ট্রেনটা যখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে এসে থামল, তখন ঘড়িতে প্রায় দুপুর দুটো বাজে। আকাশটা মেঘলা, কিন্তু তার মধ্যেও একটা ভ্যাপসা গরম চারদিকে ছড়িয়ে আছে। ট্রেন থেকে নামতেই একরাশ ক্লান্তি এসে ভর করল শরীরে। প্রায় আঠারো ঘণ্টার লম্বা জার্নি, তার ওপর রিজার্ভেশন না পাওয়ায় জেনারেল কামরায় গাদাগাদি করে আসা। শরীরটা যেন আর চলছিল না। আমার সাথে আমার বন্ধু অয়নও ছিল। ওর অবস্থাও আমার চেয়ে খুব একটা ভালো নয়। দুজনেই প্রায় বিধ্বস্ত।


আমাদের উদ্দেশ্য ছিল দার্জিলিং ভ্রমণ। কিন্তু এই অবস্থায় সোজা দার্জিলিংয়ের জন্য গাড়ি ধরার মতো শারীরিক বা মানসিক শক্তি কোনোটাই অবশিষ্ট ছিল না। তাই ঠিক করলাম, আজকের রাতটা শিলিগুড়িতেই কাটিয়ে দেব। কাল সকালে তরতাজা হয়ে দার্জিলিংয়ের পথ ধরব।


স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটা অটো ভাড়া করে আমরা হিলকার্ট রোডের দিকে এগোতে লাগলাম। অয়ন আমাকে বলল, "শোন, ভালো দেখে একটা হোটেল নিস। আজকের রাতটা অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে চাই।"


আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বললাম, "হ্যাঁ রে, সেটাই দেখছি। তবে পকেটের কথাও তো ভাবতে হবে।"


হিলকার্ট রোডের আশেপাশে বেশ কিছু হোটেল ছিল। কয়েকটাতে খোঁজ নিয়ে দেখলাম, হয় ভাড়া অনেক বেশি, নয়তো ঘরগুলো পছন্দ হচ্ছে না। প্রায় আধঘণ্টা ঘোরার পর একটা পুরোনো, খানিকটা বিবর্ণ চেহারার হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ালাম। নাম 'হোটেল ব্লু মুন'। বাইরে থেকে দেখতে খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও, আমাদের তখন আর বাছবিচার করার মতো অবস্থা ছিল না।


ভেতরে ঢুকতেই একটা স্যাঁতসেঁতে, পুরোনো দিনের গন্ধ নাকে এসে লাগল। রিসেপশনে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বসেছিলেন। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, চুল প্রায় সবই সাদা। আমাদের দেখে তিনি মুখ তুলে তাকালেন।


আমি এগিয়ে গিয়ে বললাম, "দুটো বেডের একটা ঘর হবে? আজকের রাতের জন্য।"


ভদ্রলোক আমাদের আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে একটা খাতা খুললেন। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, "হ্যাঁ, হয়ে যাবে। তিনতলায় একটা ঘর খালি আছে। ৩০২ নম্বর।"


ভাড়া শুনে মনে হলো, আমাদের বাজেটের মধ্যেই। তাই আর দেরি না করে রাজি হয়ে গেলাম। ভদ্রলোক একটা পুরোনো চেহারার চাবি আমাদের হাতে দিয়ে বললেন, "ছেলেটা আপনাদের ঘর দেখিয়ে দেবে।"


একজন অল্পবয়সী ছেলে এসে আমাদের সাথে তিনতলার দিকে এগোতে লাগল। হোটেলের করিডোরগুলো বেশ অন্ধকার। টিমটিম করে কয়েকটা আলো জ্বলছে। দেয়ালে পুরোনো দিনের অয়েল পেন্টিং, যার বেশিরভাগই বিবর্ণ হয়ে গেছে। একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা চারদিকে। আমাদের পায়ের শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই।


