ওদিকে বিকালের দিকে খবর পেলাম, গ্রামের সবাই একজন বড় কবিরাজ নিয়ে আসছেন গ্রামে।
কবিরাজ আসার খবর পাওয়ায় আমি চলে গেলাম সেখানে।
ওখানে গিয়ে দেখলাম সবাই জড়ো হইছে কবিরাজ আসার খবর পেয়ে।
সবাই আসায় কবিরাজ একটা জায়গায় বসে বললো।
-আমি জানি আমার আগে অনেক কবিরাজ আসছিলো এখানে। আমি এটাও জানি ওঁরা ভয়ে পালিয়ে গেছে, আপনাদের গ্রামে শক্তিশালী তিনটা জ্বীন আছে, আমি আমার সাথে থাকা শক্তিশালী জ্বীনদের মাধ্যমে এসব খবর জেনেছি।
আপনারা চিন্তা করবেন না৷ আমি অন্য কবিরাজের মতো পালিয়ে জাবোনা৷ বরং ওঁদের বন্ধি করে নিয়ে যাবো এখান থেকে।
এই বলে কবিরাজ সবার মাঝে বসে সামনে তিনটা বোতল রেখে দোয়া কালাম, আরো কি কি জানি পড়তে লাগলেন। এভাবে বেশ কিছুক্ষন চলার পর হঠাৎ করে আশপাশের গাছপালা গুলো প্রচন্ড জোড়ে নড়াচড়া করতে লাগলো।
এভাবে গাছগুলো নড়াচড়া করার কিছুক্ষন পর দুইটা বোতলে এসে ঢুকলো কালো ধোঁয়ার মতো কিছু একটা।
সেই দুটো বোতলে কালো ধোঁয়ার মতো কিছু একটা ঢুকে যাওয়ায় সাথে সাথে কবিরাজ বোতলের মুখ লাগিয়ে দিয়ে বললেন।
আপনাদের কোন চিন্তা নেই৷ আমি দুটো জ্বীনকে বন্ধি করতে পেরেছি, আরেকটা জ্বীন আছে ওনি ভালো ও বৃদ্ধা জ্বীন, ওনি আপনাদের কোন ক্ষতি করবেনা৷ আপনাদের যাঁরা ক্ষতি করতো আমি তাঁদের বন্ধি করছি। এখন থেকে আশা করি কোন সমস্যা হবেনা৷
এই কথাটা বলে কবিরাজ চলে যায় গ্রাম থেকে।
কবিরাজ চলে যাওয়ায় সবাই একটু সাহস পায়৷ সবার মুখে হাসি ফুটে উঠে।
সবাই খুশিতে বলাবলি করে, যাক তাহলে এখন থেকে আর কোন সমস্যা হবেনা৷ কেউ আর মা*রা যাবেনা।
এসব বলে যে যার বাড়িতে চলে যায়, সবাই বাড়িতে যাওয়ায় আমিও চলে যাই বাড়িতে৷
আমি বাড়িতে যাবার পর জারা পরীকে বন্ধি করা বোতলটা বের করি, বোতলটা বের করে ওটার মুখ খুলে দিতেই বাহিরে বেড়িয়ে আসে জারা পরী।
জারা বেড়িয়ে এসে, আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বলে, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ নিশাদ, আমাকে সাহায্য করার জন্য, যে কবিরাজ গ্রামে আসছিলো ও অনেক শক্তিশালী ছিলো, ও নিজের কালোজাদুর মাধ্যমে দুটো শক্তিশালী পি*শাচ জ্বীনকে বন্ধি করে নিজের কাছে রাখছে, কবিরাজ ঐ পি*শাচ জ্বীন দুটোকে দিয়ে কাজ করায়, ওঁদের যা আদেশ করে ওরা তাই করে৷
তুমি আমাকে এই বোতলের ভিতরে আঁটকে না রাখলে, কবিরাজ বিনা অপরাধে আমাকে বন্ধি করে নিয়ে যেতো। তোমার জন্য আমি বেঁচে গেলাম। কিন্তু নিশাদ, আমার তো মনে হয় এখনো এই গ্রামে একজন জ্বীন আছে।
পরীর কথায় ওকে বললাম,হ্যাঁ কবিরাজ ও তাই বলছে। কবিরাজ দুটো জ্বীনকে বন্ধি করছে, আর একটা জ্বীন নাকি ভালো তাই ওকে বন্ধি করেনি।
