#লেখক__মোঃ__নিশাদ 


 পরীর সাথে সংসার গল্পর প্রথম পর্ব যাঁরা পড়েননি পড়ে নিন ৷ 


  আয়শার কথায় আমি কোন কথা না বাড়িতে চলে গেলাম বাড়িতে। 


 বাড়িতে গিয়ে হাতমুখ ধুঁয়ে ঘরে গেলাম। ঘরে যাবার পর আয়শাকে বললাম। 

-আয়শা মা বাবা কি ঘুমিয়েছে। 


আমার কথার জবাবে আয়শা বললেন। হ্যাঁ মা বাবা খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছে, তোমার জন্য খাবার এনে রাখছি খাবার খেয়ে নাও। 


ওর কথায় আমি খাবার খেতে লাগলাম আর আয়শাকেও খাওয়াই দিতে লাগলাম। 


খাবার খাওয়ার সময় আয়শা বললো। সালাম দাদু শহরে গিয়েছেন কেনো। কোন দরকারি কাজে নাকি কবিরাজি করতে। 


আয়শার কথায় ওকে বললাম। দাদুর কেমন বোনের বাসায় নাকি সমস্যা। রাত হলে নাকি ঐ বাসার ছাঁদে কেউ হাঁটাচলা করে, তাই দাদুকে ডেকে নিয়ে গেছে। দাদু কাল বাদ পড়শু চলে আসবে আমাকে ওরকমভাবে বলে গেছে। 


আমার কথায় আয়শা বললেন। জানো নিশাদ আমার একটা কথা বার বার মনে পড়ে। সালাম দাদু না থাকলে হয়তো তোমার আমার পরিচয় হতোনা, একে অপরকে ভালোবাসতাম না আর বিয়েও করতাম না। সালাম দাদু আসলেই অনেক ভালো মানুষ। আমি যখন প্রথম সালাম দাদুর বিষয়ে খোঁজ নেই তখনি বুঝতে পারি ওনি ভালো মানুষ, ওনি মানুষের উপকার করে। ওনি যদি ভালো মানুষ না হতেন তাহলে শুরুতেই ওনাকে মে*রে ফেলতাম। ওনি ভালো বলে ওনাকে কিছু করিনি আর ওনার মাধ্যমে তোমার সাথে পরিচয় ভালোলাগা আর শেষমেশ বিয়ে। 

আয়শার কথায় ওকে বললাম, ঠিক বলছো। আমিও সালাম দাদুর সাথে অনেক ঘুরেছি ওনি আমার আপন দাদু না হয়েও আমাকে আপন নাতির মতো আদর করে ভালোবাসে।


দাদুর বিষয়ে কথা বলতে বলতে খাবার শেষ করলাম। 

খাওয়া শেষে কিছুক্ষন গল্প করে ঘুমিয়ে গেলাম সে রাতের মতো। 


পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুঁয়ে ঘরে বসায় মা বললো। 

-আমার ছেলেটা কি সব কাজ কর্ম বাদদিয়ে কবিরাজি শুরু করলো নাকি। আমি বলি কি সালাম চাচার মতো তুই ও কবিরাজ হয়ে যা। তাহলে তোর মানুষের জ্বীন ছাড়ানো দেখাও হবে জ্বীন ছাড়াও হবে। 


মায়ের কথায় আয়শা হাঁসতে লাগলেন। এদিকে তখন আমি মা কে বললাম, মা হ্যাঁ হ্যাঁ হবো একদিন দেখে নিও। 


-হ্যাঁ সেই দিনের অপেক্ষা করতে করতে না জানি মা*রা যাই। এসব কবিরাজি টবিরাজি করতে পারবিনা ওগুলা কঠিন কাজ, এরথেকে নিজের বাবার দোকানটা সামলা এটাই ভালো হবে। তোর বাবার জন্য কি মায়া হয়না। 


-মায়া তো হয়, কিন্তু আমিতো এখনো ছোট আরেকটু বড় হই তারপর। 


আমার কথায় মা মুসকি হেঁসে বললো তুই ছোট। পঁচিশ বছর বয়স তোর তুই ছোট। তুই যদি ছোট হোস তাহলে তোর থেকে কম বয়সি ছেলেরা কি কচি খোকা। 


মায়ের কথায় হাঁসতে হাঁসতে বললাম। হুম ওরকমি, এখন খাবার দাও খিদে লাগছে। 


আমার কথায় মা খাবার দিলেন আর সবাই মিলে একসাথে খাবার খেলাম। খাবার শেষে ঘরে চলে গেলাম।।


আমি গতরাতে সেই জ্বীনে ধরা মেয়েটার বাবাকে বলছিলাম সালাম দাদু বাড়িতে আসলে ওনাদের ওখানে নিয়ে যাবো। 


সেই অপেক্ষায় ছিলাম আমি, আমার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরেরদিন সালাম দাদু বাড়িতে আসলেন। 