তিনতলায় উঠে ছেলেটা একটা ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজার ওপর পিতলের প্লেটে লেখা '৩০২'। তালা খুলে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই একটা ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা এসে লাগল মুখে। ঘরটা বেশ বড়, কিন্তু আসবাবপত্র বলতে দুটো পুরোনো খাট, একটা আলমারি আর একটা ছোট টেবিল-চেয়ার। ঘরের এক কোণে একটা জানালা, যেটা দিয়ে বাইরের মেঘলা আকাশটা দেখা যাচ্ছে।


ছেলেটা আমাদের ব্যাগগুলো রেখে দিয়ে বলল, "কিছু লাগলে বলবেন, স্যার।"


আমরা তাকে কিছু বকশিশ দিয়ে বিদায় করলাম। অয়ন বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিয়ে বলল, "যাহ্ বাবা! বাঁচা গেল। আর পারছিলাম না।"


আমি দরজাটা বন্ধ করে ঘরের চারপাশটা একবার ভালো করে দেখতে লাগলাম। সবকিছুই পুরোনো, কিন্তু পরিচ্ছন্ন। বাথরুমটাও বেশ পরিষ্কার। মনে মনে ভাবলাম, এক রাতের জন্য এর চেয়ে বেশি আর কী চাই!


ফ্রেশ হয়ে আমরা দুজনেই বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, খেয়াল নেই। যখন ঘুম ভাঙল, তখন বাইরে বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। ঘড়িতে দেখলাম, রাত আটটা বাজে। পেটের মধ্যে ছুঁচোয় ডন দিচ্ছে।


অয়নকে ডেকে তুলে বললাম, "চল, রাতের খাবারটা সেরে আসি।"


আমরা নিচে নেমে রিসেপশনে জিজ্ঞেস করলাম, কাছাকাছি ভালো কোনো খাবারের দোকান আছে কি না। ভদ্রলোক дорогу দেখিয়ে দিলেন। হোটেল থেকে বেরিয়ে হালকা ঠান্ডা হাওয়ায় শরীরটা জুড়িয়ে গেল। রাতের শিলিগুড়ি শহরের অন্য রূপ। চারদিকে নিয়ন আলোর ঝলকানি, গাড়ির হর্ন আর মানুষের কোলাহল।


একটা ছোট রেস্তোরাঁয় ঢুকে আমরা রুটি আর চিকেনের অর্ডার দিলাম। খেতে খেতে অয়ন বলল, "হোটেলটা কেমন যেন অদ্ভুত, তাই না? বড্ড বেশি চুপচাপ।"


আমি ওর কথায় সায় দিয়ে বললাম, "পুরোনো তো, তাই হয়তো। তবে ঘরটা কিন্তু বেশ বড়।"


খাওয়া শেষ করে আমরা আবার হোটেলে ফিরে এলাম। রিসেপশন তখন প্রায় ফাঁকা। সেই বয়স্ক ভদ্রলোক একা বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। আমাদের দেখে তিনি চশমার ফাঁক দিয়ে একবার তাকালেন, কিন্তু কিছু বললেন না।


আমরা সোজা তিনতলায় আমাদের ঘরের দিকে এগোতে লাগলাম। করিডোরটা রাতের বেলা আরও বেশি অন্ধকার আর নিঝুম মনে হচ্ছিল। আমাদের ৩০২ নম্বর ঘরের ঠিক পাশের ঘরটার দরজায় একটা বড় তালা ঝুলছিল। দরজার ওপরে কোনো নম্বর প্লেটও ছিল না। দিনের বেলায় এটা খেয়াল করিনি।


আমি কৌতূহলবশত অয়নকে জিজ্ঞেস করলাম, "আচ্ছা, এই ঘরটা বন্ধ কেন রে?"


অয়ন দরজার দিকে তাকিয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, "কী জানি! হয়তো কেউ থাকে না বা স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার করে।"


ওর কথায় যুক্তি ছিল। তাই আর বেশি কিছু না ভেবে আমরা নিজেদের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। সারাদিনের ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে আসছিল। ঠিক করলাম, আর দেরি না করে শুয়ে পড়ব। কাল সকালে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করতে হবে।


বিছানায় শুয়েও কিছুতেই ঘুম আসছিল না। ঘরের নিস্তব্ধতাটা যেন কানে বাজছিল। বাইরে থেকে কোনো শব্দ আসছে না। শুধু পুরোনো সিলিং ফ্যানটা ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে ঘুরছে। অয়ন ততক্ষণে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। ওর হালকা নাক ডাকার শব্দও শোনা যাচ্ছে।