আমার কথায় জারা বললো, হ্যাঁ তোমাদের গ্রামে একজন ভালো জ্বীন আছে। আচ্ছা আমি এখন আসি, রাতে আসবো তোমার কাছে।
কথাটা বলে পরী চলে গেলেন৷
ও চলে যাবার পর আমি শুয়ে শুয়ে ভাবলাম যাক, তাহলে গ্রামের মানুষ ঐ জ্বীনদের থেকে রক্ষা পেলো।
আমার মতো অনেকেই ভাবছে তাঁরা হয়তো রক্ষা পাইছে, আর মনে হয় কোন সমস্যা হবেনা।
কিন্তু সবার ধারণা ভুল করে সেদিন রাতে ঘটলো এক মর্মান্তিক ঘটনা। সেই রাতে মা*রা গেলো একজন না দুইজন না মোট সাতজন।
একবার ভাবুন এক গ্রাম থেকে সাতজন মা*রা গেলে কি অবস্থা হতে পারে।
সাতজন মা*রা যাওয়ায় গ্রামের সবাই কান্না করতে লাগলেন। কার কান্না কে দেখে।
কবিরাজ বলছিলো দুজন জ্বীনকে বন্ধি করছে, তাইতো সাহস পেয়ে অনেকে রাতে বাহিরে বের হইছিলো। রাতে বাহিরে বের হওয়ায়, ভয় দেখিয়ে মে*রে ফেলছে সেই জ্বীন।
যাঁরা যাঁরা মা*রা গেছেন সবাইকে একসাথে করা হলো। তারপর ডিসিশন নেয়া হলে। এঁদেরকে সকালে ক*বর দেয়া হবে।
এই ভাবনা মতো কয়েকজন লা*শগুলোকে নিয়ে পাহাড়া দিতে লাগলেন।
ওঁরা পাহাড়া দেয়ায় আমি ভাবলাম বাড়িতে চলে যাই, সকাল বেলা আসবো।
এই ভেবে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় জারা পরী আসলেন।
জারা আসায় ওকে বললাম৷
-জারা এসব কিভাবে হলো। কবিরাজ তো বলছিলো কোন সমস্যা হবেনা, ও জ্বীনদের বন্ধি করছে তাহলে এসব কি।
তখন পরী বললো, নিশাদ এসব ঐ ইয়ামিন জ্বীনের চালাকি৷
ইয়ামিন জ্বীন৷ এই ইয়ামিন জ্বীনটা আবার কে।
তখন পরী বললো, আরে যে জ্বীনটা সবাইকে মা*রছে যাঁর হাতে তরবারি থাকে ওর নাম ইয়ামিন৷ যাঁর মা বাবা পুকুরে থাকতো তান্তিক যাঁর মা বাবাকে বন্ধি করছে ওর নাম ইয়ামিন৷
দিনের বেলা গ্রামবাসী যখন বড় কবিরাজ নিয়ে আসে, তখন ইয়ামিন চালাকি করে দূরে কোথাও পালিয়ে গিয়েছিলো। ইয়ামিন জ্বীন পালিয়ে গেছে ঠিকি কিন্তু তান্তিকের সাথে থাকা জ্বীন দুটো পালাতে পারেনি, কবিরাজ এসে তান্তিকের সাথে থাকা জ্বীনদের বন্ধি করে নিয়ে গেছে, কিন্তু আসল যে হ*ত্যাকারি জ্বীন তাঁকে বন্ধি করতে পারেনি।
পরীর কথায় অনেকটা অবাক হয়ে বাড়িতে চলে গেলাম৷ তাহলে এই ঘটনা৷
আমি বাড়িতে গিয়ে বাকি রাতটুকু ঘুমাতে পারিনি, গ্রামের এতো মানুষ একসাথে মা*রা গেলো। মনটা অনেক খারাপ।
পরেরদিন সকালে গোসল করে রওনা করলাম, মা*রা যাওয়া সকলের জানাযার উদ্দেশ্যে। পথে আলি চাচার দেখা। আলি চাচাও আমার সাথে হাঁটতে লাগলেন।
দুজনে কথা বলতে বলতে চলে গেলাম সেখানে। সেখানে গিয়ে সবাই মিলে জানাযা পড়িয়ে কবর দিলাম মা*রা যাওয়া সবাইকে।
সবাইকে ক*বর দেয়ার পর ওখানে আবারো আলোচনা শুরু হলো। যাঁরা বেঁচে ছিলেন।
সবাই বলতে লাগলেন। এটা কিভাবে হলো। কবিরাজ বলছিলো না জ্বীনদের বন্ধি করছে তাহলে এক রাতে সাতজনকে কে হ*ত্যা করলো। এটা নিশ্চয়ই ঐ জ্বীনের কাজ।
