Ravenscroft-এর অভিশপ্ত রুমের ভয়ঙ্কর সত্য!” ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড (Ravenscroft পরিত্যক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র)
ঘরটা প্রথম দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না—এখানে সময় থেমে আছে। জানালার বাইরে কুয়াশা ঝুলে আছে যেন কারও নিঃশ্বাস আটকে আছে বহু বছর ধরে। পুরোনো হাসপাতালের মতো একটা জায়গা, কিন্তু হাসপাতাল নয়—বরং একসময়কার মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্র, যেটা বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে।
এই ঘটনাটা আমি প্রথম শুনেছিলাম ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের এক বৃদ্ধ লোকের কাছ থেকে। তার নাম এডওয়ার্ড হ্যারিস। বয়স তখন আশির কাছাকাছি। কিন্তু চোখদুটো… অদ্ভুত। যেন এখনও কিছু দেখছে—যা আমরা কেউ দেখি না। সে বলেছিল—“তুমি বিশ্বাস করো বা না করো, আমি যেটা দেখেছি, সেটা মানুষ না… আর পুরোপুরি ভূতও না।” আমি তখন হেসেছিলাম। কিন্তু পরে বুঝেছি, তার সেই হাসি-ভরা ভয়টাই আসল সত্যি ছিল।
ঘটনার শুরু ১৯৬৮ সালে। জায়গাটা তখনও চালু—“Ravenscroft Recovery Home” নামে। এখানে এমন রোগীদের রাখা হতো যারা ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত আচরণ করত—হাঁটত, কথা বলত, কখনও কখনও নিজের শরীরকে আঘাত করত। তখনকার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এগুলোকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হতো না, বরং “Night Disorder” বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো।
সেই সময় এক নতুন রোগী আসে—মেয়েটার নাম ছিল এলিসা মরগান। এলিসা খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। দিনে কথা বলত, হাসত, স্বাভাবিক আচরণ করত। কিন্তু রাত হলেই সে অন্য মানুষ হয়ে যেত। নার্সদের রিপোর্টে লেখা ছিল—“রাত ২টা ১৩ মিনিটে রোগী বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়, কিন্তু চোখ বন্ধ থাকে। তারপর সে ধীরে ধীরে বাতাসে উঠতে শুরু করে।”
প্রথমে সবাই ভেবেছিল এটা অতিরঞ্জন। কিন্তু এক রাতের CCTV ফুটেজ সব বদলে দেয়। এডওয়ার্ড তখন সেই কেন্দ্রের একজন জুনিয়র কর্মচারী ছিল। তার কাজ ছিল রাতের শিফটে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করা। সে বলেছিল—“ওই রাতে আমি নিজে চোখে দেখেছি।”
রাত তখন প্রায় দুইটা। পুরো করিডোরে নিস্তব্ধতা। শুধু দূরে কোথাও একটা পুরোনো ঘড়ির টিকটিক শব্দ। এডওয়ার্ড চুপচাপ এলিসার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। দরজাটা একটু খোলা ছিল। ভিতরে যা দেখল, সেটা সে কোনোদিন ভুলতে পারেনি।
এলিসা বিছানায় শুয়ে আছে। কিন্তু তার ওপরে… আরেকটা অবয়ব। সাদা একটা কাপড়ের মতো শরীর, যেন ভেসে আছে। তার লম্বা কালো চুল নিচের দিকে ঝুলছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু হাত… অদ্ভুতভাবে নিচের দিকে প্রসারিত। এটা এলিসার উপর ঝুঁকে ছিল—যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে।
হঠাৎ এলিসার শরীর ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উপরে উঠতে শুরু করল। না, সে নিজে উঠছিল না—বরং যেন কেউ তাকে টেনে তুলছে। এডওয়ার্ড তখন ভয় পেয়ে দরজাটা খুলে ঢুকে পড়ে। আর তখনই সব থেমে যায়। এলিসা ধপ করে বিছানায় পড়ে যায়। আর সেই সাদা অবয়ব… হাওয়ার মতো মিলিয়ে যায়।