হঠাৎ করেই আমার মনে হলো, পাশের বন্ধ ঘরটা থেকে যেন একটা অস্পষ্ট আওয়াজ আসছে। প্রথমে ভাবলাম, হয়তো আমার শোনার ভুল। কিন্তু কান পেতে শোনার চেষ্টা করতেই বুঝলাম, ভুল নয়। খুব মৃদু একটা শব্দ, যেন কেউ কিছু একটা টানাহেঁচড়া করছে।


আমি বিছানা থেকে উঠে দরজার কাছে গিয়ে কান পাতলাম। এবার শব্দটা আরও একটু স্পষ্ট হলো। কিন্তু ঠিক কীসের শব্দ, তা বোঝা যাচ্ছে না। কেমন যেন ঘষটানোর মতো আওয়াজ।


আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাঁৎ করে উঠল। এই নিস্তব্ধ রাতে একটা বন্ধ ঘরের ভেতর থেকে এমন আওয়াজ আসার কথা নয়। আমি অয়নকে ডাকব কি না ভাবছিলাম, কিন্তু ও এমন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন যে ওকে ডাকতে মায়া হলো।


নিজেকে বোঝালাম, হয়তো হোটেলের অন্য কোনো ঘর থেকে আওয়াজটা আসছে। এই পুরোনো বিল্ডিংয়ে শব্দ এদিক-ওদিক থেকে আসতেই পারে। আমি আবার বিছানায় এসে শুয়ে পড়লাম। চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলাম।


কিন্তু সেই ঘষটানোর শব্দটা কিছুতেই মাথা থেকে যাচ্ছিল না। বরং মনে হচ্ছিল, শব্দটা যেন ধীরে ধীরে বাড়ছে।


বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম কিছুতেই আসছিল না। পুরোনো সিলিং ফ্যানটার ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ আর তার সাথে মিশে থাকা পাশের বন্ধ ঘর থেকে ভেসে আসা ওই অদ্ভুত ঘষটানোর আওয়াজটা আমার স্নায়ুকে ধীরে ধীরে উত্তেজিত করে তুলছিল। অয়ন আমার পাশে অকাতরে ঘুমোচ্ছে। ওর দিকে তাকিয়ে আমার কেমন যেন হিংসা হচ্ছিল। কী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে!


আমি আবার বিছানা ছেড়ে উঠলাম। ঘরের ভেতর কয়েক পা পায়চারি করলাম। নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। ভাবলাম, হয়তো ইঁদুর বা অন্য কোনো প্রাণী হতে পারে। পুরোনো হোটেলে এসব থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মনকে কিছুতেই প্রবোধ দিতে পারছিলাম না। শব্দটা ঠিক ইঁদুরের ছোটাছুটির মতো নয়, তার চেয়ে অনেক ভারী এবং ছন্দবদ্ধ। যেন কেউ методиকেলভাবে ঘরের মেঝেতে ভারী কিছু একটা টেনে নিয়ে যাচ্ছে, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।


বুকের ভেতরের অস্বস্তিটা ক্রমেই বাড়ছিল। আমি খুব সাবধানে, প্রায় নিঃশব্দে আমাদের ঘরের দরজাটা খুললাম। করিডোরটা আগের মতোই অন্ধকার, শুধু দূরে একটা আবছা আলো জ্বলছে। চারপাশটা একেবারে নিস্তব্ধ, পিন পড়লেও হয়তো তার শব্দ শোনা যাবে। আমি ধীর পায়ে পাশের বন্ধ ঘরটার দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দরজার গায়ে কান পাততেই আমার全身 কেঁপে উঠল।


শব্দটা এখন অনেক বেশি স্পষ্ট। শুধু ঘষটানোর আওয়াজ নয়, তার সাথে একটা চাপা গোঙানির মতো শব্দও মিশে আছে। যেন কেউ তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, কিন্তু তার মুখটা কেউ চেপে ধরেছে বলে আওয়াজটা পরিষ্কারভাবে বেরোতে পারছে না। আমার শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। গায়ের সমস্ত লোম খাড়া হয়ে উঠল। এটা কোনোভাবেই ইঁদুরের শব্দ হতে পারে না।


