওনাদের কথামতো সেটাই করো হলো সবাই চলে গেলেন বাড়িতে।
এদিকে তখন আমি ও আলি চাচা হাঁটতে লাগলাম বাড়ির দিকে।
বাড়ির দিকে হাঁটার সময় চাচাকে বললাম।
আলি চাচা, তোমার কি মনে হয়। গ্রামে এসব কে করছে।
আমার কথার জবাবে আলি চাচা বললেন, নিশাদ, তোকে একদিন বলছিলাম না, লোভ মানুষের জিবনটাকে শেষ করে দেয়। লোভ করা ভালোনা। গ্রামের মানুষ লোভ করার শাস্তি পাচ্ছে। গ্রামে পুকুরে শান্তভাবে বসবাস করছিলো একটা জ্বীন পরিবার। সেই জ্বীন পরিবারকে বন্ধি করে তাঁদের সম্পদ নিয়ে নিলো গ্রামের সবাই, এসবের কি শাস্তি পাবেনা। ঐ জ্বীন পরিবারের কোন আত্মীয় স্বজনরা এই কাজটা করছে। তুই দেখে নিস কিছুদিনের মধ্যে এই গ্রামের অনেক মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে।
আলি চাচার কথায় আমি বললাম। এর থেকে বাঁচার কি কোন উপায় নেই৷ কোন কবিরাজ তো সঠিক ভাবে বলতে পারছেনা আসল ঘটনা কি।
তখন আলি চাচা বললো, বাড়িতে যা সময় হলে সব কিছু জানতে পারবি। আর রাত হলে বাহিরে বের হবিনা যেনো।
আলি চাচার কথায় আমি বললাম। আমাকে না বলে তুমি সাবধান হও। তুমিতো রাত করে বের হও গ্রামের সবার বাড়িতে যাও, কারো চিকিৎসা লাগবে কিনা বলে, এখন গ্রামে সমস্যা চলছে তাই এখন আর রাতে বাহিরে বের হবানা।
আমার কথায় আলি চাচা রাজি হলে আমি বাড়িতে চলে গেলাম।
বাড়িতে গিয়ে সেদিন রাতে খাবার খেয়ে ঘরে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম। আচ্ছা একটা কথা আমার কাছে যে পরীটা আসে জারা, ঐ জারা পরীকে জিজ্ঞেস করলে তো হয় গ্রামে আসল ঘটনা কি৷ হ্যাঁ হ্যাঁ আমার তো এই বিষয়টা মাথায় ছিলোনা।
সেই জারা পরী আমার কাছে আসলে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো।
এই ভেবে না ঘুমিয়ে জেগে অপেক্ষা করতে লাগলাম৷
এর ঠিক কিছুক্ষন পর পরী আমার কাছে আসলে, আমি বললাম।
আপনি আসছেন। আমি আপনারি অপেক্ষা করছিলাম।
আমার কথায় জারা পরী বললেন। কেনো আমার অপেক্ষা করছিলে কেনো।
তখন আমি পরীকে সব ঘটনা খুলে বললাম।
পরীকে বললাম। গ্রামের এরকম সমস্যা হওয়ার আসল কারণ কি কে করছে এসব। দুজন কবিরাজ নিয়ে আসলাম, তাঁরা তো বলতে পারলোনা কিছু উল্টো পালিয়ে গেলো। আপনি একটু খোঁজ নিয়ে আমাকে জানান তো আসল ঘটনা কি।
আমার কথায় পরী বললো ও এই কথা ঠিক আছে আমি খোঁজ নিয়ে আসছি এখনি।
এই কথাটা বলে পরী চলে গেলেন আর কিছুক্ষন পর ফিরে আসলেন।
পরী ফিরে আসায় ওকে জিজ্ঞেস করলাম। কিছু জানতে পারলেন কি৷
আমার কথার জবাবে জারা পরী বললেন। হ্যাঁ অনেক কিছু জানতে পারছি, তোমাদের গ্রামের অবস্থা খুব খারাপ, তোমাদের গ্রামের মানুষ সেই পুকুরে থাকা যে জ্বীন ও পরীকে বন্ধি করছে সেই জ্বীনের বড় ছেলে তাঁর মা বাবাকে বন্ধি করে তাঁদের সোনার পুতুল ও সোনার মোহর নেয়ার প্রতিসোধ নিতে আসছে। ও একটা শক্তিশালী যোদ্ধা জ্বীন, তাই ও সব সময় হাতে তরবারি নিয়ে ঘুরে। সুধু ঐ জ্বীনটা না। তোমাদের গ্রামের সবার পিছনে লাগছে তান্তিকের সাথে থাকা দুজন পি*শাচ জ্বীন।