তখন দুজন বললেন, আমরা আবারো সেই কবিরাজের কাছে যাই, ওনাকে আবারো নিয়ে আসি।
ওনার কথায় সবাই বললেন হ্যাঁ ঠিক আছে তাই করি।
এই বলে কয়েকজন কবিরাজ আনতে জাবে, এমন সময় অদৃশ্যভাবে একটা আওয়াজ ভেসে আসলো। কেউ বলছে, খবরদার, গ্রামের কেউ কবিরাজের কাছে যাবার সাহস করলে তাঁকে রাস্তায় মে*রে ফেলবো, সুধু তাইনা তাঁর পরিবারের সবাইকে মে*রে ফেলবো।
এই আওয়াজটা শুনে ভয়ে সবাই সেখানে থেমে গেলেন। কেউ ভয়ে কবিরাজের বাড়ির দিকে যাওয়ার সাহস করলেন না।
এভাবে কিছুক্ষন চলার পর, আলি চাচা উঠে বললেন, গ্রামবাসী দেখছো তো বেশি লোভ করার ফল। সেদিনি না করছিলাম, তান্তিক নিয়ে এসোনা। তোমরা তান্তিক নিয়ে এসে সেই পুকুরে থাকা জ্বীন ও জ্বীনটার স্ত্রী বন্ধি করিয়ে ওঁদের সব সম্পদ ভাগাভাগি করে নিলে। একবারো কি ভাবলেনা এর জন্য নিজের ক্ষতি হতে পারে। ঐ জ্বীনদের সম্পদ সোনার মোহর বিক্রি করে কতদিন চলবা, সারা বছরতো আর চলতে পারবানা। লোভে পড়ে বিপদ ডেকে নিয়ে আসছো এখন ঐ জ্বীনের বড় ছেলে তোমাদের কাউকে ছাড়বেনা যাঁরা ঐ ঘটনার সাথে জড়িত ছিলে। এখনো বাঁচার একটাই পথ, যাঁর কাছে যতটুক সোনার মোহর আছে সেগুলা নিয়ে ঐ পুকুরে ফেলে দাও, আর জিবন বাঁচাতে চাইলে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাও অন্য গ্রামে, অন্য গ্রামে গিয়ে বাড়ি করো, এটাই ভালো হবে।
আলি চাচার কথায় গ্রামবাসী মাথা নিচু করে রাখলেন, ওঁদের যেনো কিছু বলার ছিলোনা৷ সেদিন আলি চাচার কথার বিরুদ্ধে না গিয়ে তান্তিককে নিয়ে না আসলে আজ হয়তো এরকম দিন দেখতে হতোনা৷
তখন আলি চাচা আবারো বললেন, সেদিন আমার কথা শোনোনি আজ শোনো নইলে কেউ বাঁচবানা।
কথাটা বলে আলি চাচা ও আমি বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম।
বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় আলি চাচাকে বললাম।
-আলি চাচা, ঐ জ্বীনটা কি আমাদের ও ক্ষতি করবেন। আমরা তো কোন দোস করিনি।
আমার কথার জবাবে আলি চাচা বললেন। না তুই আমি ও আমাদের মতো যাঁরা সেদিন ঐ জ্বীনদের সম্পদ সোনার মোহর নিয়ে আসেনি, যাঁরা তান্তিককে গ্রামে নিয়ে আসার সম্মতি দেয়নি তাঁদের কিছু হবেনা।
আসলে সত্যি বলতে পুকুরে থাকা জ্বীনেরা তো ভালো জ্বীন। ওঁদের বন্ধি করার ওঁদের বড় ছেলে প্রতিসোধ নিচ্ছে। আমি গ্রামের সবার ভালোর জন্য বললাম, ওঁরা যদি গ্রাম ছেড়ে চলে না যায় তাহলে ঐ জ্বীনকে কোন না কোনভাবে ওঁদের মে*রে ফেলবে৷
আলি চাচার কথায় আমি চলে গেলাম বাড়িতে।
এদিকে আলি চাচার কথামতো, গ্রামের লোকেরা গ্রাম ছেড়ে না গেলেও, তাঁদের কাছে থাকা সোনার মোহরগুলো নিয়ে গিয়ে ঐ পুকুরে ফেললেন।