আমি দ্রুত পায়ে নিজের ঘরে ফিরে এসে দরজাটা ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে দিলাম। বুকের ভেতরটা হাতুড়ির মতো পেটাচ্ছে। ঘামে আমার গেঞ্জিটা ভিজে গেছে। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে জলের বোতলটা তুলে ঢকঢক করে অনেকটা জল খেয়ে নিলাম। কী করব, কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। অয়নকে ডেকে তুলব? কিন্তু ওকে কী বলব? যদি ও আমার কথা বিশ্বাস না করে, যদি ভাবে আমি ক্লান্তির চোটে হ্যালুসিনেট করছি?


আমি ওর বিছানার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। নিচু গলায় কয়েকবার ডাকলাম, "অয়ন... অয়ন, ওঠ!"


ঘুম জড়ানো গলায় ও কোনোমতে বলল, "কী হয়েছে রে? ঘুমাতে দে..."


আমি ওর কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে বললাম, " ওঠ না একবার! একটা সমস্যা হয়েছে।"


আমার গলার স্বরের উত্তেজনাটা হয়তো ওর ঘুম তাড়িয়ে দিয়েছিল। ও ধড়মড় করে উঠে বসল। ঘরের আবছা আলোয় আমার মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল, "কী হয়েছে? তোর মুখটা এমন ফ্যাকাসে কেন? শরীর খারাপ লাগছে?"


আমি ফিসফিস করে বললাম, "পাশের ঘরটা... ওই বন্ধ ঘরটা থেকে অদ্ভুত আওয়াজ আসছে।"


অয়ন কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর একটা হাই তুলে বলল, "কীসের আওয়াজ? তুই ঠিক আছিস তো? হয়তো অন্য কোনো ঘর থেকে আসছে। এই পুরোনো হোটেলে শব্দ কোত্থেকে আসছে, তা বোঝা মুশকিল।"


আমি মরিয়া হয়ে বললাম, "না রে, আমি দরজায় কান পেতে শুনেছি। কেউ যেন গোঙাচ্ছে আর কিছু একটা ঘষটাচ্ছে। বিশ্বাস কর আমার কথা।"


আমার অবস্থা দেখে অয়ন হয়তো কিছুটা বিচলিত হলো। ও বিছানা থেকে নেমে বলল, "আচ্ছা, চল তো দেখি। কী এমন আওয়াজ আসছে।"


ওর কথায় আমি কিছুটা সাহস পেলাম। আমরা দুজনে আবার খুব সাবধানে দরজা খুলে করিডোরে বেরোলাম। চারপাশটা আগের মতোই নিঝুম। আমরা পা টিপে টিপে বন্ধ ঘরটার দরজার সামনে গেলাম। অয়ন দরজায় কান পাতল। কয়েক মুহূর্ত ও স্থির হয়ে রইল। তারপর মুখটা সরাতেই আমি দেখলাম, ওর মুখের চেহারাও বদলে গেছে। চোখের ঘুম পুরোপুরি উধাও, তার জায়গায় ফুটে উঠেছে বিস্ময় আর আতঙ্ক।


ও আমার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "তুই ঠিকই বলেছিলি... ভেতর থেকে সত্যিই আওয়াজ আসছে।"


আমি কাঁপা গলায় বললাম, "এবার বিশ্বাস হলো তো?"


অয়ন কোনো উত্তর না দিয়ে দরজার তালায় হাত দিল। তালাটা বেশ পুরোনো আর ভারী। ও সেটা ধরে হালকা নাড়ানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তালাটা অনড়। তারপর দরজার হাতলটা ধরে মোচড় দিল। সেটাও ভেতর থেকে শক্ত করে আটকানো।


অয়ন বলল, "ভেতরে কেউ আছে মনে হচ্ছে। কিন্তু ঘরটা তো বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তাহলে ভেতরে লোক এল কীভাবে?"


