আসসালামু আলাইকুম। 

আমি মিঠুন খান

লোকেশন:- আমার বাসা খুলনা জেলার ফুলতলা থানার কোন ১ গ্রামে


আমি বর্তমানে দুবাইতে কর্মরত আছি। আজকে আমি যে ঘটনাটি বলবো সেটি আমার ১ ভাইয়ের সাথে ঘটা। যাই হোক সোজা ঘটনাতে চলে যাই। ঘটনাটা উনিশশো ৮০ সালের। তখন ভাইয়ের বয়স ১০ বছরের মতো। তখনকার সময় গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার দরিদ্র ছিল। কিন্তু সেই ভাইয়ের পরিবার ছিল উন্নত। তাই তার দাদা প্রতি হাটে দিন বাজারে কিছু ধান নিয়ে যেত বিক্রি করতে এবং বিক্রি করে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতো। তখনকার সময় গ্রামের রাস্তাগুলো ছিল মাটির ও সরু তাই পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হতো এবং বাজারটি ছিল ১কিলোমিটার দূরে। একদিন তার দাদা কিছু ধান নিয়ে পাশের তৈরি একটা লাঠি যাকে গ্রামের ভাষায় বাঘ বলে, তার দুপাশে বেঁধে কাঁধে করে নিয়ে যাবে। তখন সেই ভাই বলে, আমি যাব তোমার সাথে। দাদা বলল পারবি এতদূর হেঁটে যেতে। ভাই বলল পারব। যাই হোক দুজনে বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হল। ভালোভাবে বাজারে পৌঁছায়। তখন যেহেতু বিকাল ছিল তাই তখন কিছু হয়নি। ঘটনাটি ঘটে আসার সময় বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস নিতে নিতে ১ প্রকার সন্ধ্যারকে তারা দেরি না করে বাড়ির জন্য রওনা হলো। কিছু পথ আসার পর মসজিদে মাগরিবের আযান দেয় তার দাদা। যেহেতু ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন তাই আমাদের গ্রামের পাশের একটা গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়বেন বলে। আমার সেই ভাইকে এবং সেই বাঘটি রেখে নামাজ পড়তে যান আর ভাইকে বলেন কোথাও যাবেনা তো। কোথাও যাবেনা তো। তার দাদা নামাজ পড়তে যাওয়ার পর সেই ভাই মনে মনে ভাবলো সে পাঠটি কাঁধে তুলবে দেখবে সেটি কেমন। সে জিনিসটা কাধে নিল কিন্তু সে ছোট থাকায় এবং বা ভারী। হওয়ায় তার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আবার তার কাছে ভালোও লাগছিল। তাই সে ১ পা দু পা করে গ্রামে এসে পৌঁছালো। আমাদের গ্রামের একটা জায়গা আছে যেটি নোনার বাঁশতলা নামে পরিচিত। দাদাদের মুখে শুনেছি অনেক আগে নাকি ওখানে কবর ছিল আর সেখানে অনেক বাঁশ গাছ ছিল। তার ২০ হাত দূরে একটা বড় তেঁতুল গাছ ছিল যেটি অনেক পুরনো আর তার পাশ দিয়ে ছিল মাটির রাস্তা। তাই যাতায়াতের জন্য ঐ রাস্তাটি ব্যবহার করতে হতো। সেই ভাইটি যখন ঐ স্থানটিতে আসলো সে দেখতে পেল কে যেন ওই তেঁতুল গাছ থেকে পায়ে হেঁটে নেমে আসছে। জিনিসটা দেখতে অনেক লম্বা, তার হাতগুলো অনেক লম্বা, তার পরনে ছিল সাদা কাপড়। তখন সে তার মুখটি দেখার জন্য মাথা উঁচু করলে যেটি দেখতে পেল সেটি দেখে অবাক হয়ে গেল। জিনিসটার মুখ কালো, দাঁতগুলো লম্বা, চোখ দুটো রক্তের মতো লাল এবং সে ভাইয়ের দিকে রাগান্বিতভাবে তাকিয়ে সামনে হাঁটা শুরু করলো। কিছু দূরে কি হারিয়ে গেল এটা দেখার পর সে কিছু না বলে অনেক অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সে কিছু বলতেও পারেনি। পরে তার দাদা নামাজ শেষে তাকে দেখতে না পেলে নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং সে দূর থেকে দেখতে পায়ে তাকে গাছটির এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। তার দাদা কাছে এসে তাকে ধরা মাত্র সে মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে বাড়ি আনলে মাথায় পানি আর দোয়া পড়ে ফুঁ দেয়ার পর সে যক্ষ নেয়। পরে সে সবকিছু খুলে বলে। তারপর তাকে একটি কবিরাজের কাছে নিয়ে কবিরাজ তাকে কিছু তাবিজ দেয়। এরপর কিছুদিন খুব ভালোভাবে কাটে পরে। একবার রাতে ঘুমের ভেতর সে সেই জিনিসটিকে দেখতে পায় তুই কেন দিসলি আমাকে। তোকে কখনো ভালো থাকতে দেবো না। পরে যতদিন যায় সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। অনেক কবিরাজ দেখানো হয় কোন কাজ হয়না। পরবর্তীতে একটা বড় হুজুরের কাছে নিয়ে গেল হুজুর জিন্দারা সেই জিনকে হাজির করে এবং সবকিছু জানতে পারে। সে জিন নাকি ঐতিহ্যবাসে থাকে এবং সেখান থেকে প্রতিদিন তার কাজে যেত। আর জিনটি অনেক রাগী ছিল। মানুষ জাতিকে সে ঘৃণা করত। তাই যেহেতু ভাই তাকে দেখে ফেলেছিল এজন্য তাকে শাস্তি দিয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে হুজুর ঝাড়ফুঁক এবং কিছু তাবিজ দিয়ে আর বাড়ি বন্ধ করে তাকে সুস্থ করে।