তোমাদের গ্রামের সবাই পিছনে লাগছে তান্তিকের সাথে থাকা দুজন পি*শাচ জ্বীন।
পরীর মুখে এসব কথা শুনে অবাক হয়ে বললাম কি বলো এগুলা সত্যি। গ্রামে তাহলে দুই দল জ্বীন আছে৷
-হ্যাঁ, গ্রামে দুই রকমের জ্বীন আছে এই গ্রামে। এইযে আমি তোমাকে কথাগুলো বললাম, এই কথাগুলো তুমি কাউকে বলতে পারবেনা, তুমি যদি কাউকে বলো তাহলে সবাই তোমাকে জিজ্ঞেস করতে তুমি এসব কিভাবে জানলে, তখন সবার কাছে আমার কথা বললে সমস্যা হবে, সবাই ভাববে সবার মৃ*ত্যুর জন্য তোমার ও হাত আছে। তাই তুমি জানতে চাইলে বলে আমি সব খবর জেনে তোমাকে বললাম, তুমি আবার এসব কথা কাউকে বলোনা যেনো।
পরীর কথায় ওকে বললাম ঠিক আছে বলবোনা। তোমার কথায় অনেক চিন্তা হচ্ছে, গ্রামের সবার অবস্থা খুব খারাপ৷ দুইদল জ্বীন কি কাউকে ছাঁড়বে, আচ্ছা তুমি এখন যাও, কালকে এসো আমি এখন ঘুমাবো।
আমার কথামতো পরী চলে যাওয়ায় আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি ঘুমানোর পর বেশিক্ষন ঘুমাতে পারিনি, একজনের চিৎ*কারে ঘুম ভেঙে গেলো।
ঘুম ভেঙে যেতে বুঝতে পারলাম। আজো কেউ না কেউ মা*রা গেছে, এটাতো রোজ রাতের কাজ, তাই আর রাতে কোথাও বের হলাম না ভাবলাম সকালে যাবো।
এই ভেবে আবার ঘুমালাম।
পরেরদিন সকালে গ্রামে গিয়ে জানতে পারলাম, একজন না গতরাতে নারী পুরুষ মিলে মা*রা গেছে পাঁচজন।
পাঁচজনের লা*শ লাইন করে শুরু রাখা হইছে৷
এক রাতে পাঁচজনের মৃ*ত্যু, এরকম ভাবে চললে কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে পুরু গ্রামের মানুষ।
কার জন্য কে কাঁদে, এত মানুষের মৃ*ত্যু, পাঁচজন মা*রা যাওয়ায় ওঁদের একসাথে জা*নাযা করিয়ে সবাইকে পাশাপাশি কবর দেয়া হলো।
ওঁদের ক*বর দিয়ে সেখানেই সবাই আলোচনা করতে লাগলেন। সবাই বলতে লাগলেন আজকে যেভাবে হোক কবিরাজ আমরা গ্রামে নিয়ে আসবো, যেভাবে হোক গ্রামে কি সমস্যা এটা জানবো।
তখন কিছু লোক বললেন, আচ্ছা আমাদের গ্রামে তো কবিরাজ আসলে সমস্যা হয়, কবিরাজ ভয়ে কিছু বলেনা৷ এর থেকে আমরা একটা কাজ করি, আমরাই চলে যাই কবিরাজের কাছে। আমরা কবিরাজের কাছে গেলে অনন্ত কবিরাজ বলতে পারবে গ্রামে আসল সমস্যা কি৷
এই কথাটাই সবাই মত জানায়, সবাই মত জানানোর পর চলে যায় অন্য গ্রামে একজন কবিরাজের কাছে।
সবাই কবিরাজের কাছে যাবার পর সেই কবিরাজকে সব ঘটনা খুলে বলে।