ওর প্রশ্নটা আমার মাথাতেও ঘুরছিল। যদি ঘরটা বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকে, তাহলে ভেতরে কে? আর সে-ই বা এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করছে?


আমরা দুজনেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। গোঙানির শব্দটা তখন যেন আরও একটু বেড়েছে। তার সাথে যোগ হয়েছে নখের আঁচড়ানোর মতো একটা খসখস শব্দ। যেন কেউ মরিয়া হয়ে ভেতর থেকে দরজাটা খোলার চেষ্টা করছে।


আমার আর সহ্য হচ্ছিল না। আমি অয়নকে বললাম, "চল, রিসেপশনে গিয়ে বলি। এটা ঠিক স্বাভাবিক নয়।"


অয়নও আমার কথায় সায় দিল। আমরা দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলাম। নামার সময় আমার বারবার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন ওপর থেকে আমাদের দেখছে। কিন্তু পেছনে ফিরে তাকানোর সাহস হলো না।


রিসেপশনে তখনো সেই বয়স্ক ভদ্রলোক একা বসে ঝিমোচ্ছিলেন। আমাদের এত রাতে এভাবে হন্তদন্ত হয়ে নামতে দেখে তিনি বেশ অবাক হলেন। চশমাটা ঠিক করে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "কী হয়েছে, বাবুরা? কোনো সমস্যা?"


আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম, "আমাদের ঘরের পাশের ঘরটা... যেটাতে তালা দেওয়া... ওটার ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে। কেউ যেন ভেতরে আটকে পড়েছে।"


আমার কথা শুনে ভদ্রলোকের মুখের অভিব্যক্তি কেমন যেন বদলে গেল। তিনি আমাদের দিকে কিছুক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "আপনারা ভুল শুনছেন। ওই ঘরটা গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ। ওর ভেতরে কেউ থাকে না।"


অয়ন অধৈর্য হয়ে বলল, "আমরা ভুল শুনিনি। আমরা দুজনেই স্পষ্ট শুনেছি। কেউ ভেতরে গোঙাচ্ছে। আপনার হোটেলের চাবি দিয়ে একবার ঘরটা খুলুন। হয়তো কেউ বিপদে পড়েছে।"


ভদ্রলোক চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর খুব শান্ত, প্রায় শীতল গলায় বললেন, "আপনাদের কথা আমি বিশ্বাস করছি না, তা নয়। কিন্তু ওই ঘর খোলা সম্ভব নয়। চাবি হারিয়ে গেছে।"


তাঁর কথা বলার ধরণ আর মুখের ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি দেখে আমার বুকের ভেতরটা আরও একবার কেঁপে উঠল। লোকটা কিছু একটা লুকাচ্ছে। আমি বললাম, "চাবি হারিয়ে গেলে তালা ভাঙার ব্যবস্থা করুন। যদি ভেতরে সত্যিই কেউ বিপদে পড়ে থাকে?"


ভদ্রলোক এবার সামান্য বিরক্ত হয়ে বললেন, "দেখুন, আপনাদের ভালো না লাগলে আপনারা হোটেল ছেড়ে দিতে পারেন। আমি আপনাদের টাকা ফেরত দিয়ে দেব। কিন্তু ওই ঘর খোলা যাবে না। ওটা বন্ধই থাকবে।"


তাঁর এই একরোখা মনোভাব আমাদের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিল। অয়ন কিছুটা রেগে গিয়ে বলল, "কেন খোলা যাবে না? এমন কী আছে ওই ঘরে? আপনি কি কিছু লুকাচ্ছেন?"


ভদ্রলোক কোনো উত্তর না দিয়ে রিসেপশনের ড্রয়ার থেকে একটা চাবির গোছা বের করলেন। তারপর আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "আপনাদের যদি এতই সমস্যা হয়, আমি আপনাদের অন্য ঘর দিয়ে দিচ্ছি। দোতলায় একটা ঘর খালি আছে।"


আমি বললাম, "না, আমরা ঘর বদলাব না। আমরা শুধু জানতে চাই, ওই ঘরে কী হয়েছে। কেন ওটা বন্ধ?"


