Admin 𝐥𝐢𝐟𝐞 𝐬𝐭𝐨𝐫𝐲
আমার জীবনের গল্পটা একটু অন্যরকম ছিল। একটা সময় পর্যন্ত আমার জীবনে কোনো প্রেমের গল্প ছিল না; ছিল কেবল নিজের ইচ্ছা, ক্যারিয়ার আর স্বপ্নগুলো পূরণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। নিজের মতো চলছিলাম, ঠিক তখনই হঠাৎ একদিন তোমার সাথে আমার পরিচয়।
শুরুটা সাধারণ হলেও আস্তে আস্তে আমাদের কথা হতে থাকে। কথা বলতে বলতে কখন যে তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, আমি নিজেও জানি না। একসময় তোমাকে অনুভব করতে শুরু করলাম। পরিস্থিতি এমন হলো যে, তোমাকে ছাড়া একটা মুহূর্তও কাটানো আমার জন্য অসম্ভব হয়ে উঠল। আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল অনলাইন। সারাক্ষণ কথা হতো আমাদের। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তোমার কণ্ঠ না শুনলে ঘুম আসত না, আর সকালে চোখ মেলতাম তোমার মিষ্টি আওয়াজ শুনে। সব কিছু একদম স্বপ্নের মতো চলছিল। কিন্তু হঠাৎ এমন কিছু ঘটে গেল, যা আমি কোনোদিন কল্পনাও করিনি। নিজের চোখ ও মনকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে আমার সাথে এটা কী হয়ে গেল! দিনটি ছিল ভীষণ বৃষ্টির...।
এরই মধ্যে পরিবার থেকে আমার বিয়ের কথা উঠলে আমি বলেছিলাম, ওদের পছন্দেই বিয়ে করব। কারণ তখনো আমি ভাবিনি তুমি আমার জীবনে এভাবে জড়িয়ে যাবে। তোমার প্রতি অনুভূতি গভীর হওয়ার পর আমি বিয়ের বিষয়ে বাড়িতে সরাসরি আর কিছু বলিনি। শুধু জানালাম, আমি বাড়ি ফিরে এসে বিয়ে করব। মনে মনে একটা সুন্দর পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম—বাড়ি যাওয়ার টিকিট কাটার সময় একবারে ফোন করে আমাদের সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানাব।
কিন্তু মানুষের সব পরিকল্পনা তো আর সত্যি হয় না। হঠাৎ এক সকালে আমার সেই প্রিয় মানুষটি কল দিয়ে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলল, "আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।" ওর কান্না দেখে আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, আমার চোখ থেকেও জল গড়িয়ে পড়ল।
পরিবারে একটা মানুষ আছেন, যাকে সবাই খুব ভয় পায়—আমার বাবা-মা, চাচা, বড় ভাই-বোন সবাই। তিনি আর কেউ নন, আমার ফুফু। অথচ সবার আদরের ছোট ছেলে হওয়ায় আমি ওনাকে মনের সব কথা খুলে বললাম, ওনাকে পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বললাম। আল্লাহর রহমতে উনি রাজি হলেন! বিশ্বাস করো, ওনার রাজি হওয়ার পর তোমার চোখে আমি আমাদের ভবিষ্যতের এক বুক সুখের আলো দেখতে পেয়েছিলাম।
আজ মনটা বড্ড ভারী হয়ে আছে, খুব খারাপ লাগছে... বাকি কথাগুলো না হয় আরেকদিন সবাইকে বলব।

0 Comments