সব শুনে সেই কবিরাজ খোঁজ নিয়ে যানায় আপনাদের গ্রামের অবস্থা খুব খারাপ, আপনারা আপনাদের গ্রামে থাকা পুকুরে যে জ্বীনদের বন্ধি করিয়েছেন, সেই জ্বীনের বড় ছেলে গ্রামে এসে ওর মা বাবাকে বন্ধি করা আর ওঁদের সোনার পুতুল সোনার মোহর নেয়ার প্রতিসোধ নিচ্ছে। সুধু তাইনা তোমাদের গ্রামের আরো দুই তিনটা পি*শাচ জ্বীন আছে, এরা হলো তান্তিকের বন্ধি করা জ্বীন। তান্তিক ঐ জ্বীনদের বন্ধি করিয়ে কাজ করাতো। আপনারা যে তান্তিককে হ*ত্যা করছেন, তান্তিকের হ*ত্যার ফলে সেই পি*শাচ জ্বীনগুলে মুক্ত হতে পারেনা, ওঁরা আপনাদের গ্রামেই ঘুরাঘুরি করে আর প্রতিসোধ নেয়ার জন্য গ্রামের মানুষকে হ*ত্যা করে।
কবিরাজের কথায় গ্রামের সবাই ভয়ে ভয়ে বলেন, আপনি পারবেন না৷ ঐ জ্বীনদের বন্ধি করে আমাদের বাঁচাতে।
তখন কবিরাজ বললেন না বাপু, আমি এই কাজ করতে পারবোনা, ঐ জ্বীনদের সাথে লড়াই করার মতো শক্তি নেই আমার। আমি ওঁদের ছাড়ানো তো দূরের কথা, আপনাদের গ্রামে যেতেই পারবোনা।
সেই কবিরাজের কথায় সবাই আরো অন্য কবিরাজের খোঁজ করতে থাকে, কিন্তু সেদিন আর কেউ অন্য কবিরাজের খোঁজ পাননা।
অন্য কবিরাজের খোঁজ না পেয়ে ব্যার্থ হয়ে সবাই সেদিনের মতো গ্রামে ফিরে আসে আর সবাইকে সব ঘটনা খুলে বলে।
সব ঘটনা শুনে গ্রামের মানুষ বুঝতে পারে ওঁরা কতবড় ভুলটাই করছে লোভে পড়ে।
সবাই বলাবলি করে আমাদের উচিৎ হয়নি সেই পুকুরের জ্বীনদের বন্ধি করে তাঁদের সম্পদগুলো নিয়ে নেয়া। এখন যেভাবে হোক ঐ জ্বীনদের হাত থেকে বাঁচতে হবে।
এদিকে সন্ধা ও নেমে আসছে, এটা দেখে সবাই বললেন এখন যে যাঁর বাড়িতে যাও, আজ তো আর কবিরাজের সন্ধান পেলাম না কালকে আবার বের হবো।
এই বলে সবাই যে যার মতো বাড়িতে চলে গেলেন।
সবাই বাড়িতে চলে যাবার পর সেদিন রাত আটটা নয়টার দিকে ঘটে একটা ঘটনা।
গ্রামের একজনের বাড়িতে আগুন লেগে সেই বাড়ির সকলে পুড়ে মা*রা যায়৷ সেই বাড়িতে আগুন লাগানোর সময় গ্রামের সবাই ছুটে আসে সেখানে আগুন নিভাতে কিন্তু আগুন নিভিয়ে ওদের কেউ বাঁচাতে পারেনি৷
ওঁরা পুড়ে ছাই হবার পর সবাই বলাবলি করে। এঁদের বাড়িতে কে আগুন লাগালো, এটাকি ভুল বসত আগুন লাগছে, নাকি ঐ জ্বীনদের এখানে কোন হাত আছে৷
জ্বীনদের কথা বলার সাথে সাথে সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেখানে আসলেন উচু লম্বা একজন জ্বীন, ওনার হাতে একটা তরবারি, ঐ জ্বীনটাকে দেখে ভয়ে সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ভয়ে কাঁপতে লাগলেন।
এমন সময় ঐ জ্বীনটা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন। গ্রামবাসী, আমি তোমাদের সবাইকে এখানে জড়ো করছি ইচ্ছকৃতভাবে। আমি এই বাড়ির একজনের উপর ভর করে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছি এর দুইটা কারণ, এক গ্রামের সবাইকে এখানে জড়ো করা দুই, এই বাড়িতে আছে আমাদের সম্পদ সোনার ঐ পুতুলটা।
