প্রথম~ পর্ব
__বলছে__নিশাদ _
ঘড়িতে রাত বারোটা, এরকম একটা সময়ে আমি ও আমার বন্ধু আসছি পাশের গ্রামের একটা মেয়ের জ্বীন ছাঁড়ানো দেখতে।
আপনাদের অবাক করা একটা ঘটনা বলি।
একটা যুবতী মেয়েকে জ্বীনে ধরছে। মেয়েটাকে জ্বীনে ধরায় সেই মেয়েটা অদ্ভুত রকম কাজ করছে, মেয়েটার মা বাবা মেয়েটাকে ঘরে আঁটকে রাখলে তাঁকে নাকি খুঁজে পাওয়া যায়না। মানে ভিতর থেকে দরজা দেয়া থাকে কিন্তু মেয়েটা গায়েব হয়ে যায়।
সুধু এরকম ঘটনাই ঘটেনা৷ মেয়েটা নরমাল মানুষের খাবার খায়না। মেয়েটা কাঁচা মাছ মাংস অথবা পঁচা কোন খাবার খায়।
মেয়েটার এমন কান্ডে গ্রামের অনেকেই দেখতে আসে।
এদিকে মেয়েটার মা বাবা কবিরাজ নিয়ে আসলেও কোন লাভ হয়না তাঁতে।
কোন উপায় না পেয়ে মেয়েটার বাবা অন্য একজন কবিরাজকে নিয়ে আসছে জ্বীন ছাড়াতে আমি ও আমার বন্ধু সেই জ্বীন ছাড়ানো দেখতেই এত রাতে আসছি।
আমি ও আমার বন্ধু দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের মতো গ্রামের আরো অনেকে আসছে মেয়েটার জ্বীন ছাড়ানো দেখতে।
আমরা চুপ করে দাঁড়িয়ে এদিকে কবিরাজ আসলেন এসে মেয়েটার মা বাবাকে বললেন। মেয়েটাকে আমার সামনে নিয়ে আসেন।
কবিরাজের কথায় মেয়েটাকে সামনে নিয়ে আসায় কবিরাজ মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বললেন।
-কে তুই। তুই এই মেয়েটাকে কেনো ধরলি। কেনইবা মেয়েটাকে দিয়ে অদ্ভুত কান্ড করাচ্ছিস।
কবিরাজের কথায় মেয়েটার ভিতরে থাকা জ্বীনটা চুপ করে রইলেন। এদিকে তখন কবিরাজ বললেন, বল কথা বল চুপ কেনো। কথা বলবি নাকি অন্য ব্যাবস্হা করবো।
কিন্তু এবারো মেয়েটার ভিতরে থাকা জ্বীনটা কিছু না বলে চুপ করে রইলেন।
এটা দেখে কবিরাজ, পানিতে ফু দিয়ে মেয়েটার শরীলে ছিটিয়ে দিলেন। কিন্তু এতেও কোন লাভ হলোনা।
শেষমেশ কোন উপায় না পেয়ে কবিরাজ একটা বোতল বের করলেন আর বললেন, কথা বল নইলে তোলে বোতল বন্ধি করবো।
কবিরাজের এরকম কথায় সেই মেয়েটা কবিরাজকে একটা থা*প্পড় দিয়ে বললো। আমাকে কথা বলাতে পারিস আর তুই নাকি আমাকে বন্ধি করবি। চলে যা এখান থেকে নইলে তোকে এখানেই মে*রে ফেলবো।
মেয়েটার ভিতরে থাকা সেই জ্বীনটার কথায় কবিরাজ বুঝতে পারলেন ওনার দ্বারা এটা সম্ভব না। তাই কবিরাজ মেয়েটার বাবাকে বললেন আমি এই জ্বীনটার সাথে পারবোনা, আপনারা পাশের গ্রামের সালাম কবিরাজকে নিয়ে আসতে পারেন।
কথাটা বলে চলে গেলেন। সেই কবিরাজ। এদিকে তখনি মেয়েটার বাবা বললেন। এখন সালাম কবিরাজকে কোথায় পাবো। তখন একজন বললেন, পাশের গ্রামে ওনার বাড়ি ওখানে গেলেই পাবেন।
ওনার কথায় আমি বলে উঠলাম। এখন গিয়ে লাভ হবেনা সালাম দাদুকে পাবেন না কারন সালাম দাদু শহরে গেছেন একটা কাজে। দাদু পড়শুদিন আসে।
আমার কথায় মেয়েটার বাবা বললেন। তুমি কিভাবে জানলে তোমার বাড়ি কি ওনার ওখানে।