ঐ পুকুরে সোনার মোহর ফেলার পর সবাই যাঁর যার বাড়িতে চলে গেলেন।
ওঁরা বাড়িতে যাবার পর রাতের বেলা। ভয়ে কেউ বাড়ির বাহিরে বেরতো না।
ভয়ে কেউ বাড়ির বাহিরে না বের হলেও মৃ*ত্যু আঁটকানো যেতনা। কোন না কোনভাবে সেদিন রাতেও ঐ ইয়ামিন জ্বীনটা মে*রে ফেললো কয়েকজন মানুষকে।
সেদিন রাতেও ঐ ইয়ামিন জ্বীনটা মে*রে ফেললো কয়েকজন মানুষকে।
এভাবে দিনের পর দিন গ্রামের মানুষ মা*রা যাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যে গ্রামটা ফাঁকা হয়ে যাবে।
সেই ইয়ামিন জ্বীন রাত হলে মায়াজাল সৃষ্টি করে মানুষদের ঘরের বাহিরে নিয়ে এসে মে*রে ফেলে।
রোজ রাতে, এরকম মৃ*ত্যু দেখায় আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। এক রাতে জিবনের মায়া না করে চলে গেলাম আলি চাচার বাড়িতে।
রাতের বেলা আমাকে দেখে আলি চাচা বললেন।
-আরে নিশাদ, বাবা তুই রাতের বেলা আমার বাড়িতে। তুই কি জানিসনা গ্রামের অবস্থা ভালোনা। সেই জ্বীনটা যদি তোর কিছু করতো।
আলি চাচার কথার জবাবে ওনাকে বললাম। আমরা কোন দোষ না করলে সেই জ্বীন আমাদের ক্ষতি কেনো করবে। আমি তোমার এখানে আসলাম একটা বিষয়ে আলোচনা করতে। গ্রামের সবার মৃ*ত্যু আর কত দেখবো। কিছু একটা ব্যাবস্তা তো করতে হবে। গ্রামের সবাইকে সাহায্য করার কি কোন উপায় নাই।
আমার কথায় আলি চাচা বললো। আমিও তাই ভাবছি, অনেকদিন চুপ করে ছিলাম আর না৷ এবার গ্রামের মানুষদের সাহায্য করতেই হবে৷ নিশাদ তোর কি মনে আছে ঐ পুকুরে থাকা জ্বীনটা ও জ্বীনের স্ত্রীর কথা। তান্তিক ওঁদের বোতল বন্ধি করার পর কোথায় পুতে রাখছিলো তোর মনে আছে।
আলি চাচার কথায় আমি বললাম হ্যাঁ চাচা মনে আছে। ওঁদের তান্তিক না গ্রামের সবাই মিলে ঐ গাছতলায় মাটির নিচে পুতে রাখছে।
তখন আলি চাচা বললো৷ আমাদের ঐ জ্বীনদের মুক্ত করতে হবে। ঐ জ্বীনদের মুক্ত করলে হয়তো ওর বড় ছেলে গ্রামের মানুষদের মাফ করলে করতে পারে।
আলি চাচার কথায় আমিও রাজি হলাম৷
তখন আলি চাচা বললো চল এখনি বেরতে হবে।
কথাটা বলে আমরা দুজনে বের হবো। তখনি আকাশ মেঘ করে মুষলধারে শুরু হলো বৃষ্টি।
বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পর ও আমরা থেমে থাকিনি। বৃষ্টিতে ভিজে চলে গেলাম সেই জায়গায় যেখানে বোতল বন্ধি আছে সেই জ্বীনেরা।
ঐ গাছের নিচে যাবার পর আলি চাচা ও আমি মিলে সেখানে মাটি খুঁড়ে বের করলাম দুটো বোতল।
দুটো বোতল বের করে আলি চাচা ও আমি ভেঙে ফেললাম বোতল দুটো।
সেই বোতল দুটো ভেঙে ফেলার পর দেখলাম সাদা ধোঁয়ার মতো কিছু একটা বেড়িয়ে গেলো।
আমরা বোতল দুটো ভেঙে ফেলে সেখান থেকে বাড়ির দিকে আসবো এমন সময় দেখলাম জারা পরী দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সামনে।