আমাদের জেদ দেখে ভদ্রলোক যেন কিছুটা নরম হলেন। তিনি আবার চেয়ারে বসে ক্লান্ত গলায় বললেন, "আপনারা যখন এতই জানতে চাইছেন, তখন বলি। কিন্তু শোনার পর আপনারা হয়তো আর এই হোটেলে এক মুহূর্তও থাকতে চাইবেন না।"


তাঁর কথায় একটা অশুভ ইঙ্গিত ছিল। আমরা দুজনেই沉默 করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিনি বলতে শুরু করলেন, "বছর পাঁচেক আগের ঘটনা। এক দম্পতি এসে উঠেছিল ওই ৩০১ নম্বর ঘরে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কিন্তু একদিন রাতে ওদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হয়। আমরা নিচ থেকেও ওদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। তারপর হঠাৎ সব চুপ হয়ে যায়।"


ভদ্রলোক একটু থামলেন। ঢোক গিলে আবার বলতে শুরু করলেন, "পরদিন সকালে ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় আমাদের সন্দেহ হয়। ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য আমরা দেখেছিলাম, তা ভোলার নয়। ভদ্রমহিলা ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন, আর ভদ্রলোক মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁর নিজের হাতের শিরা কাটা। টেবিলে একটা সুইসাইড নোটও ছিল। কিন্তু..."


তিনি আবার থামলেন। তাঁর চোখ দুটো যেন অতীতের কোনো ভয়ঙ্কর স্মৃতিতে ডুবে গেছে।


আমি আর অয়ন শ্বাসরুদ্ধ করে অপেক্ষা করছিলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কিন্তু কী?"


ভদ্রলোক কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, "কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায়, ভদ্রমহিলা গলায় দড়ি দেওয়ার আগেই মারা গিয়েছিলেন। তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। আর ভদ্রলোকের হাতের শিরা এমনভাবে কাটা ছিল, যা কোনোভাবেই নিজের হাতে করা সম্ভব নয়। পুলিশ কেসটা নিয়ে অনেক তদন্ত করেছিল, কিন্তু কোনো কিনারা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত এটাকে একটা রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই ফাইল বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার পর থেকেই ওই ঘরটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এরপর ওই ৩০২ নম্বর ঘরে থেকেছে, তাদের অনেকেই রাতে ওই ঘর থেকে অদ্ভুত সব আওয়াজ শোনার অভিযোগ করেছে। কেউ শুনেছে কান্নার শব্দ, কেউ শুনেছে ঝগড়ার আওয়াজ, আবার কেউ আপনাদের মতো কিছু একটা ঘষটানোর শব্দও শুনেছে।"


ভদ্রলোকের কথা শেষ হতেই গোটা হোটেলের নিস্তব্ধতা যেন আমাদের গ্রাস করতে চাইল। আমার আর অয়নের মুখ দিয়ে কোনো কথা বেরোচ্ছিল না। তাহলে আমরা যে আওয়াজ শুনছি, সেটা কি...


হঠাৎই আমাদের চমকে দিয়ে ওপর থেকে, ঠিক আমাদের ঘরের দিক থেকে, কিছু একটা সজোরে আছড়ে পড়ার শব্দ হলো। শব্দটা এতটাই জোরালো ছিল যে মনে হলো, গোটা হোটেলটা যেন কেঁপে উঠল।


ওপর থেকে আসা ওই প্রচণ্ড শব্দে আমরা তিনজনই একসাথে চমকে উঠলাম। রিসেপশনের বয়স্ক ভদ্রলোক, আমি আর অয়ন—আমাদের তিনজনের চোখেই ছিল তীব্র আতঙ্ক। শব্দটা এতটাই আকস্মিক আর জোরালো ছিল যে মনে হলো, আমাদের ঠিক মাথার ওপরেই ছাদের কোনো অংশ ভেঙে পড়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারলাম, শব্দটা এসেছে তিনতলা থেকে, আমাদের ঘরের আশপাশ থেকেই।


ভদ্রলোক ফ্যাকাশে মুখে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, "কীসের শব্দ ছিল ওটা?"


অয়ন প্রায় চিৎকার করে বলল, "আমাদের ঘর! শব্দটা আমাদের ঘর থেকেই এসেছে!"