গ্রামবাসী শুনে রাখো, তোমাদের গ্রামের ঐ পুকুরে আমরা থেকে আসছি শত বছর ধরে, আমি আমার মা বাবা ও আদরের একটা ছোট বোন, আমি একটা কাজে বাহিরের একটা দেশে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে খবর পাই তোমরা গ্রামের একজন তান্তিককে নিয়ে এসে আমার মা বাবাকে বোতল বন্ধি করে আমাদের পূর্ব পুরুষের রাখা সব সম্পদ ভাগাভাগি করে নিছো, তোমরা তান্তিককে দিয়ে আমার মা বাবাকে বন্ধি করাওনি সুধু, সেদিন তান্তিক মে*রে ফেলছে আমার আদরের ছোট বোনকে।
তান্তিকের ভাগ্য ভালো, ও তোমাদের হাতে মা*রা গেছে, ও মা*রা না গেলে আমি ওকে ভয়ং*করভাবে মে*রে ফেলতাম।
গ্রামবাসী, তোমাদের জন্য আমার মা বাবা বন্ধি, তোমাদের জন্য আমার ছোটবোন মা*রা গেছে, তোমাদের সবার কাছে আমাদের সম্পদ সোনার মোহর রাখা আছে, আমি তোমাদের কাউকে ছাড়বোনা। আমি এখন ভালো রূপে আছি তাই কারো কিছু হচ্ছেনা৷ এরপর আমাকে যে দেখবে সে ভয়ে কাঁপুনি দিয়ে মা*রা যাবে, আমি তাঁর বুকের মধ্যে চাপ দিয়ে তাঁকে মে*রে ফেলবো৷
কথাটা বলে সবার সামনে আলোর ঝলকানিতে সেখান থেকে চলে যায় সেই জ্বীন৷
ঐ জ্বীনটা চলে যাবার পর গ্রামের সবাই কিছুক্ষন পাথরের মতো হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো৷ সবাই এটা কি শুনলো।
কিছুক্ষন পর সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে বললো৷
সবাই তো শুনলে ও কি বললো৷ এখন কালকে যেভাবে হোক কোন কবিরাজকে এই গ্রামে নিয়ে আসতে হবে নইলে আমরা কেউ বাঁচবোনা।
কথাটা বলে সবাই ভয়ে যে যার বাড়িতে যেতে লাগলেন।
সবার মতো আমি যাচ্ছি বাড়ির দিকে। এমন সময় জারা পরী আসলো আমার কাছে, জারাকে দেখে বললাম।
আরে তুমি, তুমিকি জানো, গ্রামের সবাই সবকিছু জেনে গেছে, তুমি আমাকে যেসব কথা বলছিলো ওসব সত্যি, কবিরাজ সবাইকে ঐ একি রকম কথা বলছে, জানো অনেক ভয় করছে, একটু আগে গ্রামের সবার সামনে আসছিলো সেই জ্বীনটা, ও আজ সব ঘটনা খুলে বলছে, সেই জ্বীনটা এটাও বলছে গ্রামের কাউকে ছাঁড়বেনা যাঁরা যাঁরা ওর মা বাবাকে বন্ধি হওয়ার সাথে জড়িত ছিলো৷
আমার কথায় জারা পরী বললো। শোনো, পাপ কখনও ছেড়ে দেয়না, গ্রামের মানুষ ঐ জ্বীনটার মা বাবার সাথে তো অন্যায় করছে তাইনা৷
জারার কথায় ওকে বললাম, আচ্ছা ঐ জ্বীনটাকে বন্ধি করা বা গ্রাম থেকে ছাড়ানোর কোন উপায় বলতে পারবে কি।
আমার কথায় জারা বললো, না নিশাদ, আমি এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারবোনা এতে আমার ক্ষতি হতে পারে।
-শোনো তুমি বাড়িতে যাও তোমার বাড়ি চলে আসছে, আমি কালকে দিনের বেলা আসবো তোমার কাছে, তখন কথা বলবো।
কথাটা বলে জারা পরী চলে গেলেন৷
ও চলে যাবার পর আমি বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরেরদিন গ্রামের সবাই একসাথে হলেন, একসাথে হয়ে বললেন, আজকে যেভাবে হোক কবিরাজ নিয়েই গ্রামে আসবো, কবিরাজ ছাড়া গ্রামে আসবোনা৷
এই কথাটা বলে কয়েকজন চলে গেলেন দূরে কবিরাজের খোঁজে। কবিরাজের খোঁজে যাবার পর আমি আলি চাচার বাড়িতে গেলাম।