সালাম দাদু বাড়িতে আসায় আমি ওনার সাথে দেখা করতে সালাম দাদুর বাড়িতে গেলাম। 


ওনার বাড়িতে গিয়ে দাদিকে বললাম। 

-আরে দাদি, কবিরাজ সাহেব কোথায়। শহরে গিয়ে আবার কোন ম্যাডামকে বিয়ে করে নিয়ে আসছে নাকি। 


আমার কথায় সালাম হাঁসতে হাঁসতে ঘরে থেকে বেড়িয়ে আসলেন। দাদু বাহিরে এসে বললেন। এই বুড়ো বয়সে কে বিয়ে করবে আমাকে। আমার কি আর সেই বয়স আছে। কেমন আছিস তুই তোর পরী বউয়ের কি খবর।  


আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি দাদু, আয়শা ও ভালো আছে। তুমি কেমন আছো, শহর কেমন দেখলে। 


আমার কথার জবাবে দাদু বললেন, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। শহর ভালোই দেখলাম। 


দাদুর কথায় ওনাকে বললাম। দাদু তোমার একটা কাজ আছে। তোমাকে এক জায়গায় যেতে হবে। 

আমার কথায় দাদু জিজ্ঞেস করায় আমি সেই মেয়েটার বিষয়ে সব খুলে বললাম। 


সব শুনে দাদু বললেন। তুই যেহেতু ঐ মেয়েটার বাবাকে কথা দিয়ে আসছিস আমাকে নিয়ে জাবি তাহলে তো যেতেই হবে। তুই একটা কাজ করিস ৷ আজকে বিকালের দিকে আমার এখানে আছিস দুজনে একসাথে জাবো। আমি বরং এখন একটু ঘুমিয়ে নেই বুঝতেই পারছিস শহর থেকে সকালেই আসলাম। 


দাদুর আমি রাজি হয়ে চলে গেলাম বাড়িতে। 

বাড়িতে যাবার পর, দাদুর কথামতো সেদিন বিকালে আসলাম দাদুর কাছে। 


আমি বিকালে দাদু কাছে আসায় দাদু বললেন চল আমাকে নিয়ে চল পাশের গ্রামে ঐ লোকটার বাড়িতে। 


দাদুর কথামতো দুজনে রওনা করলাম পাশের গ্রামে সেই লোকটার বাড়ির দিকে।


বেশ কিছুক্ষন হাঁটার পর সন্ধার দিকে সেই বাড়িতে পৌঁছে গেলাম। 

আমরা সেখানে যাওয়ায় সেই মেয়েটার বাবা আমার দিকে তাকাতেই আমি বললাম ইনি সালাম কবিরাজ, আপনাকে বলছিনা ওনি শহর থেকে আসলে ওনাকে নিয়ে আসবো, আমার কথামতো ওনাকে নিয়ে আসলাম। 


 আমার কথায় ওনি দাদুকে সালাম দিয়ে বললেন। আসুন কবিরাজ সাহেব ঘরে আসেন। 


তখন সালাম দাদু বললেন। মাগরিবের আজান দিছে, আমাকে একটা ঘর দিন আমি নামাযটা পড়ে নেই। 

দাদুর কথায় ওনাকে একটা ঘর দেয়ায় সালাম দাদু নামায পড়ে নিলেন। 


নামাজ শেষে দাদু বললেন। আপনার মেয়েটা কই যে মেয়েটাকে জ্বীনে ধরছে। 

দাদুর কথায় সেই মেয়েটার বাবা মেয়েটাকে দাদুর সামনে নিয়ে আসলেন। 


মেয়েটা সামনে আসায় আমরা দেখলাম ওর দুই হাত ও দুই পা ছিকল দিয়ে বেঁধে রাখছে, মেয়েটার অবস্থা ও খুব খারাপ দেখে পাগ*লীর মতো লাগছে৷ 


এমন অবস্থা দেখে সালাম দাদু বললেন৷ মেয়েটার ছিঁকল খুলে দিন। 

দাদুর কথামতো মেয়েটার বাবা তাই করলেন। মেয়েটার শরীল থেকে সকল বাঁধন খুলে দিলেন। 


তখন দাদু বললেন৷ ওকে আমার সামনে বসিয়ে দিয়ে সবাই একটু দূরে চলে যান৷ 

দাদুর কথায় মেয়েটা বসিয়ে দূরে চলে যাওয়ায়। দাদু দোয়া পড়ে মেয়েটার শরীলে ফু দিলেন, দাদু ফু দেয়ায় সেই মেয়েটা বড় বড় চোখ করে দাদুর দিকে তাকাতে দাদু বললেন। 


 _এই কে তুই। বল তারা তাঁরি আসল পরিচয় দে। 

দাদুর কথায় মেয়েটার শরীল থেকে জ্বীনটা মোটা গলায় বলে উঠলেন৷ সালাম, আমি তোর বিষয়ে জানি, তুই আমার সাথে যুদ্ধে পারবি এটাও জানি, কিন্তু তুই জানিসনা আমার বিষয়ে। তুই এটাও জানিসনা আমার সৈন্য সংখ্যা কতো। 