আর এক মুহূর্তও দেরি করলাম না আমরা। তিনজনেই প্রায় দৌড়ে সিঁড়ির দিকে ছুটলাম। পুরোনো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় আমাদের সম্মিলিত পায়ের শব্দে গোটা হোটেলটা গমগম করতে লাগল। আমার বুকের ভেতরটা এমনভাবে ধড়ফড় করছিল যে মনে হচ্ছিল, যেকোনো মুহূর্তে হৃদপিণ্ডটা লাফিয়ে বাইরে চলে আসবে। রিসেপশনের ম্যানেজারের কাছ থেকে শোনা ওই ভয়ঙ্কর অতীত কাহিনি আর তার সাথে এই আকস্মিক শব্দ—সবকিছু মিলেমিশে আমার স্নায়ুর ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করছিল।


তিনতলার করিডোরে পৌঁছাতেই আমরা থমকে গেলাম। আবছা আলো-আঁধারিতে যা দেখলাম, তাতে আমাদের রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। আমাদের ৩০২ নম্বর ঘরের দরজাটা হাট করে খোলা। অথচ আমি স্পষ্ট মনে করতে পারি, নিচে নামার আগে আমি নিজের হাতে দরজায় ছিটকিনি দিয়েছিলাম। তাহলে দরজাটা খুলল কে?


কিন্তু তার চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিল অন্য দৃশ্যটা। বন্ধ ৩০১ নম্বর ঘরের দরজার সামনে, করিডোরের মেঝেতে, আমাদের ঘরের টেবিল ল্যাম্পটা চুরমার হয়ে পড়ে আছে। কাচের টুকরো আর ভাঙা প্লাস্টিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে চারদিকে। শব্দটা তাহলে এটারই ছিল। কিন্তু আমাদের ঘরের টেবিল ল্যাম্পটা ঘরের ভেতর থেকে নিজে নিজে বাইরে এসে এভাবে আছড়ে পড়ল কীভাবে?


অয়ন কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, "এটা... এটা কীভাবে সম্ভব? ল্যাম্পটা তো ঘরের ভেতরে ছিল!"


ম্যানেজার ভদ্রলোক ভয়ে কাঁপছিলেন। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, "বলেছিলাম তো... বলেছিলাম এই হোটেলে থাকবেন না। ওরা এখনো যায়নি... ওরা এখানেই আছে।"


তাঁর কথাগুলো আমার কানে ঢুকছিল, কিন্তু মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি খোলা দরজা দিয়ে আমাদের ঘরের ভেতরের দিকে তাকালাম। ঘরটা অন্ধকার, কিন্তু জানালার বাইরে থেকে আসা রাস্তার আবছা আলোয় ভেতরের পরিবেশটা বোঝা যাচ্ছিল। সবকিছু এলোমেলো। আমাদের বিছানার চাদর, বালিশ সব মেঝেতে পড়ে আছে। জামাকাপড়গুলো ব্যাগ থেকে বেরিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যেন কোনো ঘূর্ণিঝড় ঘরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে।


আমার পা দুটো যেন মেঝের সাথে আটকে গিয়েছিল। আমি নড়তে পারছিলাম না। শুধু তাকিয়ে দেখছিলাম সেই ধ্বংসযজ্ঞ। হঠাৎ অয়ন আমার হাত ধরে টান দিয়ে বলল, "এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। চল, এক্ষুনি বেরিয়ে যাই এখান থেকে।"


ওর কথায় আমার সম্বিৎ ফিরল। হ্যাঁ, ও ঠিকই বলছে। এই অভিশপ্ত জায়গায় আর এক মুহূর্তও থাকা মানে সাক্ষাৎ মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো। আমাদের জিনিসপত্র, ব্যাগ, যা কিছু আছে, সব এখানেই পড়ে থাক। শুধু প্রাণটা নিয়ে এখান থেকে বেরোতে পারলেই হলো।


আমরা যখন ঘুরে নিচে নামার জন্য পা বাড়িয়েছি, ঠিক তখনই একটা ঘটনা ঘটল যা আমাদের আতঙ্কের শেষ সীমায় পৌঁছে দিল।