জারাকে দেখে আলি চাচার দিকে তাকিয়ে, জারা পরীকে বললাম। আরে জারা তুমি এখানে।
আমার কথায় আলি চাচা বললেন, নিশাদ এসব কি। তুই ঐ পরীটাকে চিনিস।
আলি চাচার কথার জবাবে, আমি শুরু থেকে শেষ জারা পরী ও আমার বিষয়ে সব খুলে বললাম আলি চাচাকে।
আমার মুখে সব ঘটনা শুনে আলি চাচা জারা পরীর দিকে তাকিয়ে, আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন।
-কে আপনি, নিশাদ জানে আপনি একটা পরী। কিন্তু আমিতো বুঝতে পারছি আপনি পরী নন। নিশাদ আপনার কোন ক্ষতি করেনি বরং উপকার করছে, নিশাদের উপকারের বিনিময়ে হলেও সত্যিটা বলুন কে আপনি।
আলি চাচার কথায় আমি বললাম, আলি চাচা কি বলছো এসব, ও পরী ওর নাম জারা।
তখন আলি চাচা আমাকে চুপ হতে বলে পরীকে বললেন, কি হলো বলুন, আপনি কে দয়া করে বলুন।
আলি চাচার কথায় আমাকে ও আলি চাচাকে অবাক করে দিয়ে জারা পরী আমাদের চোখের সামনে নিজের রূপ বদলিয়ে একটা জ্বীনের রূপ নিলেন। 😲
পরী জ্বীনের রূপ নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন।
-আমাকে মাফ করো নিশাদ, আমি তোমাকে ধোঁকা দিয়েছি, আমি কোন পরী না আমি সেই ইয়ামিন জ্বীন। 😱
কিহহহ, ইয়ামিন জ্বীন, তুমি ইয়ামিন জ্বীন হলে এতদিন আমার সামনে পরী রূপে আসছিলা কেনো এসবের কারণ কি।
আমার কথায় ইয়ামিন জ্বীন বললো। গ্রামের মানুষ আমার মা বাবাকে বোতল বন্ধি করে আমাদের সব সম্পদ নেয়ার পর আমি এই গ্রামে আসি সবার উপর প্রতিসোধ নিতে।
আমি প্রতিসোধ নিতে এসে দেখি তান্তিকের দুজন পি*শাচ জ্বীন আগে থেকে ছিলেন এই গ্রামে।
ওঁরা তান্তিকের জ্বীন এটা জানার পর আমি ওঁদের আঘাত করে আহত করি।
এর ঠিক কিছুদিন পর হঠাৎ করে ওই দুজন জ্বীন আমাকে আক্র*মণ করে। ওঁরা আমাকে হঠাৎ করে আক্র*মণ করায় আমি দূর্বল হয়ে পড়ি। আমি দূর্বল হয়ে পরার একটা সাদা বিড়ালের রূপ নেই। আমি বিড়ালের রূপ নেয়ায় ওরাও বিড়ালের রূপে আমাকে আঘাত করতে থাকে। এমন সময় নিশাদ তুমি আমার সামনে চলে আসো আর আমাকে ওঁদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দাও৷
তুমি আমাকে বাঁচানোর পর আমি পরী রূপে তোমার কাছে আসি।
নিশাদ আমি তোমাকে ব্যাবহার করছি, সেদিন বড় কবিরাজ গ্রামে আসবে শুনে আমি বুঝতে পারি সামনে বিপদ তাই তোমাকে মিথ্যা বলে বলছি আমাকে বোতল বন্ধি করে রাখো কবিরাজ চলে গেলে মুক্ত করে দিও৷ আমার কথামতো তুমি তাই করছো।
নিশাদ তুমি বার বার আমার উপকার করছো, আজকে আবার আমার মা বাবাকে বোতল বন্ধি থেকে মুক্ত করলে। আমি তোমাদের উপর খুশি। এই গ্রামের সবাই দোষি না কেউ কেউ ভালো আছে। যাঁরা ভালো আমি তাঁদের কিছু করবোনা। তবে যাঁরা তান্তিক নিয়ে এসে আমার মা বাবাকে বন্ধি করে, আমার ছোটবোনকে মে*রে ফেলে, আমাদের সোনার পুতুল সোনার মোহর এসব নিয়েছে কাউকে ছাঁড়বোনা৷ আজকে রাতেই সবাইকে শেষ করে দিবো। আমি তোমাদের সাথে পরে দেখা করে কথা বলবো, আগে আমার প্রতিসোধ নিয়ে আসি।