আলি চাচার কাছে যাবার পর ওনি বললেন, দেখলি, সেদিনি গ্রামের সবাইকে মানা করছিলাম, লোভ করোনা। লোভের কারণে আজ গ্রামের এসব অবস্থা হচ্ছে, এখন দেখ শেষ পর্যন্ত এই মৃ*ত্যুর খেলা কোথায় গিয়ে থামে।
আলির চাচার কথায় ওনাকে বললাম। ঠিক বলছো চাচা, গ্রামের অবস্থা খুব খারাপ, তাই এখন রাতে সাবধানে বাহিরে বের হবে।
এই বলে আমি চলে গেলাম বাড়িতে। বাড়িতে যাবার পর দেখলাম জারা পরী আমার রুমে বসে আছে।
জারাকে দেখে বললাম। জারা তুমি, তুমি আমার ঘরে বসে, যদি মা বাবা কেউ দেখে ফেলতো তখন কি হতো।
আমার কথায় জারা বললেন, দেখবেনা, আমাকে ওঁরা দেখতে পারবেনা, কোথায় গিয়েছিলে তুমি।
তখন জারাকে বললাম, ঐ গ্রামের সবাই মিলে আলোচনা করছিলো আজকে নাকি বড় কোন কবিরাজ নিয়ে আসবে, ওখানেই ওঁদের কথা শুনছিলাম।
আমার কথা শুনে জারা পরী মাথা নিচু করে মন খারাপ করে বললো, জানো চিন্তা হচ্ছে।
-ওর কথায় আমি বললাম, চিন্তা, কিসের চিন্তা।
তখন জারা বললো, যদি তোমার গ্রামে বড় কোন কবিরাজ আসে, তাহলে ঐ জ্বীনদের সাথে সাথে আমার কথাও জানতে পেরে জাবে, সবাই এটাও জানবে আমি তোমার কাছে আসি। কবিরাজ আমার কথা জেনে জাবার পর যদি সবার সাথে আমাকেও বন্ধি করে তখন কি হবে। ওটা ভেবেই ভয় হচ্ছে। নিশাদ আমি বন্ধি হতে চাইনা, আমি তোমার কাছে আসতে চাই কারণ তোমাকে আমার ভালোলাগে।
জারা পরীর কথায় ওকে বললাম, জারা তুমি ভয় পেওনা, তোমার কথা কবিরাজ জানলে আমি বলবো তুমি ভালো, তুমি কারো ক্ষতি করোনা।
তখন জারা বললো, তোমার কাছে আমি ভালো কারণ তুমি আমার বিষয় জানো, কিন্তু যে আমাকে কখনও দেখেনি সে হয়তো ভাববে আমি খারাপ, নিশাদ একটা বুদ্ধি আছে যে বুদ্ধিটা করলে আমার কথা কেউ জনাতে পারবেনা।
-ওর কথায় আমি বললাম, কিহ বুদ্ধি। তখন জারা বললো, তুমি যে কোন একটা পাত্র বা বোতল নিয়ে আসো, তুমি বোতল নিয়ে আসলে আমি ওটার ভিতরে ঢুকবো, এরপর তোমাকে একটা দোয়া শিখিয়ে দিবো, তুমি এই দোয়াটা পড়ে বোতলের মুখ আটকে দিবে, তুমি দোয়াটা পড়ে বোতলের মুখ আঁটকে দিলে আমি এখানে বন্ধি থাকবো তখন সেই কবিরাজ আমার কথা জানতে পারবেনা।
যখন কবিরাজ আবার গ্রাম ছেড়ে চলে যাবে, তখন এই বোতলের মুখ খুলে দিলে আমি বাহিরে বেরতে পারবো৷ আমি তোমার উপর বিশ্বাস রেখে এই কথাটা বললাম, তুমি যদি বোতলের মুখ খুলে না দাও, তাহলে আমি কখনও মুক্ত হতে পারবোনা তোমাকে বিশ্বাস করে কথাটা বললাম।।
জারার কথায় ওকে বললাম তুমি কোন চিন্তা করোনা আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারো৷
এই বলে একটা বোতল এনে জারার কথামতো কাজ করলাম আর জারা বোতলে ঢুকে গেলেন। জারা বোতলে ঢুকায় আমি দোয়া পড়ে বোতলের মুখ লাগিয়ে সেই বোতলটা আমার ঘরে লুকিয়ে রাখলাম৷
ওদিকে বিকালের দিকে খবর পেলাম গ্রামের সবাই একজন বড় কবিরাজ নিয়ে আসছেন গ্রামে। ...see moer


0 Comments