পাশের ওই বন্ধ, তালা দেওয়া ৩০১ নম্বর ঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ একটা তীব্র, তীক্ষ্ণ আর্তনাদ ভেসে এল। একজন মহিলার গলা, কিন্তু সেই আর্তনাদে যন্ত্রণা, রাগ আর হতাশার এমন এক মিশ্রণ ছিল যা মানুষের কণ্ঠস্বরের মতো শোনাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, কোনো অতৃপ্ত আত্মা যেন তার সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠছে। সেই চিৎকারের সাথে সাথেই দরজার ওপার থেকে সজোরে ধাক্কা দেওয়ার শব্দ হতে লাগল। ধাম! ধাম! ধাম! যেন কেউ একটা ভারী কিছু দিয়ে ভেতর থেকে দরজায় আঘাত করছে। পুরোনো কাঠের দরজাটা সেই প্রচণ্ড আঘাতে थरथर করে কাঁপছিল। দরজার কপাটে লাগানো ভারী তালাটা ঝনঝন শব্দে দুলছিল।


আমরা তিনজন ভয়ে জমে গিয়েছিলাম। আমাদের পালানোর পথটাও ওই দরজার সামনে দিয়েই। কিন্তু ওই ভয়ঙ্কর শব্দের উৎসকে পেছনে ফেলে যাওয়ার সাহসটুকুও আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম।


ম্যানেজার ভদ্রলোক ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিলেন। তিনি বিড়বিড় করে যা বলছিলেন, তা শুনে আমার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল। "ও আসছে... ও আসছে... ওকে আটকে রাখা যাবে না..."


ঠিক সেই মুহূর্তে, আমাদের চোখের সামনেই, ৩০১ নম্বর ঘরের দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে গাঢ় লাল রঙের একটি তরল পদার্থ চুইয়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করল। প্রথমে কয়েক ফোঁটা, তারপর ধীরে ধীরে একটা স্রোতের মতো। করিডোরের আবছা আলোয় সেই তরলের রঙ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল—তাজা রক্ত। রক্তের একটা তীব্র, আঁশটে গন্ধ আমাদের নাকে এসে লাগল।


অয়ন আর সহ্য করতে না পেরে "মাগো!" বলে চিৎকার করে উঠল। ওর চিৎকার শুনেই যেন আমাদের ঘোর কাটল। আর কোনো ভাবনাচিন্তা নয়, শুধু দৌড়। আমরা তিনজন একে অপরকে প্রায় ঠেলতে ঠেলতে সিঁড়ির দিকে দৌড় লাগালাম। আমার শুধু মনে হচ্ছিল, ওই দরজাটা যদি ভেঙে যায়, যদি ভেতরের কিছু একটা বেরিয়ে আসে, তাহলে আমাদের আর রক্ষা নেই।


সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আমার পা হড়কে গেল। আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম, কিন্তু অয়ন কোনোমতে আমার হাতটা ধরে ফেলল। আমরা প্রায় গড়াতে গড়াতে নিচে নামলাম। রিসেপশন পার হয়ে হোটেলের মূল দরজা ঠেলে যখন হিলকার্ট রোডের ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শ পেলাম, তখন মনে হলো যেন নতুন জীবন ফিরে পেলাম। আমরা থামিনি। দৌড়াতে দৌড়াতে রাস্তার মোড় পর্যন্ত এসে হাঁপাতে লাগলাম।


পেছনে ফিরে দেখলাম, 'হোটেল ব্লু মুন' আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে ওর ভেতরে কী ভয়ঙ্কর নাটক ঘটে চলেছে।


সেই রাতে আমরা আর কোনো হোটেলে থাকার সাহস করিনি। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের ওয়েটিং রুমেই বাকি রাতটা কাটিয়েছিলাম। দুজনের কেউই একটা কথাও বলিনি। দুজনের চোখেই ছিল তীব্র আতঙ্ক আর অবিশ্বাস। পরদিন সকালে প্রথম ট্রেন ধরেই আমরা কলকাতার দিকে রওনা দিয়েছিলাম। দার্জিলিং যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের মাথা থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছিল। 

শেষ পর্ব