এই বলে হাতে তরবারি নিয়ে বাতাসে মিশে গেলেন ইয়ামিন জ্বীন।
ইয়ামিন জ্বীন চলে যাবার পর আমি পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। এতবড় ধোঁকা, তাহলে ও জারা পরী ছিলোনা, ও আসলে ইয়ামিন জ্বীন।
আমাকে অবাক হতে দেখে আলি চাচা বললেন, নিশাদ জানি এসব কিছু বিশ্বাস হচ্ছেনা কিন্তু এটাই সত্যি। আমি ওকে দেখেই বুঝেছিলাম ও কোন পরী না৷ সবকিছু তো জেনে গেলি, আমরাও ইয়ামিন জ্বীনের মা বাবাকে বোতল বন্ধি থেকে মুক্ত করলাম, এখন চল বাড়িতে চল।
কথাটা বলে বাড়িতে যাবো। এমন সময় গ্রামের একটা দিক থেকে চিৎ*কারের আওয়াজ আসতে লাগলো। এই বৃষ্টির মধ্যে ও একটা বাড়িতে আগুন লাগছে।
সেই আগুন নেভাতে সবাই দৌড়ে আসছে সেখানে।
সেখানে সবাই চলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে, এমন সময় ওখানে আসে ইয়ামিন জ্বীন।
ইয়ামিনকে জ্বীনকে দেখে সবাই ভয়ে একে অপরের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ায়, তখন ইয়ামিন জ্বীন ভয়ং*কর কন্ঠে বলে৷ গ্রামবাসী, এখন কোথায় যাবি, তোদের লোভের শেষ পরিণতি কি হয় দেখ৷ তান্তিককে গ্রামে নিয়ে এসে আমার মা বাবাকে বন্ধি করায় যার যার হাত আছে আমি কাউকে ছাড়বোনা, আজকেই সবাইকে মে*রে ফেলবো।
কথাটা বলে ভয়ানক রূপে সবার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে ইয়ামিন জ্বীন আর তখনি ইয়ামিন জ্বীনের সামনে গিয়ে দাঁড়াই আমি আলি চাচা।
আমরা সামনে দাঁড়াতেই ইয়ামিন জ্বীন থেমে যায়৷
ইয়ামিন জ্বীন থেমে গিয়ে আমাদের দিকে ভয়া*নকভাবে তাঁকায়, তখন আমি ইয়ামিন জ্বীনকে বলি৷
-অনেক হইছে, এবার থামেন, আর কত হ*ত্যা করবেন। মানুষ পাপ বা লোভ করার আগে ভেবে করেনা পরবর্তীতে কি হতে পারে। আমাদের গ্রামের সবাই ভুল করছে, লোভে পড়ে করছে, ওঁরা না জেনে ভুল করছে, আর আপনি জেনে কেনো ওঁদের হ*ত্যা করছেন, অনেক হইছে এবার থামেন, মাফ করে দিন গ্রামের সবাইকে।
ইয়ামিন জ্বীন আমি জানি আপনি খারাপ না৷ সবাইকে ভালো হবার একটা সুযোগ দিন৷ সবার হয়ে আমি মাফ চাচ্ছি আপনার কাছে।
এরপর ও যদি সবাইকে মা*রতে চান তাহলে আগে আমাকে ও আলি চাচাকে মা*রতে হবে। আমাদের উপকার যদি আপনার কাজে না লাগে, তাহলে মারুন আগে আমাদের মারুন তারপর সবাইকে মা*রবেন৷
আর যদি মনে হয় আমার উপকার আপনার কাজে লাগছে, আমি আপনাকে উপকার করছি, তাহলে সেই উপকারের বিনিময়ে সবাইকে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিন।