ওনার কথার জবাবে আমি বললাম। হ্যাঁ। সালাম দাদু ও আমার বাড়ি পাশের গ্রামে। সালাম দাদু আমার গ্রামবাসী দাদু ওনার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো, ওনি কোথাও জ্বীন পরী ছাড়াতে গেলে আমি ওনার সাথে যাই। আমি দাদুর বিষয়ে সব জানি। দাদু শহরে গেছে পড়শুদিন আসবে। আপনার আর কষ্ট করে ওনার কাছে যেতে হবেনা, দাদু শহর থেকে ফিরলে আমি ওনাকে বলে এখানে নিয়ে আসবো। আপাতত আপনি আপনার মেয়েকে মসজিদের ঈমামের কাছ থেকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে আগলে রাখুন। কালকের দিনটা কোনভাবে কেটে গেলে পড়শুদিন দাদু আসবে এখানে।
এই বলে আমি ও আমার বন্ধু সেখান থেকে চলে গেলাম আমাদের গ্রামে। আমরা গ্রামে যাওয়ায় আমার বন্ধু বললেন। নিশাদ আমার বাড়ি তো এসে গেছে আমি বাড়িতে যাই, তুই কি একাই বাড়িতে যেতে পারবি।
ওর কথায় আমি বললাম হ্যাঁ হ্যাঁ যেতে পারবো সমস্যা নেই তুই বাড়িতে যা।
কথাটা বলে আমি বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম। রাত তখন সাড়ে বারোটা। আমি হাঁটছি, হঠাৎ আমার সামনে সাদা কাপড় পড়া একজন মহিলা এসে দাঁড়ালেন, ওনার মুখটা দেখা যাচ্ছেনা কারণ মুখের সামনে চুল।
আমি ওনাকে দেখে কিছুক্ষন চুপ থেকে বললাম।
-এইযে ভূতের রানী, আপনাকে আর ঢং করতে হবেনা।আমি এগুলাতে ভয় পাইনা। কি ভাবছেন আপনাকে চিন্তে পারবোনা। আপনি হলেন আয়শা পরী আমার কলিজা আমার পরী বউ। 😁
আমার কথায় আয়শা মুখ থেকে চুলগুলো সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো।
সালাম দাদুর সাথে থাকতে থাকতে এখন ভয় টয় সব চলে গেছে নাকি। তুমি আমাকে চিনলা কিভাবে।
আয়শা পরীর কথায় ওকে বললাম৷ তোমার হাতের আঙুল ও পায়ের আঙুল দেখে চিনতে পারছি, মুখ দেখিনি তাঁতে কি হইছে।
আমার কথায় আয়শা আমার পাশে হাঁটতে হাঁটতে বললো। তাই না আমার স্বামীটা আমাকে এত চেনে। তা স্বামী আপনি এত রাতে কোথায় গিয়েছিলেন৷ জ্বীনে ধরা মানুষকে কি আগে কখনও দেখেননি৷
-দেখেছি তবুও বন্ধু জোড়াজুড়ি করলো। ওর জোড়াজুড়িতে গেলাম দেখতে। কিন্তু কবিরাজ তো সেই জ্বীনটাকে ছাড়াতেই পারলোনা।
আমার কথায় আয়শা বললেন৷ পারবে কিভাবে, ওটা তো বামন জ্বীন। বামন জ্বীনেরা অনেক শক্তিশালী হয়।
বামন জ্বীন, এটা আবার কেমন।
তখন আয়শা বললো বামন বুঝনা৷ মানুষদের মধ্যে ছোট আকারের যে মানুষ থাকে তাঁকে তোমরা বামন বা বোন মানুষ বলোনা ওরকম খাটো আকৃতির জ্বীন আছে তাদেরকে বামন জ্বীন বলা হয়।
ওহহ তাই। আচ্ছা তাই৷ আমিতো আগে জানতাম না।
আমার কথায় আয়শা বললেন, সালাম দাদুকে জিজ্ঞেস করিও, সালাম দাদু তো পুরুনো কবিরাজ ওনার জানা নিশ্চয়ই বামন জ্বীনের কোন ঘটনা আছে। এবার চলো বাড়িতে চলো মা বাবা তোমার কথা জিজ্ঞেস করছিলো আমি বলছি বাহিরে গেছে আসতেছে।
আয়শার কথায় আমি কোন কথা না বাড়িয়ে চলে গেলাম বাড়িতে।
আপনারা যাঁরা আমার লেখা গল্প আগে থেকে পড়েন তাঁরা আয়শা পরীর বিষয়ে জানেন৷ আর যাঁরা নতুন পড়ছেন তাঁরা আয়শা পরীর বিষয়ে জাবেন না তাই আপনাদের বলি, আমি নিশাদ, আয়শা পরী গল্পের মধ্যে আমার বউ৷ আয়শা পরী আমার বউ আর সালাম দাদু আমার গ্রামবাসী দাদু৷ আয়শা পরীর হাতে একটা চুরি আছে যেটার শক্তি অনেক। আয়শা পরীর সেই চুরিটার জন্য কোন জ্বীন পরী আয়শার সাথে শক্তিতে পারেনা...see moer
আপনারা গল্পটা পড়তে থাকেন আস্তে আস্তে সব বুঝতে পারবেন। Next

0 Comments