পরদিন সকালে এলিসা কিছুই মনে করতে পারেনি। কিন্তু তার শরীরে অদ্ভুত দাগ ছিল—যেন কেউ শক্ত করে ধরে রেখেছিল। এরপর থেকে প্রায় প্রতি রাতেই একই ঘটনা ঘটতে থাকে। ডাক্তাররা এটাকে “Extreme Sleepwalking” বলে ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু এডওয়ার্ড জানত—এটা অন্য কিছু।
একদিন সে সাহস করে এলিসাকে জিজ্ঞেস করেছিল—“তুমি রাতে কী দেখো?” এলিসা কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপর খুব ধীরে বলেছিল—“ও আমাকে ডাকছে।” “কে?” “ও বলে… আমি তার জায়গা নিয়ে নিয়েছি।”
এই কথাটা শোনার পর থেকেই কেন্দ্রের পুরোনো ইতিহাস ঘাঁটা শুরু হয়। তখনই বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর একটা তথ্য। ১৯১২ সালে একই জায়গায় একজন নারী রোগী ছিল—তার নাম মার্থা কেলর। মার্থা দাবি করত—সে ঘুমের মধ্যে নিজের শরীর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে পারে। তাকে পাগল ভেবে একদিন বেঁধে রাখা হয়। আর সেই রাতেই… সে মারা যায়। কিন্তু মৃত্যুর রিপোর্টে একটা অদ্ভুত কথা লেখা ছিল— “শরীর বিছানায় ছিল, কিন্তু তার ছায়া ছাদের কাছে ভাসছিল।”
এই ঘটনার পর থেকেই সেই রুমটা “অশুভ” বলে চিহ্নিত করা হয়। আর এলিসাকে ঠিক সেই একই রুমেই রাখা হয়েছিল।
যেদিন সব শেষ হয়, সেদিন ছিল ১৭ই নভেম্বর, ১৯৬৮। সেদিন রাতে হঠাৎ পুরো বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ চলে যায়। সব কর্মচারীরা টর্চ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে। এডওয়ার্ড ছুটে যায় এলিসার রুমের দিকে। দরজাটা খোলা। ভিতরে ঢুকে সে যা দেখে— এলিসা বিছানায় নেই। সে মাঝ আকাশে ভাসছে। আর তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই সাদা অবয়ব—এবার পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। মুখটা… বিকৃত। চোখ দুটো ফাঁকা। আর ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি।
হঠাৎ সেই অবয়বটা এলিসার শরীরের মধ্যে ঢুকে যায়। এলিসা একটা ভয়ঙ্কর চিৎকার করে। তারপর নিস্তব্ধতা। যখন আলো ফিরে আসে— এলিসা মেঝেতে পড়ে আছে। চোখ খোলা। কিন্তু… সে আর এলিসা নেই। তার চোখে তখন অন্য কারও দৃষ্টি।
পরের দিন কেন্দ্রটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রিপোর্টে লেখা হয়—“অস্বাভাবিক মানসিক ঘটনার কারণে কার্যক্রম স্থগিত।” এডওয়ার্ড তখনই চাকরি ছেড়ে দেয়।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ না। অনেক বছর পর, ২০০৩ সালে, কিছু লোক সেই পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে ঢুকে ভিডিও করতে যায়। তারা এলিসার রুমে ঢোকার পর— হঠাৎ তাদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে একটা দৃশ্য। একটা খালি বিছানা। আর তার ওপরে… একটা সাদা ছায়া ভাসছে। তারই নিচে… যেন কেউ শুয়ে আছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে কেউ ছিল না।
ভিডিওটা পরে রহস্যজনকভাবে মুছে যায়। কিন্তু যারা দেখেছিল—তারা সবাই একই কথা বলেছিল— “ও এখনও কাউকে খুঁজছে… যার শরীর সে নিতে পারবে।”
এডওয়ার্ড শেষবার আমাকে বলেছিল— “ঘুমানোর আগে কখনও যদি মনে হয় কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে আছে… চোখ খুলে দিও না।” “কারণ তুমি যদি তাকে দেখে ফেলো… সে জানবে তুমি তাকে দেখতে পাচ্ছ।” আর তখন… সে তোমাকেই বেছে নেবে।

0 Comments