আমার এমন কথায় ইয়ামিন জ্বীন চুপ করে রইলেন।
এদিকে তখনি সেখানে আসলেন ইয়ামিন জ্বীনের মা ও বাবা।
ওঁরা এসে ইয়ামিনকে বললেন।
ইয়ামিন, মাফ করে দাও সবাইকে। ওঁরা লোভে পড়ে আমাকে ও তোর মা কে বন্ধি করিয়েছে, আমরা বন্ধি হইছি, হাড়িয়েছে আমাদের মেয়েকে, হাড়িয়ে আমার সব সম্পদ, এই গ্রামের মানুষ যেমন আমাদের ক্ষতি করছে তেমনি উপকার ও করছে। এঁরা দুজন আমাকে ও তোর মা কে বোতল বন্ধি থেকে মুক্ত করছে, সুধু তাইনা তোকেও সাহায্য করছে।
এঁদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও সবাইকে মাফ করে দে। আমরা শত শত বছর ধরে ঐ পুকুরে বসবাস করে আসছি, এদের বাপ দাদারাও আমাদের বিষয় জানতো কিন্তু কোনদিন আমাদের ডিস্টার্ব করেনি আমরাও ওঁদের ক্ষতি করিনি৷ এঁরা লোভে পড়ে একটা ভুল করছে এদেরকে মাফ করে দে।
মা বাবার কথায় ইয়ামিন জ্বীন সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন। দেখলা যাদেরকে তোমরা বন্ধি করছি আজ তাঁরাই তোমাদের ছেড়ে দিতে বলছে, আমি আমার মা বাবার কথা রাখতে, ও নিশাদ ও আলি চাচার কথা ভেবে আল্লাহর ওয়াস্তে সবাইকে মাফ করলাম, আজকের পর আর কারো কোন ক্ষতি করবোনা কাউকে মা*রবোনা। কিন্তু আমাদের একটা কথা দিতে হবে। এই গ্রামের মানুষ যতদিন বাঁচবে কেউ কখনও ঐ পুকুরে গোসল করতে বা অন্য কোন কাজে জাবেনা৷ ঐ পুকুরের আশপাশে কোন রাস্তা বা বাড়িঘর থাকা জাবেনা৷ আমরা ঐ পুকুরেই ছিলাম ওখানেই থাকবো, এরপর আমাদের কেউ কখনও ডিস্টার্ব করলে তাঁকে ওখানেই মে*রে ফেলবো৷ আমাকে এই কথা দিন, আর আমাদের সোনাদানা যাঁর কাছে যতটা আছে সব ফেরত দিন।
ইয়ামিন জ্বীনের কথামতো সবাই রাজি হয় এরপর যার কাছে যতটা সোনার মোহর ছিলো সবকিছু ইয়ামিন জ্বীনকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
সবকিছু ফিরে পেয়ে ইয়ামিন জ্বীন ও তাঁর মা বাবা, আগের মতো সেই পুকুরে বসবাস করতে থাকে।
এই ঘটনার পর গ্রামের কারো সাথে আর কিছু ঘটেনা৷ ইয়ামিন জ্বীন কারো কোন ক্ষতি করেনা।
এভাবে কিছুদিন যাবার পর একদিন ইয়ামিন আমার সাথে দেখা করে আর মাফ চায়, ও জারা পরী নামে আমার কাছে আসছিলো বলে, ইয়ামিনের কথায় আমি বিষয়টা বুঝতে পেরে ওকে বলি, আমি তোমাকে মাফ করছি ইয়ামিন।
আমার কথায় খুশি হয়ে চলে যায় ইয়ামিন জ্বীন। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে আমার কাছে আসে গল্প
করে। এভাবে আস্তে আস্তে ইয়ামিনের সাথে আমার বন্ধুরতো হয়ে যায়।
ইয়ামিন জ্বীন নিয়ে সামনে অন্য আরেকটা গল্প নিয়ে আসবো অন্য কাহিনী নিয়ে।
আজকে গল্পটা এখানেই শেষ করছি৷ গল্পটা সবার কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন।


0 Comments