ওর কথায় সালাম দাদু বললেন৷ তোর সৈন্য সংখ্যা কতো এটা জেনে তো আমার লাভ নেই৷ আমি তোকে যেটা জিজ্ঞেস করছি সেটার উওর দে। তুই কে এই মেয়েটাকে কেনো ধরছিস৷ 



দাদুর কথার জবাবে জ্বীনটা বললেন৷ আমি বামন সর্দার। আমি একদিন এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন এই মেয়েটা চুল ছেড়ে দিয়ে আমার ছাঁয়াতে পা দিয়ে চলে গিয়েছিলো তাই আমি ওকে ধরছি, এখন আমি ওকে নিয়ে যাবো৷ 


 ওর কথায় দাদু বললেন। তুইতো জ্বীন, তুই থাকিস অদৃশ্যভাবে, এখন এই মেয়েটা কিভাবে জানবে তুই এই পথ দিয়ে যাচ্ছিলি। মেয়েটা না জেনে তোর ছায়াতে পা দিয়ে, তাই ওর কোন ক্ষতি না করে এখান থেকে চলে যা। 


 -দাদুর কথায় জ্বীনটা বললেন, না আমি জাবোনা। আমাদের একটা নিয়ম আছে কোন মানুষকে ধরলে, এগারো দিন না যাওয়া পর্যন্ত তাঁকে একবারে নিয়ে যেতে পারিনা৷ এগারো দিনের আগে এমনিতে ক্ষতি করতে পারি, মা*রতেও পারি কিন্তু ওকে আমাদের রাজ্যে নিয়ে যেতে হলে এগারোদিন লাগবে৷ ভাগ্য ভালো এখন এগারোদিন হয়নি নইলে ওকে একবারে নিয়ে যেতাম৷ 


 একবারে কেনো, এক সেকেন্ডের জন্য তুই ওকে নিতে পারবিনা৷ তুই এখনি মেয়েটাকে ছাড়বি আর ভুলেও ওর দিকে নজর দিবিনা। 


কথাটা বলে দাদু পানিতে দোয়া পড়ে ফু দিয়ে মেয়েটার শরীলে ছিঁটিয়ে দিয়ে বললেন৷ বল জাবি কিনা৷ না কথাটা মুখ দিয়ে বের করবিনা হ্যাঁ ছাড়া। 


দাদুর কথায় সেই বামন জ্বীনটা বলেন৷ সালাম তুই জানিস তুই কাকে নিয়ে খেলছিস। আমার চুল পরিমান ক্ষতি হলে তোর পিছনে লাগবে হাজার হাজার জ্বীন। নিজের ও নিজের পরিবারের ভালো চাস তো এখান থেকে চলে যা নইলে ভয়ানকভাবে মৃ*ত্যু হবে তোর। 


ওই জ্বীনটার কথায় সালাম দাদু আর কোন কথা না বলে মেয়েটার বাবাকে বললেন৷ একটা কাঁচের বোতল দিন তো৷ 

দাদুর কথায় মেয়েটার বাবা একটা কাঁচের বোতল দেয়ায় দাদু মেয়েটার শরীলে থাকা সেই জ্বীনটাকে বোতল বন্ধি করে ফেললেন। 

দাদু জ্বীনটাকে বন্ধি করার সময় জ্বীনটা দাদুকে অনেক ভয় দেখায়, শেষমেশ উপায় না পেয়ে দাদুর কাছে ক্ষমা চায় তবুও আর কোন লাভ হয়না, দাদু ওকে বোতল বন্ধি করে। 



জ্বীনটাকে বোতল বন্ধি করার পর সালাম দাদু মেয়েটার বাবাকে বলেন। আল্লাহর রহমতে এখন থেকে আপনার মেয়ে সুস্থ হয়ে যাবে। এখন থেকে আপনার মেয়ের কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন। 


এই বলে সালাম দাদু ও আমি বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম। 

বাড়ির দিকে যাবার সময় একটা নদীতে জ্বীনটাকে বন্ধি করা বোতলটা নদীতে ফেলে দিলেন। 


বোতলটা ফেলে দিয়ে আমরা বাড়ির দিকে যেতে লাগলাম৷ তখন আমি দাদুকে বললাম দাদু, জ্বীনটাকে বন্ধি করে বোতলটা ফেলে দিলা এতে কোন সমস্যা হবেনা৷ 


তখন দাদু বললেন সব জ্বীনেরা এরকম হুমকি দেয়৷ ওসব নিয়ে ভাবিসনা। 


তখন আমি দাদুকে বললাম। আচ্ছা দাদু এই বামন জ্বীনেরা নাকি অনেক শক্তিশালী হয়। তোমার জানা কি বামন জ্বীনের কোন ঘটনা নেই। থাকলে আমাকে বলতো শুনতে ইচ্ছে করছে। 


আমার কথা সালাম দাদু্ বললেন হ্যাঁ আছে। কিন্তু ঘটনাটা বড়, এখন তো রাত হইছে তুই কাল সকালে আমার বাড়িতে আছিস আমি তোকে সেই গল্পটা বলবো। 


দাদুর কথায় রাজি হয়ে সে রাতের মতো বাড়িতে চলে গেলাম। 


তারপর ______

Next_____